1. admin@ajkerbasundhara.com : admin :
শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬, ০১:২৩ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
নানা গুণের কারিপাতা ২৮ ডলার ব্যয়ে হয়ে গেলেন এনভিডিয়ার প্রধানের মতো কাপ্তাই হ্রদে লঞ্চের ধাক্কায় ডুবল নৌযান, অল্পের জন্য ১২ যাত্রীর প্রাণরক্ষা সন্তান অপহরণের অভিযোগে দুবাইয়ের শাসকের ভাতিজার স্ত্রী পুলিশি হেফাজতে দৌলতদিয়া ঘাটে আবারও বাস পড়ল নদীতে, চালক ও তাঁর সহকারীকে উদ্ধার ঢাকার আকাশে এই মেঘ এই রোদ, বৃষ্টি হবে কি ভগ্নিপতির চিকিৎসার জন্য যান ভারতে, দিল্লির হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ গেল কুমিল্লার নুরুলের সমুদ্রপৃষ্ঠ এক মিটার উঁচু হলেই বহু জেলা তলাবে; তার পরও বসে থাকবে বাংলাদেশ! ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পিকআপের ধাক্কায় মা-ছেলেসহ নিহত ৩ মমতাকে বিধানসভায় নিতে প্রস্তাব হুমায়ুন কবীরের

সমুদ্রপৃষ্ঠ এক মিটার উঁচু হলেই বহু জেলা তলাবে; তার পরও বসে থাকবে বাংলাদেশ!

স্টাফ রিপোর্টার
  • প্রকাশ : শুক্রবার, ৫ জুন, ২০২৬

একটি সংখ্যা দিয়ে শুরু করা যাক। ৪৩২।

এটি কোনো পরীক্ষার নম্বর নয়, কোনো স্মরণীয় সালও নয়। এটি ২০২৬ সালের মে মাসে বায়ুমণ্ডলে কার্বন ডাই-অক্সাইডের আনুমানিক ঘনত্ব ‘পিপিএম’ বা ‘পার্টস পার মিলিয়ন’।

শিল্পবিপ্লবের আগে এটি ছিল ২৮০ সংখ্যার কাছাকাছি। অর্থাৎ আড়াই শতাব্দীতে আমরা পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলকে এমনভাবে পাল্টে দিয়েছি, যা লক্ষ বছরের ভূতাত্ত্বিক ইতিহাসে আগে কখনো ঘটেনি।

বিশ্ব পরিবেশ দিবস ২০২৬–এর প্রতিপাদ্য ‘রেস্টর দ্য আর্থ, সিকিউর দ্য ফিউচার’; অর্থাৎ পৃথিবীকে পুনরুদ্ধার করো, ভবিষ্যৎকে সুরক্ষিত করো। শব্দগুলো সুন্দর; কিন্তু ‘পুনরুদ্ধার’ মানে স্বীকার করে নেওয়া যে আমরা ইতিমধ্যে অনেকটা হারিয়ে ফেলেছি।

এই স্বীকারোক্তিটুকু হজম করা কঠিন; কিন্তু এখান থেকেই শুরু করতে হবে।

বিশ্ব পরিবেশ দিবস একটি ‘স্মরণিকা’ নয়, এটি একটি সতর্কবার্তা। পৃথিবী পুনরুদ্ধার তখনই সম্ভব, যখন আমরা স্বীকার করব যে ক্ষতি কতটা গভীর হয়ে গেছে এবং তারপর প্রতিটি নীতির পেছনে সত্যিকারের রাজনৈতিক সদিচ্ছা এবং প্রতিটি পরিকল্পনার পেছনে সত্যিকারের জবাবদিহি নিশ্চিত করব।

দক্ষিণ এশিয়া: সবচেয়ে বেশি ভোগান্তি, সবচেয়ে কম দায়

জলবায়ু পরিবর্তনের এক নিষ্ঠুর অসাম্য হলো যারা সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করেছে, তারা সবচেয়ে কম কষ্ট পাচ্ছে; আর যারা ঐতিহাসিকভাবে অতি সামান্য কার্বন নিঃসরণ করেছে, তারাই আজ সবচেয়ে বেশি বিপদে।

