২০২২ বিশ্বকাপে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পর বিশ্ব ফুটবলের পাদপ্রদীপের আলোয় আসেন হুলিয়ান আলভারেজ। চার গোল করে আর্জেন্টিনার সাফল্যের অন্যতম কারিগর হয়ে ওঠেন তিনি। সেই সাফল্যের রেশ ধরে ম্যানচেস্টার সিটিতে যোগ দিলেও আর্লিং হলান্ডের ছায়ায় ঢাকা পড়ে যান তিনি। নিয়মিত খেলার সুযোগ এবং বড় অঙ্কের বেতনের আশায় ৯৫ মিলিয়ন ইউরোর বিনিময়ে তিনি পাড়ি জমান আতলেতিকো মাদ্রিদে। তবে মাদ্রিদের ক্লাবটিতে যোগ দেওয়ার দুই মাস পেরিয়ে গেলেও পরিস্থিতি এখন জটিল আকার ধারণ করেছে।
আতলেতিকো মাদ্রিদে যোগ দেওয়ার পর আলভারেজ নিজের জাত চিনিয়েছেন। অভিষেক মৌসুমে ৫৭ ম্যাচে ২৯ গোল এবং পরের মৌসুমে ৪৯ ম্যাচে ২০ গোল করে ডিয়েগো সিমিওনের আস্থার প্রতিদান দিয়েছেন তিনি। তবে মৌসুমের শেষ দিকে বার্সেলোনার আগ্রহের কথা জানাজানি হওয়ার পর থেকেই সম্পর্কের অবনতি ঘটে। রবার্ট লেভানডফস্কির উত্তরসূরি হিসেবে বার্সা আলভারেজকে পেতে চাইলেও আতলেতিকো তাদের ৫০০ মিলিয়ন ইউরোর রিলিজ ক্লজ পরিশোধের শর্তে অটল থাকে।
আতলেতিকো মাদ্রিদ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, বার্সেলোনার কাছে খেলোয়াড় বিক্রির কোনো ইচ্ছা তাদের নেই। ক্লাবটির প্রত্যাশা ছিল, অ্যান্থনি গর্ডন বা রদেইর মতো খেলোয়াড়দের জন্য বড় অঙ্কের অর্থ খরচ করা সম্ভব হলে বার্সেলোনা আলভারেজের পুরো রিলিজ ক্লজ পরিশোধ করবে। এর মধ্যে রিয়াল মাদ্রিদ ১৫০ মিলিয়ন ইউরোর প্রস্তাব দিলেও আতলেতিকো তা প্রত্যাখ্যান করে। বার্সেলোনা তাদের ১০০ মিলিয়ন ইউরোর বিড থেকে এক চুলও নড়তে রাজি নয়, যার ফলে আলভারেজ এখন এক প্রকার ‘বন্দি’ অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন।
পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত যে, আলভারেজ শুরুতে অনুশীলনে অংশ নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন। তবে শেষ পর্যন্ত তাকে আতলেতিকোতেই ফিরতে হয়েছে। কোচ ডিয়েগো সিমিওনেও তাকে নিয়ে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন; প্রথম ম্যাচে দলে না রাখলেও দ্বিতীয় ম্যাচে শেষ ২৫ মিনিটের জন্য মাঠে নামান। মাঠে নামার পর দর্শকদের দুয়োর মুখে পড়তে হয় এই তারকাকে। অন্যদিকে, বার্সেলোনার খেলোয়াড়রা তাকে দলে টানার আগ্রহ প্রকাশ করতে গিয়ে স্পাইডার-ম্যানের লোগো ব্যবহার করছেন, যা আলভারেজের প্রিয় সুপারহিরো চরিত্র হওয়ার কারণে বেশ আলোচিত হচ্ছে।
আতলেতিকো মাদ্রিদ আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছে, খেলোয়াড়কে ভুক্তভোগী হিসেবে উপস্থাপন করা হলেও আসলে তারাই এই পরিস্থিতিতে ক্ষতিগ্রস্ত। অতীতে রাদামেল ফ্যালকাও, সার্জিও আগুয়েরো বা দিয়েগো ফোরলানের মতো খেলোয়াড়দের ক্ষেত্রেও তারা প্রতিদ্বন্দ্বী ক্লাবের কাছে বিক্রি না করার নীতি অনুসরণ করেছে। এমনকি আঁতোয়ান গ্রিজমানকে নিতেও বার্সেলোনাকে পুরো রিলিজ ক্লজ দিতে হয়েছিল।
বর্তমানে আলভারেজের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটছে না। আতলেতিকো জানিয়েছে, বার্সা বা রিয়াল ছাড়া অন্য কোনো ক্লাব যদি ১৫০ মিলিয়ন ইউরোর প্রস্তাব দেয়, তবেই তারা বিষয়টি বিবেচনা করবে। এই দৌড়ে আর্সেনালের নাম শোনা গেলেও দলবদলের শেষ সময়ে আলভারেজের গন্তব্য কোথায় হয়, তা দেখার অপেক্ষায় ফুটবল বিশ্ব। বিশ্বকাপের সময় অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ শেষে আলভারেজের সেই মন্তব্য—‘স্বপ্ন পূরণের পথে যাতে কেউ বাধা না হয়ে ওঠে’—আজ যেন তার নিজের ক্যারিয়ারের কঠিন বাস্তবতায় পরিণত হয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: বিশ্বকাপে তখনো গ্রুপ পর্বের ম্যাচ চলছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এমনিতেই টুর্নামেন্টে নিজেকে হারিয়ে খুঁজছেন, সেই সময়েই করে বসলেন এক বেফাঁস মন্তব্য। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: সরাসরি নিজের ক্লাবকে জানিয়ে দিলেন, ‘সবার জন্য যেটা ভালো হয়, সেটাই করা হোক। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এমনভাবে নিজ ক্লাবকে ইঙ্গিত দেওয়ার ঘটনা, তা-ও বিশ্বকাপের মঞ্চে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: সেই ঘটনার দুই মাস পেরিয়ে গেছে, হুলিয়ান আলভারেজ এখনো স্বপ্নের ক্লাবে যেতে পারেননি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: আলভারেজ কেন ম্যানচেস্টার সিটি ছাড়লেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: হুলিয়ান আলভারেজ লাইমলাইটে এসেছিলেন ২০২২ বিশ্বকাপ দিয়ে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: সবাই ধরেই নিয়েছিলেন ভবিষ্যৎ আর্জেন্টিনার চাবিকাঠি উঠতে যাচ্ছে তাঁর হাতে।