1. admin@ajkerbasundhara.com : admin :
রবিবার, ৩১ মে ২০২৬, ১২:১৫ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
প্রধানমন্ত্রীর প্রটোকল কর্মীদের সঙ্গে বাগবিতণ্ডা, পদ হারালেন ছাত্রদল নেতা আর্জেন্টিনা শিবিরে বড় ধাক্কা: বিশ্বকাপ শুরুর আগেই ইনজুরিতে তারকা খেলোয়াড় আমার আর শাকিব ভাইয়ের রসায়ন এক্সপ্লোর করার অনেক জায়গা ছিল: সাবিলা আদ্-দ্বীন হাসপাতাল বেকারি থেকে গ্যাস নির্গত হচ্ছে কি না, পরীক্ষা করা হবে তৃণমূলের সম্পাদক অভিষেকের ওপর অতর্কিত হামলা, ডিম-জুতা নিক্ষেপ প্যারিসের নতুন মেয়রের সঙ্গে ড. ইউনূসের সাক্ষাৎ নাফ নদীতে মাছ ধরতে যাওয়া জেলেদের লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণ জামায়াত-এনসিপির টাকা মানেই জান্নাতের টাকা! -রাশেদ খাঁন খুলনায় একটি ঘর থেকে নারী-শিশুসহ ৩ জনের মরদেহ উদ্ধার ভারতে বেড়েছে কুইক কমার্সের ব্যবসা, তবে কি টিকে থাকতে পারবে

৪০ দেশে অনলাইনে বিষ বিক্রি করে আত্মহত্যায় সহায়তা করতেন ‘পয়জন সেলার’

স্টাফ রিপোর্টার
  • প্রকাশ : শনিবার, ৩০ মে, ২০২৬

কানাডায় আত্মহত্যায় সহায়তার উদ্দেশ্যে বিষাক্ত রাসায়নিক অনলাইনে বিক্রির অভিযোগে ১৪টি মামলায় দোষ স্বীকার করেছেন ৬০ বছর বয়সী কেনেথ ল। শুক্রবার অন্টারিওর একটি আদালতে কৌঁসুলিদের সঙ্গে হওয়া সমঝোতার ভিত্তিতে তিনি নিজের অপরাধ স্বীকার করে জবানবন্দি দেন। এই সমঝোতার অংশ হিসেবে তার বিরুদ্ধে আনা আরও গুরুতর হত্যার অভিযোগগুলো প্রত্যাহার করা হয়েছে।

কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, সাবেক শেফ কেনেথ ল অনলাইন আত্মহত্যা-সংক্রান্ত ফোরামে পরিচিত ব্যক্তিদের কাছে প্রায় ১,২০০টি বিষাক্ত রাসায়নিকের প্যাকেট বিক্রি করেন। এসব প্যাকেট বিশ্বের ৪০টি দেশে পাঠানো হয়, যার মধ্যে প্রায় এক-চতুর্থাংশ গন্তব্য ছিল যুক্তরাজ্য। কেনেথ ল যেসব অভিযোগে দোষ স্বীকার করেছেন, সেসব মামলার ভুক্তভোগীরা সবাই কানাডার নাগরিক বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

যুক্তরাজ্যে কেনেথ ল-এর বিরুদ্ধে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় দেশটির ভুক্তভোগীদের পরিবারগুলোর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। তারা প্রশ্ন তুলেছেন, কেন কৌঁসুলিরা কেনেথ ল-এর বিরুদ্ধে ৭৯ জন ব্রিটিশ নাগরিকের মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে আনুষ্ঠানিক মামলা করেননি।

অন্যদিকে যুক্তরাজ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট মৃত্যুগুলোর সঙ্গে কেনেথ ল-এর সরবরাহ করা পণ্যের সম্পর্ক রয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হয়।

এদিকে কানাডায় তাঁর বিরুদ্ধে দায় স্বীকার করা মামলাগুলোর একজন ভুক্তভোগী ছিলেন অ্যাশটিন প্রোসার ব্লেক। ১৯ বছর বয়সী এই তরুণ ২০২৩ সালের মার্চে অন্টারিওতে আত্মহত্যা করেন। অ্যাশটিনের মায়ের নাম কিম প্রোসার। তার বক্তব্য অনুযায়ী, অ্যাশটিন খুবই হাসিখুশি ও কোমল স্বভাবের মানুষ ছিলেন। কোভিড-১৯ মহামারির পর ছেলে অ্যামটিনের মানসিক অবস্থার অবনতি হয়। তিনি টরন্টোর একটি কলেজে এক বছর পড়াশোনা করেছেন। এরপর পড়াশোনা বন্ধ করে দেন এবং বাড়ি ফিরে যান। তিনি মানসিকভাবে অস্থিরতার মধ্যে ছিলেন এবং পরে আত্মহত্যা করেন।

মা কিম প্রোসার বলেন, ‘কাউকে কারাগারে পাঠালেই যে আমার ছেলেকে হারানোর কষ্ট কমে যাবে, তা নয়।’

কেনেথ ল-কে ২০২৩ সালের মে মাসে গ্রেপ্তার করা হয়। ১১টি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা তার বিরুদ্ধে তদন্ত করেছে। এই তদন্তে যুক্তরাজ্য, ইতালি, যুক্তরাষ্ট্রসহ প্রায় এক ডজন দেশের তদন্তকারীরা জড়িত ছিলেন।

কেনেথকে গ্রেপ্তারের এক সপ্তাহ আগে যুক্তরাজ্যের সংবাদমাধ্যম টাইমস এ-সংক্রান্ত একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল। সেখানে অভিযোগ করা হয়, কেনেথ ল তরুণদের কাছে বিষ বিক্রি করছিলেন।

ওই প্রতিবেদনের জন্য এক সাংবাদিক ক্রেতা সেজে কেনেথের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করেছিলেন। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ল ওই সাংবাদিককে তাঁর বিক্রি করা পণ্য কীভাবে ব্যবহার করলে ‘মৃত্যু নিশ্চিত করার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি’-সে সম্পর্কেও পরামর্শ দিয়েছিলেন।

২০২৩ সালে কানাডার গোয়েন্দারা বিবিসিকে বলেন, কেনেথ ল একাধিক ওয়েবসাইট পরিচালনা করতেন। সেখানে আত্মহত্যা করতে ইচ্ছুক ব্যক্তিদের জন্য বিভিন্ন সরঞ্জাম ও রাসায়নিক পদার্থ বিক্রি করা হতো।

কানাডার ফৌজদারি আইন অনুযায়ী, আত্মহত্যায় সহায়তার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হলে সর্বোচ্চ ১৪ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে। এ মামলায় কেনেথ ল-এর সাজা নির্ধারণের শুনানি আগামী ২৩ সেপ্টেম্বর শুরু হবে এবং তা কয়েক দিন ধরে চলবে বলে জানা গেছে।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
২০২৬ © আজকের বসুন্ধরা কর্তৃক সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
Theme Customization By NewsSun