দক্ষিণ এশিয়া এই অসাম্যের সবচেয়ে বড় শিকার। ভারত, পাকিস্তান, বাংলাদেশ, নেপাল, শ্রীলঙ্কা—এই অঞ্চলের দেশগুলো বৈশ্বিক মোট কার্বন নিঃসরণের মাত্র ৪ থেকে ৫ শতাংশের জন্য দায়ী; কিন্তু জলবায়ু ঝুঁকি সূচকে এই দেশগুলো বারবার শীর্ষে উঠে আসছে।

২০২৫ সালে পাকিস্তানের বেলুচিস্তান ও সিন্ধুতে তাপমাত্রা ৫২ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়েছে। ভারতের উত্তর প্রদেশ ও বিহারে তাপপ্রবাহে কৃষকের মৃত্যুর খবর এখন আর ‘বিরল ঘটনা’ নয়, এটি এক ভয়াবহ নতুন স্বাভাবিকতা। নেপালের হিমালয়ের হিমবাহ এত দ্রুত গলছে যে বিজ্ঞানীরা সতর্ক করছেন—আগামী ৫০ বছরে এই অঞ্চলের নদীগুলো প্রথমে ভয়াবহ বন্যায়, পরে দীর্ঘমেয়াদি খরায় বিপর্যস্ত হবে।

বাংলাদেশের অবস্থান এই ভূগোলে সবচেয়ে সংকটজনক। মাত্র ১ লাখ ৪৭ হাজার ৫৭০ বর্গকিলোমিটারের এই দেশে প্রায় ১৮ কোটি মানুষের বাস। এই ঘনবসতিপূর্ণ জনপদে পরিবেশ বিপর্যয়ের মূল্য বহু গুণ বেড়ে যায়। কারণ, অসংখ্য মানুষের জীবন ও জীবিকা একসঙ্গে বিপন্ন হয়।

সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা মাত্র এক মিটার বাড়লে বাংলাদেশের প্রায় ১৭ শতাংশ ভূমি তলিয়ে যেতে পারে। উপকূলের কয়েক কোটি মানুষ তখন কোথায় যাবেন—এই প্রশ্ন ২০০৯ সালে কোপেনহেগেনের কপ-১৫–এর আগে থেকেই জোরালোভাবে উচ্চারিত হচ্ছে। তবে কাঙ্ক্ষিত উত্তর এখনো মেলেনি; বরং নানা অজুহাতে জলবায়ু ক্ষতিপূরণের বিপুল অর্থ যথাযথ গন্তব্যে পৌঁছায়নি।

গ্রিনহাউস গ্যাস: সংখ্যার আড়ালে মানবিক বিপর্যয়

গ্রিনহাউস গ্যাস নিয়ে কথা বলতে গেলে আমরা প্রায়ই সংখ্যায় ডুবে যাই; কিন্তু প্রতিটি সংখ্যার পেছনে লুকিয়ে আছে কোনো না কোনো মানবিক গল্প।

কার্বন ডাই-অক্সাইড ছাড়াও মিথেন ও নাইট্রাস অক্সাইড জলবায়ু পরিবর্তনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। মিথেনের তাপ ধারণক্ষমতা কার্বন ডাই-অক্সাইডের চেয়ে ২০ বছরে প্রায় ৮০ গুণ বেশি।

গবেষণায় দেখা গেছে, বৈশ্বিক কৃষি-মিথেনের প্রায় ৩০ শতাংশ আসে ধানখেত থেকে। বাংলাদেশে মোট গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণের একটি বড় অংশ আসে কৃষি খাত থেকে। এর মধ্যে ধানখেত, গবাদিপশুর মলমূত্র ও জলাভূমি উল্লেখযোগ্য। ২০২১ সালে ব্লুমবার্গ বাংলাদেশকে বিশ্বের ১২তম বৃহত্তম মিথেন নির্গমনকারী দেশ হিসেবে চিহ্নিত করে। তবে বাংলাদেশের গবেষকেরা সেই হিসাবকে ‘অতিরঞ্জিত’ বলে চ্যালেঞ্জ করেন। কারণ, ভারত ও চীনের মতো প্রধান নিঃসরণকারী দেশের তুলনায় বাংলাদেশের ধান উৎপাদন তুলনামূলকভাবে অনেক কম।

