জার্মানির কোচ জুলিয়ান নাগেলসম্যান বলেছেন, বিশ্বকাপে অভিষেক হওয়া কুরাসাওকে গত সপ্তাহে বড় ব্যবধানে হারানো দলটিতে পরিবর্তন আনার কোনো কারণ তিনি দেখছেন না। যে কারনে টরেন্টো স্টেডিয়ামে আইভরি কোস্টের বিপক্ষেও একই একাদশ মাঠে নামানোর সম্ভাবনা রয়েছে।
তবে পশ্চিম আফ্রিকার দল আইভরি কোস্ট কুরাসাওয়ের তুলনায় অনেক কঠিন প্রতিপক্ষ হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবুও নাগেলসম্যান তার দলের প্রস্তুতি নিয়ে আত্মবিশ্বাসী।
তিনি সাংবাদিকদের বলেন, “কোনো স্পষ্ট কারণ নেই যে আমাদের কিছু পরিবর্তন করতে হবে। আমরা রাতটা ভেবে দেখব, আগামীকাল সবাই পুরোপুরি সুস্থ ও ফিট অবস্থায় সবাই থাকলে তারপর সিদ্ধান্ত নেব।”
কুরাসাও ম্যাচে লেরয় সানের পারফরম্যান্স নিয়ে যে সমালোচনা হয়েছে, তারও জোরালো জবাব দেন নাগেলসম্যান। তিনি বলেন,“ওই ম্যাচের পর তার সমালোচনা মোটেও ন্যায্য ছিল না। অনেকে বলে সে যথেষ্ট আগ্রহ দেখায় না, কিন্তু ম্যাচজুড়ে সে অনেক সক্রিয় ছিল।”
২০২৩ সালে জার্মান জাতীয় দলের দায়িত্ব নেওয়া নাগেলসম্যানের লক্ষ্য হলো ২০১৪ সালের ব্রাজিল বিশ্বকাপের পর প্রথমবারের মতো জার্মানিকে বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্ব পার করানো। ২০১৪ বিশ্বকাপে জার্মানী সর্বশেষ শিরোপা জিতেছিল।
তিনি বলেন, আইভরি কোস্টের শারীরিক সক্ষমতা, শক্তিশালী রক্ষণভাগ এবং গতি সামলানোর জন্য তার দলকে প্রস্তুত থাকতে হবে।
নাগেলসম্যান বলেন, “গতি তাদের সবচেয়ে বড় শক্তিগুলোর একটি এবং আমার মতে এটাই তারা সবচেয়ে ভালো করে।”
বিশেষভাবে তিনি ফরাসি বংশোদ্ভূত আইভরিয়ান উইঙ্গার নিকোলাস পেপের কথা উল্লেখ করেন, “শেষ ম্যাচে সে মাঠের সর্বত্র ছিল। আমরা কিছু বিশেষ প্রস্তুতি নিয়েছি যাতে তাদের শক্তি যতটা সম্ভব কমিয়ে আনা যায়। তবে সবসময় সফল হব না, কারণ তারা সত্যিই খুব ভালো দল।”
এই ম্যাচটি জার্মান ডিফেন্ডার জোনাথন টাহ-এর জন্য বিশেষ তাৎপর্য বহন করবে, কারণ তার বাবা আইভরি কোস্টে জন্মগ্রহণ করেছিলেন।
টাহ সাংবাদিকদের বলেন, “এটা সত্যি যে ম্যাচটি আমার জন্য বিশেষ কিছু হতে যাচ্ছে।”
অন্যদিকে আইভরি কোস্টের কোচ এমার্স ফায়ে জানিয়েছেন, তার দল জয়ের লক্ষ্য নিয়েই মাঠে নামবে এবং গ্রুপ ‘ই’-এর শীর্ষস্থান দখল করতে চায়।
ফায়ে বলেন, “এটা শুধু সম্মান রক্ষার ব্যাপার নয়। আমরা কখনোই সেই মানসিকতা নিয়ে খেলি না। আমরা তাদের হারাতে এসেছি।”