পবিত্র হজ উপলক্ষে মুসলিম উম্মাহর উদ্দেশে এক বিশেষ বার্তা দিয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ মোজতবা খামেনি। মঙ্গলবার (২৬ মে) ঐতিহাসিক আরাফাতের ময়দানে ইরানি হাজিদের তত্ত্বাবধায়কের মাধ্যমে তার এই বার্তাটি পাঠ করা হয়। বার্তায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা জোর দিয়ে বলেন, এ বছর হজের প্রধান অন্যতম শিক্ষা ‘মুশরিকদের থেকে সম্পর্কচ্ছেদ বা বিমুখতা’ (বারাআত) প্রদর্শনের বিষয়টি মুসলিম বিশ্বের জন্য দ্বিগুণ গুরুত্ব বহন করছে। আমেরিকা ও ইহুদিবাদী (ইসরায়েল) শাসনের বিরুদ্ধে এই সম্পর্কচ্ছেদের গভীরতা ও ব্যাপ্তি এখন শুধু হজের আনুষ্ঠানিক গণ্ডির মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, বরং তা বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে। ইরানের বার্তা সংস্থা ফার্স নিউজ এজেন্সির বরাতে জানা যায়, খামেনি তার বার্তায় ‘আল্লাহু আকবার’ ধ্বনিকে মুসলিম উম্মাহর সবচেয়ে বড় অস্ত্র হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ৪৭ বছর আগে এই অস্ত্রের ওপর ভর করেই ইরান থেকে স্বৈরাচারী পাহলভি শাসন উৎখাত এবং আমেরিকার আধিপত্য ও ইহুদিবাদের প্রভাব নির্মূল করা হয়েছিল। তিনি আরও উল্লেখ করেন, এই ‘আল্লাহু আকবার’-এর শক্তিই আজ লেবানন, ফিলিস্তিন, ইরাক, সিরিয়া, ইয়েমেন ও আফগানিস্তানের মুজাহিদ যুবকদের প্রতিরোধ ফ্রন্টকে এক সুতোয় বেঁধেছে। যার ফলশ্রুতিতে ‘তুফানুল আকসা’র মতো অভিযান পরিচালনা করা এবং ইহুদিবাদী শাসনের ভিত কাঁপিয়ে দেওয়া সম্ভব হয়েছে। মুসলিম দেশগুলোর প্রতি ঐক্য ও সহযোগিতার আহ্বান জানিয়ে ইরানের নেতা বলেন, সময়ের কাঁটা আর পেছনে ফিরবে না। মধ্যপ্রাচ্যের ভূখণ্ড আর মার্কিন সামরিক ঘাঁটির ঢাল হিসেবে ব্যবহৃত হবে না। আমেরিকা এই অঞ্চলে তার নিরাপদ অবস্থান হারাচ্ছে। ইসরায়েল প্রসঙ্গে খামেনি বলেন, ক্যানসারসদৃশ ইহুদিবাদী শাসনটি তার অভিশপ্ত জীবনের শেষ পর্যায়ে পৌঁছে গেছে। মহান শহীদ নেতার দূরদর্শী ঘোষণা অনুযায়ী, ইনশাআল্লাহ আগামী কয়েক বছরের মধ্যে এই শাসনের আর কোনো অস্তিত্ব টিকে থাকবে না। সবশেষে তিনি হজে অংশ নেওয়া সব দেশের হাজিদের ইসলামের বিজয়, ফিলিস্তিন ও মসজিদুল আকসার মুক্তি এবং মুসলিম উম্মাহর ঐক্যের জন্য বিশেষ দোয়া করার অনুরোধ জানান।