মিথেন নির্গমন প্রশমন করতে গিয়ে কৃষি পরিত্যাগ করা সম্ভব নয়। তবে টেকসই চাষাবাদপদ্ধতি, উন্নত পানি ব্যবস্থাপনা ও পরিবেশবান্ধব জাত উন্নয়নের মাধ্যমে এই নিঃসরণ কমিয়ে আনা সম্ভব।

সামগ্রিক গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণের বৈশ্বিক চিত্র আরও স্পষ্ট। ২০২৩ সালে একা চীন বিশ্বের মোট গ্রিনহাউস গ্যাসের ৩০ শতাংশ নিঃসরণ করেছে। যার পরিমাণ ১৬ হাজার মেগা টন কার্বন ডাই-অক্সাইডের সমতুল্য, যা মাথাপিছু প্রায় ১১ টন। যুক্তরাষ্ট্র ৫ হাজার ৯৭০ মেগা টন নিঃসরণ করে দ্বিতীয় স্থানে; তবে মাথাপিছু হিসাবে তারাই সবচেয়ে এগিয়ে, ১৮ টন। তৃতীয় ভারতের মোট নিঃসরণ ৪ হাজার ৪১০ মেগা টন। যদিও মাথাপিছু হিসাবে তা তুলনামূলক কম। এই তিন দেশ মিলিয়েই বৈশ্বিক নিঃসরণের প্রায় অর্ধেক।

অন্যদিকে বাংলাদেশের মোট নিঃসরণ মাত্র ২৪৫ মেগা টন, বৈশ্বিক মোটের মাত্র শূন্য দশমিক ৪৩ শতাংশ। মাথাপিছু মাত্র ১ দশমিক ৪ টন, যা বিশ্ব গড়ের চেয়ে বহু গুণ কম। অথচ জলবায়ু পরিবর্তনের সবচেয়ে ভয়াবহ পরিণতি বহন করছে এই দেশ।

তবু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে সরে আসার প্রতিশ্রুতি বারবার রাজনৈতিক কারণে পিছিয়েছে। ২০২৩ সালের কপ-২৮–এ গৃহীত জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে রূপান্তরের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে গতি এখনো প্রত্যাশার অনেক নিচে।

বাংলাদেশ: নীতির কাগজ ও বাস্তবতার ফাঁক

বাংলাদেশ জলবায়ু অভিযোজনে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেয়েছে অনেক ক্ষেত্রে। ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় আগাম সতর্কব্যবস্থা এবং আশ্রয়কেন্দ্র নেটওয়ার্ক বিশ্বের জন্য একটি উদাহরণ। ডেলটা প্ল্যান ২১০০ নিঃসন্দেহে উচ্চাকাঙ্ক্ষী ও দূরদর্শী একটি পরিকল্পন। সোলার হোম সিস্টেমে বাংলাদেশ উন্নয়নশীল বিশ্বে অন্যতম সাফল্যের উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত।

কিন্তু নীতির কাগজ থেকে বাস্তবতার মাটিতে আসতে গেলে বহু প্রতিবন্ধকতা পেরোতে হয়। ঢাকার বায়ুদূষণ আজ জনস্বাস্থ্যের নীরব সংকট। পরিবেশ লঙ্ঘনের বিপরীতে আইনি পদক্ষেপ যা নেওয়া হয়, তা লঙ্ঘনের তুলনায় অত্যন্ত নগণ্য।

