মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ পেন্টাগনের শীর্ষ সামরিক নেতৃত্বের প্রায় ২০ শতাংশ পদ ছাঁটাইয়ের পরিকল্পনা করছেন। এই সিদ্ধান্তের ফলে প্রত্যাশিত ছাঁটাইয়ের সংখ্যা দ্বিগুণ হতে পারে বলে মঙ্গলবার দেশটির বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে। বুধবার ভার্জিনিয়ার মেরিন কোর বেস কোয়ান্টিকোতে আয়োজিত ‘স্টেট অব দ্য ফোর্স’ শীর্ষক ভাষণে তিনি এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিতে পারেন বলে মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের শুরুতে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই সাবেক ফক্স নিউজ ব্যক্তিত্ব হেগসেথ সামরিক নেতৃত্বে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। এর আগে বরখাস্ত ও পদাবনতির মাধ্যমে সামরিক বাহিনীর উচ্চপর্যায়ে বড় ধরনের রদবদল করেছেন তিনি, যেখানে নারী ও সংখ্যালঘু কর্মকর্তারা প্রায়ই সমালোচনার মুখে পড়েছেন। ইরানকে কেন্দ্র করে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ শুরুর প্রেক্ষাপটে তিনি এপ্রিলে সেনাবাহিনীর চিফ অব স্টাফ জেনারেল র্যান্ডি জর্জকে বরখাস্ত করেছিলেন। এছাড়া যুদ্ধ শুরুর কয়েক দিন আগে জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল চার্লস ব্রাউন জুনিয়র এবং নৌবাহিনীর অ্যাডমিরাল লিসা ফ্রানচেত্তিকেও অব্যাহতি দেওয়া হয়। এ ছাড়া অবসর ও পদত্যাগের মাধ্যমে শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তারাও দায়িত্ব ছাড়ছেন।
উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বিদায়ের তালিকায় যোগ হয়েছেন সেনাবাহিনীর সেক্রেটারি ড্যান ড্রিসকলও, যিনি হেগসেথের সঙ্গে মতপার্থক্যের জেরে চলতি মাসের শুরুর দিকে পদত্যাগ করেন। এদিকে, ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের সপ্তম মাসে এসে সামরিক ঘাঁটিতে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আগের পূর্বাভাসের চেয়ে বেশি বলে পেন্টাগনের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। যুদ্ধের মধ্যে সামরিক নেতৃত্বে এত বড় ধরনের কাটছাঁট দৈনন্দিন কার্যক্রমে প্রভাব ফেলবে কি না, তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। তবে এই ছাঁটাই প্রক্রিয়াটি ঠিক কীভাবে কার্যকর করা হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত স্পষ্ট নয় এবং এএফপির মন্তব্যের অনুরোধে পেন্টাগন কোনো সাড়া দেয়নি। হেগসেথের এই ঘোষণার সম্ভাব্য সময় এমন এক সময়ে এসেছে, যখন ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ সপ্তম মাসে প্রবেশ করছে। সম্প্রতি পেন্টাগনের এক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে আগের ঘোষণার চেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং আগের স্বীকারোক্তির তুলনায় বেশি অস্ত্র হারিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।