বলিভিয়ার রাজধানী লা পাজে খাদ্য ও প্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহ পৌঁছাতে শনিবার সড়ক অবরোধ সরাতে অভিযান চালায় বলিভিয়ার পুলিশ। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ ঘটে।
ডানপন্থী প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো পাজের বিরুদ্ধে চলমান বিক্ষোভের মধ্যেই এ সংঘর্ষ ঘটলো।
এ সময় বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের ব্যাপক সংঘর্ষ হয়।
শ্রমিক ইউনিয়ন ও আদিবাসী সম্প্রদায়ের অভিযোগ-অসন্তোষের সমাধানে পদক্ষেপ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেও, পাজের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন অব্যাহত রয়েছে।
বলিভিয়ার এল আল্টো থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।
ব্যবসাবান্ধব রক্ষণশীল নেতা পাজ ছয় মাস আগে ক্ষমতায় আসেন। তখন দেশটি ১৯৮০-এর দশকের পর সবচেয়ে ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছিল।
জ্বালানি ও বৈদেশিক মুদ্রার তীব্র সংকটের পাশাপাশি লাগামহীন মূল্যস্ফীতি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে।
বিক্ষোভকারীরা দেশজুড়ে ৫০টির বেশি স্থানে সড়ক অবরোধ গড়ে তুলেছে। এর মধ্যে লা পাজের আশপাশের এলাকাগুলোও রয়েছে। এতে খাদ্য, জ্বালানি ও ওষুধের সংকট দেখা দিয়েছে।
লা পাজের শিক্ষার্থী মার্কো কুট্টিলা এএফপিকে বলেন, ‘আমরা জানি না আর কতদিন এভাবে টিকে থাকতে পারব, কখনও কখনও পর্যাপ্ত খাবারও থাকে না।’
শনিবার ভোরে বিভিন্ন স্থানে সড়কে ফেলে রাখা ব্যারিকেড ও ধ্বংসাবশেষ সরাতে অভিযান শুরু করে দাঙ্গা পুলিশ। এ সময় বিক্ষোভকারীরা পুলিশকে বাধা দিলে তাদের ছত্রভঙ্গ করতে টিয়ার গ্যাস ছোড়া হয়।
ঘণ্টার পর ঘণ্টা ধরে উভয়পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ চলার পর, কিছু পণ্যবাহী যান চলাচল করতে সক্ষম হয়।
তবে দিনের শেষে কয়েকটি এলাকায় আবারও নিয়ন্ত্রণ নেয় বিক্ষোভকারীরা।
শনিবার আর্জেন্টিনার সম্প্রচারমাধ্যম টিএন-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে পাজ বলেন, বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে সংলাপে পৌঁছাতে তিনি ‘সম্ভাব্য সব ধরণের চেষ্টা’ করবেন।
তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘সব কিছুরই একটি সীমা আছে।’
প্রয়োজনে জরুরি অবস্থা জারির মতো পদক্ষেপ নেওয়ার সম্ভাবনাও তিনি নাকচ করেননি।