আইনি নিষেধাজ্ঞার মুখেও নদী দখল চলছে প্রকাশ্যে। বুড়িগঙ্গা বাঁচানোর দাবি বছরের পর বছর ধরে উচ্চারিত হচ্ছে; কিন্তু পূর্ণ সাফল্য এখনো অধরা। রাজধানীর চারপাশের জলাভূমি প্রতিবছর ভরাট হচ্ছে। এর ফলে জলাবদ্ধতা, তাপমাত্রা বৃদ্ধি এবং জীববৈচিত্র্য ধ্বংস একসঙ্গে ঘটছে।

সবচেয়ে উদ্বেগজনক হলো উন্নয়ন ও পরিবেশের মধ্যে কাল্পনিক দ্বন্দ্বের আখ্যান। ‘উন্নয়নের জন্য পরিবেশকে কিছুটা ছাড় দিতে হবে’—এই যুক্তি কেবল ভুল নয়, বিপজ্জনকও। কারণ, পরিবেশ ধ্বংস করে যে উন্নয়ন হয়, তার দাম পরবর্তী প্রজন্মকে বহু গুণে মেটাতে হয়। স্বাস্থ্য ব্যয়, দুর্যোগ পুনর্বাসন, অবকাঠামো মেরামত ও কৃষি ক্ষতির হিসাব যোগ করলে দেখা যাবে—পরিবেশ রক্ষা আসলে অর্থনৈতিকভাবেও সবচেয়ে যুক্তিসংগত সিদ্ধান্ত।

অভিযোজন: শুধু টিকে থাকা নয়, এগিয়ে যাওয়া

অভিযোজন মানে শুধু বন্যা থেকে বাঁচা নয়। অভিযোজন মানে এমন একটি সমাজ ও অর্থনীতি গড়ে তোলা, যা জলবায়ু পরিবর্তনের চাপের মধ্যেও মানুষের জীবনমান উন্নত করতে পারে। এই লক্ষ্যে বাংলাদেশকে অন্তত তিনটি ক্ষেত্রে জরুরি পদক্ষেপ নিতে হবে।

প্রথমত, কৃষিতে অভিযোজন এখন আর বিকল্প নয়, বাধ্যবাধকতা। লবণসহিষ্ণু ধানের জাত, খরা-প্রতিরোধী সবজি, ভাসমান বাগান—এগুলো কৃষিবিজ্ঞানের সাফল্য; কিন্তু এগুলো এখনো ব্যাপকভাবে কৃষকের কাছে পৌঁছায়নি। গবেষণায় বিনিয়োগ ও কৃষি সম্প্রসারণের সক্ষমতা না বাড়ালে এই ব্যবধান ঘোচানো যাবে না।

দ্বিতীয়ত, নগর–পরিকল্পনায় জলবায়ু ঝুঁকিকে কেন্দ্রে রাখতে হবে। ঢাকায় তাপমাত্রা বৃদ্ধি ও জলাবদ্ধতা, চট্টগ্রামে পাহাড়ধস ও জোয়ার-জলোচ্ছ্বাস, খুলনায় লবণাক্ততা ও ঘূর্ণিঝড়—প্রতিটি শহরের জন্য আলাদা ও বাস্তবায়নযোগ্য পরিকল্পনা দরকার।

তৃতীয়ত, আর্থিক খাতেও সবুজ রূপান্তরের সুযোগ আছে। গ্রিন ব্যাংকিং বাংলাদেশে শুরু হয়েছে, কিন্তু মূলধারায় আসেনি। জলবায়ু ঝুঁকি অর্থায়ন, কৃষি বিমার সম্প্রসারণ এবং ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জন্য সবুজ অর্থায়নে বাংলাদেশ ব্যাংক ও নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো আরও সক্রিয় ভূমিকা নিতে পারে।

বৈশ্বিক জলবায়ু ন্যায়বিচার: যে কথা বলা দরকার

বাংলাদেশের মতো দেশগুলোকে কেবল ‘ভুক্তভোগী’ হিসেবে না দেখে বৈশ্বিক জলবায়ু আলোচনায় শক্তিশালী কণ্ঠস্বর হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে হবে।

