নরসিংদীর মাধবদীতে তীব্র লোডশেডিংয়ের প্রতিবাদে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১-এর জোনাল অফিস ঘেরাও করেছেন স্থানীয়রা। রোববার সকাল ১০টা থেকে বেলা ১২টা পর্যন্ত প্রায় দেড় ঘণ্টা ধরে চলা এই কর্মসূচিতে টেক্সটাইল কারখানার কয়েক হাজার শ্রমিক ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক অবরোধ করেন। এই অবরোধের ফলে মাধবদী বাসস্ট্যান্ডের উভয় পাশে প্রায় তিন কিলোমিটার দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়, যার ফলে সাধারণ যাত্রী ও পরিবহন চালকরা চরম ভোগান্তির শিকার হন।
আন্দোলনরত শ্রমিকদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে স্থানীয় শিল্পকারখানার উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। রতন মিয়া নামের একজন টেক্সটাইল শ্রমিক জানান, বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে ঠিকমতো কাপড় উৎপাদন করা সম্ভব হচ্ছে না, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে তাদের বেতনের ওপর। নিত্যপণ্যের ঊর্ধ্বগতির বাজারে আয় কমে যাওয়ায় পরিবার নিয়ে টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। শ্রমিকরা নরসিংদী ও মাধবদী শিল্প এলাকায় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের দাবি জানান।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে মাধবদী থানা পুলিশ, জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। নরসিংদী সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মেফতাহুল হাসান এবং মাধবদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ কামাল হোসেন আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনা করেন। ওসি মোহাম্মদ কামাল হোসেন জানান, স্থানীয় কয়েকটি কারখানার শ্রমিকরা একত্রিত হয়ে বিদ্যুৎ অফিসের সামনে অবস্থান নিয়েছিলেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে আগামী সাত দিনের মধ্যে বিদ্যুৎ সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার আশ্বাস দেওয়া হলে শ্রমিকরা অবরোধ তুলে নেন এবং মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
বিদ্যুৎ পরিস্থিতির বিষয়ে নরসিংদী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১-এর উপমহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) মহসিন কবির বলেন, লোডশেডিং একটি জাতীয় সমস্যা এবং এটি ইচ্ছাকৃত নয়। তবে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনার মাধ্যমে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে মাধবদী এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা উন্নত করার সর্বাত্মক চেষ্টা করা হবে বলে তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। বর্তমানে ওই এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।