যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে চুক্তির গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর ‘অধিকাংশই’ চূড়ান্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। প্রস্তাবিত ওই চুক্তিতে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
ট্রাম্প শনিবার জানান, চুক্তিটি এখনও চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।
খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।
ডোনাল্ড ট্রাম্প তার ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে লেখেন, যুক্তরাষ্ট্র, ইরান ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশের পাশাপাশি তুরস্ক ও মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তানের অংশগ্রহণে একটি সমঝোতার কাঠামো প্রায় চূড়ান্ত হয়েছে।
তিনি লিখেছেন, ‘চুক্তিটি অধিকাংশই আলোচনার মাধ্যমে চূড়ান্ত হয়েছে। তবে এটি এখনও চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।’
ট্রাম্প আরও জানান, প্রস্তাবিত চুক্তিতে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
এ ব্যাপারে তিনি সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, মিশর, জর্ডান ও বাহরাইনসহ কয়েকটি মধ্যপ্রাচ্য দেশের নেতাদের সঙ্গে আলোচনার কথাও উল্লেখ করেন।
তিনি আরও জানান, ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গেও তার আলাদা ফোনালাপ হয়েছে এবং সেটিও ‘খুব ভালোভাবেই’ সম্পন্ন হয়েছে।
ট্রাম্পের এই আশাবাদী বক্তব্য এমন এক সময়ে এসেছে, যখন ইরানি কর্মকর্তারা বলেছেন যে দুই পক্ষের মধ্যে এখনও কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বড় ধরনের মতপার্থক্য রয়ে গেছে।
তাদের মতে, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে বিরোধ প্রাথমিক আলোচনার অংশ হবে না।
তেহরান জানিয়েছে, তারা একটি চুক্তির জন্য ১৪-দফা রূপরেখা চূড়ান্ত করছে।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকাই বলেন, ‘আলোচনায় দুই পক্ষের মধ্যে সম্পর্ক কিছুটা উন্নতির দিকে যাচ্ছে বলে মনে হচ্ছে।’
তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, এর অর্থ এই নয় যে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান গুরুত্বপূর্ণ সব বিষয়ে চূড়ান্ত কোনো সমঝোতায় পৌঁছে যাবে।
তিনি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে বলেন, ‘আমাদের উদ্দেশ্য ছিল প্রথমে একটি সমঝোতা স্মারক (মেমোরেন্ডাম অব আন্ডারস্ট্যান্ডিং) খসড়া করা, যা ১৪টি ধারা সমন্বিত একটি কাঠামোগত সমঝোতা স্মারক।’
বাকাই আরও বলেন, কাঠামোগত চুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার পর, ৩০ থেকে ৬০ দিনের মধ্যে একটি পূর্ণাঙ্গ চুক্তির বিস্তারিত বিষয়গুলো চূড়ান্ত করা সম্ভব হবে আশা করা হচ্ছে।