কপ-২৭–এ প্রতিষ্ঠিত ‘লস অ্যান্ড ড্যামেজ ফান্ড’ এখনো পর্যাপ্তভাবে অর্থায়িত নয়। উন্নত দেশগুলো বছরের পর বছর ১০০ বিলিয়ন ডলারের জলবায়ু অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়ে আসছে; কিন্তু বাস্তবে যা এসেছে, তার বড় অংশ অনুদান নয়, ঋণ। এটি ন্যায়বিচারের প্রশ্ন। ঐতিহাসিক দায়ের স্বীকৃতি ছাড়া জলবায়ু আলোচনা অসম্পূর্ণ থাকবে।

একই সঙ্গে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোকে আঞ্চলিক সহযোগিতা বাড়াতে হবে। ভারত, বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত নদীগুলোর ব্যবস্থাপনা, হিমালয়ের হিমবাহ পর্যবেক্ষণ এবং দুর্যোগ তথ্য আদান-প্রদানে কার্যকর আঞ্চলিক সহযোগিতা এখন আর বিকল্প নয়।

তরুণ প্রজন্ম: পরিবর্তনের শেষ ভরসা

সুইডেনের গ্রেটা থুনবার্গ থেকে বাংলাদেশের হাওরপাড়ের কিশোরী—যে জলের মধ্যে স্কুলে যায়, সবাই একটা ভাষায়ই কথা বলছে, ‘আমাদের ভবিষ্যৎ আমাদের ফিরিয়ে দাও। বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্ম প্রযুক্তিসচেতন, সামাজিক মাধ্যমে সংগঠিত এবং পরিবর্তনমুখী। জলবায়ু আন্দোলনকে যদি তাদের হাতে যথাযথভাবে তুলে দেওয়া যায়, তাহলে এটি কেবল পরিবেশ রক্ষার আন্দোলন থাকবে না, হয়ে উঠবে একটি সামাজিক রূপান্তরের শক্তি।

সে ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাইমেট ল্যাব, স্কুলে পরিবেশ ক্লাব, সবুজ উদ্যোক্তাদের জন্য সরকারি ও বেসরকারি অর্থায়ন—এগুলো খরচ নয়, বিনিয়োগ; কিন্তু দুঃখের বিষয়, তরুণদের একটি বড় অংশ এখনো বেড়ে উঠছে জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতি ও তা মোকাবিলার কৌশলগত জ্ঞান ছাড়াই।

শেষ কথা: পৃথিবী ক্ষমা করে না

পৃথিবীর প্রকৃতি নিজের ভাষায় কথা বলছে—বন্যায়, তাপপ্রবাহে, ঘূর্ণিঝড়ে, হিমবাহের গলনে। আমরা না শুনলে প্রকৃতি তার বার্তা আরও জোরে পাঠাবে, এটিই ঘটে আসছে।

বিশ্ব পরিবেশ দিবস একটি ‘স্মরণিকা’ নয়, এটি একটি সতর্কবার্তা। পৃথিবী পুনরুদ্ধার তখনই সম্ভব, যখন আমরা স্বীকার করব যে ক্ষতি কতটা গভীর হয়ে গেছে এবং তারপর প্রতিটি নীতির পেছনে সত্যিকারের রাজনৈতিক সদিচ্ছা এবং প্রতিটি পরিকল্পনার পেছনে সত্যিকারের জবাবদিহি নিশ্চিত করব।

বাংলাদেশ যদি জলবায়ু সংকটে পিছিয়ে পড়ে, সেটি কেবল পরিবেশের পরাজয় নয়, এটি হবে একটি জাতির স্বপ্নের পরাজয়; আর যদি আমরা টিকে থেকে এগিয়ে যেতে পারি, সেটি হবে মানবসভ্যতার অন্যতম বড় সাফল্যের গল্প। সেই গল্পটি লেখার সময় এখনই।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
২০২৬ © আজকের বসুন্ধরা কর্তৃক সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
Theme Customization By NewsSun