ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) প্রথম কোয়ালিফায়ারে গুজরাট টাইটান্সকে পাত্তাই দেয়নি রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু। গুজরাটকে ৯২ রানের বিশাল ব্যবধানে হারিয়ে সবার আগে ফাইনালে চলে গেছে আরসিবি। গুজরাটও বাদ পড়েনি। এলিমিনেটরে জয়ী দলের বিপক্ষে দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারে খেলবে তারা, জয়ী দল যোগ দেবে আরসিবির সাথে ফাইনালে।
ধর্মশালায় টসে জিতে আগে আরসিবিকে ব্যাটিংয়ে পাঠায় গুজরাট। আগে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা অত ভালো হয়নি বেঙ্গালুরুর। ভেঙ্কাটেশ আইয়ার এবং বিরাট কোহলির ওপেনিং জুটিতে রান এসেছে ২১। ৭ বলে ১৯ রান করে সাজঘরে ফিরে যান ভেঙ্কাটেশ। এরপর কোহলির সাথে যোগ দেন দেবদূত পাড়িক্কাল। চালিয়ে খেলেছেন দুজনই। লুটেছেন পাওয়ারপ্লের ফায়দা। ৬ ওভারে ১ উইকেট হারিয়ে ৭৬ রান তোলে আরসিবি।
দারুণ খেলতে থাকা কোহলি এবং পাড়িক্কাল থেমেছেন একই ওভারে। দলের ৯৩ রানের মাথাতে ২৫ বলে ৪৩ রান কজরে বিদায় নেন বিরাট কোহলি। এক বল পরেই ১৯ বলে ৩০ রান করে থেমেছেন পাড়িক্কাল। দুজনকেই ফিরিয়েছেন জেসন হোল্ডার।
এরপর ক্রিজে জুটি বাঁধেন অধিনায়ক রজত পাতিদার এবং ক্রুনাল পান্ডিয়া। ঠাণ্ডা মাথায় পরিস্থিতি সামাল দিয়েছেন দুজন। ব্যাটও চালিয়েছেন সমান তালে। গুজরাটের বোলারদের তুলোধুনো করে রান তুলেছেন পাতিদার এবং ক্রুনাল। ফিফটি ছুঁয়ে ফেলেন পাতিদার। ছুটে চলেছেন ফিফটির পরেও।
ক্রুনালও ছিলেন দারুণ ছন্দে। দলের ১৮৯ রানের মাথাতে থামার আগে ২৮ বলে ৪৩ রানের ইনিংস খেলেছেন তিনি। আরেক প্রান্তে তাণ্ডব চালিয়ে গেছেন পাতিদারে। ধুমধাড়াক্কা ব্যাটিংয়ে ফিফটির পর সেঞ্চুরির দিকে ছুটেছেন তিনি। শেষ দিকে ৫ বলে ১৫ রান করে টিকে ছিলেন টিম ডেভিড। দলের রান পার করেছে আড়াইশ। তবে সেঞ্চুরিটা ছোঁয়া হয়নি পাতিদারের। ৩৩ বলে ৯৩ রানের ইনিংস খেলে শেষ পর্যন্ত টিকে ছিলেন রজত পতিদার। নির্ধারিত ২০ ওভারের খেলা শেষে ৫ উইকেট হারিয়ে ২৫৪ রানের সংগ্রহ দাঁড় করায় আরসিবি।
গুজরাটের হয়ে ২টি করে উইকেট নেন কাগিসো রাবাদা এবং জেসন হোল্ডার। ১ উইকেট নেন প্রসিধ কৃষ্ণা। জবাব দিতে নেমে সুবিধা করতে পারেনি গুজরাট। দলের ১৭ রানের মাথাতে ভেঙেছে সাই সুদর্শন এবং শুবমান গিলের ওপেনিং জুটি। সুদর্শন ৯ বলে ১৪ রান করেছেন। পরের ওভারে থেমেছেন অধিনায়ক গিল। ৭ বলে ২ রান করে বিদায় নেন তিনি।
এরপর তিনে নেমে বেধড়ক পিটুনি শুরু করেন জস বাটলার। চালিয়েছেন ধুমধাড়াক্কা ব্যাটিং। পাওয়ারপ্লে শেষ হওয়ার আগেই ফিরেছেন তিনি। ১১ বলে ২৯ রানের ক্যামিও খেলে দলের ৫১ রানের মাথাতে থেমেছেন বাটলার। পাওয়ারপ্লে শেষ হওয়ার আগে আরও ২ উইকেট হারিয়েছে গুজরাট। বিদায় নেন নিশাত সিঁধু এবং জেসন হোল্ডার। ৬ ওভারে ১ উইকেট হারিয়ে ৫১ রান তোলে গুজরাট টাইটান্স।
বাটলারের বিদায়ের পর শুরু হওয়া ধস আর থামেনি। পাওয়ারপ্লে শেষে টপাটপ উইকেট হারিয়েছে গুজরাট। ব্যাটাররা যোগ দেন আসা-যাওয়ার মিছিলে। কেউই সেভাবে প্রতিরোধ গড়তে পারেননি। ৭৮ রানের মধ্যেই ৭ উইকেট হারিয়ে ম্যাচ থেকে প্রায় ছিটকেই যায় গুজরাট। বাকি ছিল কেবল আনুষ্ঠানিকতা।
শেষ দিকে কিছুটা লড়াই চালিয়েছেন রাহুল তেভাটিয়া। তাতে ১০০ রান পার করেছে গুজরাট। ধীরে ধীরে রানের গতি বাড়িয়েছেন তেভাটিয়া। ধুমধাড়াক্কা ব্যাটিংয়ে ছুঁয়ে ফেলেন ফিফটিও। শেষ দিকে তেভাটিয়ার ব্যাটে ভর করেই এগিয়েছে গুজরাটের ইনিংস। ৪৩ বলে ৬৮ রানের ইনিংস খেলা তেভাটিয়া থামেন দলের ১৫৬ রানের মাথাতে। তাকে ফেরান ভুবনেশ্বর কুমার। ১৬২ রানের মাথাতে মোহাম্মদ সিরাজকে ফিরিয়ে গুজরাটের কফিনে শেষ পেরেক ঠুকে দেন ক্রুনাল পান্ডিয়া। ৯২ রানের বড় জয় তুলে ফাইনাল নিশ্চিত করে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন আরসিবি।
আরসিবির হয়ে তিন উইকেট নেন জ্যাকব ডাফি। ২টি করে উইকেট তোলেন রাসিখ সালাম, ক্রুনাল পান্ডিয়া এবং ভুবনেশ্বর কুমার। ১টি উইকেট নিয়েছেন জশ হ্যাজলউড।