গোয়ার মারগাঁওয়ের জওহরলাল নেহরু স্টেডিয়ামে আগামীকাল বাংলাদেশ সময় রাত আটটায় স্বাগতিক ভারতের মুখোমুখি বাংলাদেশ। সেমিফাইনালে অন্যতম ফেবারিট নেপালকে এড়াতে হলে এই ম্যাচে ভারতকে হারানো চাই বাংলাদেশের। ড্র বা হারলে রানার্সআপ হিসেবেই সাফের সেমিতে খেলতে হবে।
কিন্তু বাংলাদেশ চায় গ্রুপসেরা হয়েই সেমিতে যেতে। আজ সকালে জওহরলাল নেহরু স্টেডিয়াম লাগোয়া ডন বক্সো কলেজ মাঠে অনুশীলন শেষে নির্ভরযোগ্য ডিফেন্ডার শিউলি আজিম কথায়ও তার প্রতিধ্বনি, ‘এই ম্যাচটি আমাদের দলের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যদিও বাংলাদেশ ইতিমধ্যে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করেছে, তবু গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হওয়াটাই আমাদের মূল লক্ষ্য। গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হতে পারলে সেমিফাইনালে তুলনামূলক সহজ প্রতিপক্ষ পাওয়া যাবে এবং সেমিফাইনালের মঞ্চে নেপালের মতো শক্ত প্রতিপক্ষকে এড়ানো সম্ভব হবে।’
মালদ্বীপ ম্যাচের আগের দিন বুকে হঠাৎ গ্যাসট্রিকের তীব্র ব্যথার কারণে ওই ম্যাচ খেলতে পারেননি শিউলি। তবে এখন সুস্থবোধ করছেন এবং ভারত ম্যাচ খেলবেন বলে নিজেই জানিয়েছেন।
ভারতের শক্তির জায়গা কোথায় এবং সেটাকে কীভাবে সামলাবে বাংলাদেশ? শিউলির স্পষ্ট কথা, ‘আমরা সবাই জানি ভারত একটি শক্তিশালী দল এবং তাদের আক্রমণভাগ বেশ ভালো। তবে প্রতিটি দলেরই শক্তির পাশাপাশি কিছু না কিছু দুর্বলতাও থাকে। আমাদের দলের ভিডিও অ্যানালিস্ট ভারতের সেই দুর্বল দিকগুলো পুঙ্খানুপুঙ্খ বিশ্লেষণ করছেন এবং আমরা সেই অনুযায়ী তাদের আক্রমণ করার নিখুঁত পরিকল্পনা করছি। পাশাপাশি বাংলাদেশ দল হিসেবে আমাদের নিজেদের রক্ষণভাগের ভুলগুলো কাটিয়ে ওঠার জন্য শতভাগ সতর্ক রয়েছে।’

বাংলাদেশের সাফজয়ী মিডফিল্ডার মনিকা চাকমাফেসবুক
গত ম্যাচে রক্ষণভাগের কিছু ভুল লক্ষ করা গেছে, তা নিয়ে প্রস্তুতি কেমন? এমন প্রশ্নের জবাবে তাঁর কথা, ‘গত ম্যাচগুলোয় রক্ষণভাগে আমাদের কিছু ভুলভ্রান্তি হয়েছে, যা অস্বীকার করার উপায় নেই। তবে ইতিবাচক বিষয় হলো, আমাদের হেড কোচ এই ভুলগুলো নিয়ে আলাদাভাবে অনেক কাজ করছেন। আমরা ডিফেন্ডাররা আশাবাদী যে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচে এই ভুলগুলো পুরোপুরি শুধরে নিয়ে আমরা আরও বেশি আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে মাঠে লড়তে পারব।’
একাদশে নিজের এবং মাঝমাঠের চালিকা শক্তি মনিকা চাকমার ফেরা কতটা প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে শিউলির পরিপক্ব উত্তর, ‘ব্যক্তিগতভাবে আমি মনে করি মাঠে কে খেলছে বা কে খেলছে না, তার চেয়ে দলের গেম প্ল্যান অনুযায়ী নিখুঁতভাবে খেলাটা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তবে হ্যাঁ, মনিকা চাকমা মাঝমাঠে ফিরলে স্বাভাবিকভাবেই দলের শক্তি ও ভারসাম্য অনেক বাড়বে, যা আমাদের জন্য একটি বড় ইতিবাচক দিক। ভারতের রক্ষণভাগ ভেঙে গোল করার মতো সামর্থ্য আমাদের বর্তমান দলের অবশ্যই আছে বলে আমি শতভাগ বিশ্বাস করি।’
ভারতের মতো পরাশক্তির বিপক্ষে খেলার মানসিক চাপ কীভাবে সামলান? শিউলি বলেন, ‘আমাদের দলে এখন অনেক অভিজ্ঞ খেলোয়াড় আছে, যাদের জন্য এ ধরনের বড় ম্যাচের চাপ সামলানো বেশ সহজ। তবে দলে যে নতুন ফুটবলাররা এসেছে, তাদের মনে কিছুটা চাপ কাজ করতে পারে। কিন্তু একজন পেশাদার ফুটবলার হিসেবে আমি মনে করি যে মাঠের সব ম্যাচই সমান গুরুত্বপূর্ণ এবং প্রতি ম্যাচে জেতার সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য নিয়েই আমরা মাঠে নামি।’
আগের সাফের তুলনায় বর্তমান ভারত দলে কী পরিবর্তন দেখছেন? শিউলির কথা, ‘ভারতের বর্তমান স্কোয়াডে আগের অনেক অভিজ্ঞ খেলোয়াড় নেই এবং তাদের বেশ কিছু নতুন মুখ এসেছে। তবে নতুন হলেও তাদের দলটি বেশ গোছানো ফুটবল খেলছে। অন্যদিকে, ভারতের তুলনায় আমাদের বাংলাদেশ দলকেও আমি বর্তমান সময়ে বেশ ভারসাম্যপূর্ণ মনে করি। আমরা আমাদের সেরাটা দিতে প্রস্তুত।’