পণ্যের প্রচার বৃদ্ধির জন্য পণ্য প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানগুলো নানা রকম অফার নিয়ে বাজারে আসে। একটি কিনলে একটি ফ্রি বা দুইটি কিনলে একটি ফ্রি। কখনো চায়ের সাথে চিনি ফ্রি। কফির সাথে কফি ম্যাট ফ্রি তো নুডুলসের সাথে মশলা ফ্রি। তবে এবার কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে গরু কিনলে ছাগল উপহার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন বাগেরহাট জেলার মোরেলগঞ্জ উপজেলার খামারি তাজুল ইসলাম।
তাজুল ইসলাম তার খামারে লালন-পালন করা ‘কালু’ ও ‘ধলু’ নামের বিশাল আকৃতির দুটি ষাঁড়ের ক্রেতাদের জন্য এই উপহার ঘোষণা করেছেন। তিনি এই গরু দুটির জন্য ২৫ হাজার টাকা মূল্যের দুটি ছাগল উপহার দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।
আসন্ন পবিত্র ঈদুল আযহাকে সামনে রেখে বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে আলোচনায় এসেছে বিশাল আকৃতির দুটি ষাঁড় ‘কালু’ ও ‘ধলু’। জেলার মোরেলগঞ্জ উপজেলার ১৬ নম্বর খাওলিয়া ইউনিয়নের পশ্চিম খাওলিয়া গ্রামের তাজু ডেইরী ফার্মে লালন-পালন করা হয়েছে ব্যতিক্রমধর্মী এই দুটি গরু।
খামারের মালিক তাজুল ইসলাম দাবি করেছেন, প্রায় ৪০ মণ ওজনের ‘কালু’ বাগেরহাট জেলার সবচেয়ে বড় গরু হতে পারে। ফ্রিজিয়ান জাতের কালো-সাদা রঙের এই ষাঁড়টির দৈর্ঘ্য প্রায় ৭ ফুট। গরুটির দাম হাঁকা হয়েছে ১৫ লাখ টাকা। একই খামারের আরেকটি ষাঁড় ‘ধলু’র ওজন প্রায় ২৫ মণ। যার মূল্য চাওয়া হচ্ছে ১০ লাখ টাকা।
খামারি তাজুল ইসলাম বাসসকে বলেন, যে ব্যক্তি গরু দুটি কিনবেন তাকে প্রায় ৫০ হাজার টাকা মূল্যের দুটি ছাগল উপহার হিসেবে দেওয়া হবে।
তিনি বলেন, এবারই প্রথম এত বড় আকৃতির ষাঁড় পালন করেছি। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ব্যবসায়ী ও দর্শনার্থীরা গরু দুটি দেখতে আসছেন। অনেকেই ছবি ও ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার করছেন।
তিনি জানান, সম্পূর্ণ দেশীয় পদ্ধতিতে গরু দুটি লালন-পালন করা হয়েছে। খাবার হিসেবে কাঁচা ঘাস, কুড়া ও ভুসি দেওয়া হয়। কোনো ধরনের হাইব্রিড বা ক্ষতিকর খাদ্য ব্যবহার করা হয়নি।
তাজুল ইসলাম বলেন , প্রতিদিন ভোরে গরুর খামার পরিষ্কার করা হয়। নিয়মিত গোসল ও পরিচর্যার মাধ্যমে প্রায় ২৮ থেকে ২৯ মাস ধরে ষাঁড়গুলোকে বড় করেছি। আমাদের মূল পেশা দুগ্ধ খামার হলেও প্রতিবছর কোরবানির ঈদ উপলক্ষে কিছু ষাঁড় পালন করা হয়।
স্থানীয়দের মতে, বিশাল আকৃতির ‘কালু’ ও ‘ধলু’ এবার মোরেলগঞ্জের কোরবানির পশুর হাটে বিশেষ আকর্ষণ হয়ে উঠেছে।