1. admin@ajkerbasundhara.com : admin :
বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই ২০২৬, ১২:১০ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
কাশিমপুরে চাঁদার টাকা না দেওয়ায় জমির বাউন্ডারি ভাঙচুর ও লাখ টাকার মালামাল লুট গাজীপুর কাশিমপুরে প্রবাসী নাছিমা আক্তারেকে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি থানায় অভিযোগ শিক্ষক নিয়োগে দুর্নীতির মামলায় গ্রেফতার দেখানো হলো রাশেদ খান মেননকে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা: তেলের দাম বেড়েছে ভারত-ভিত্তিক সংঘবদ্ধ অপরাধচক্রের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অভিযানে গ্রেফতার ২৪  সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী: আপিল বিভাগের রায় কাল চাঁদপুর জেলা যুব মহিলা লীগের সভাপতি ফরিদা ইলিয়াছ গ্রেপ্তার হরমুজে জাহাজে হামলার পর ইরানে মার্কিন হামলা, পাল্টা জবাবের হুঁশিয়ারি তেহরানের টানা বর্ষণে দীঘিনালা-সাজেক-লংগদু সড়ক যোগাযোগ বন্ধ ঝিনাইদহে ৪ হাজার কৃষকের মাঝে বিনা  মূল্যে সার ওবীজ বিতরণ

মধ্যরাত, রাস্তা ফাঁকা তবুও সিগন্যালে দাঁড়িয়ে গাড়ি

স্টাফ রিপোর্টার
  • প্রকাশ : বুধবার, ৮ জুলাই, ২০২৬

রোববার দিবাগত রাত ১২টা ৫৫ মিনিট। রাজধানীর রাস্তাঘাট তখন প্রায় ফাঁকা। পুরানা পল্টন মোড় থেকে মিরপুরে যাওয়ার উদ্দেশ্যে পাঠাও রাইডে ওঠেন মেহিদ হাসান শান্ত। নিরিবিলি সড়ক ধরে বাইকটি এগিয়ে যাচ্ছিল। কিন্তু হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল (সাবেক শেরাটন) মোড়ে পৌঁছাতেই হঠাৎ ব্রেক কষে বাইক থামিয়ে দেন চালক।

শান্ত জাতীয় বার্তা সংস্থা বাসস’কে বলেন, ‘এত রাতে ফাঁকা রাস্তায় হঠাৎ বাইক থেমে যাওয়ায় আমি ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম। হঠাৎ থেমে যাওয়ার কারণ জানতে চাইলে এআই (আর্টিফিশাল ইনটেলিজেন্স) ক্যামেরার দিকে ইশারা করেন চালক। তখন সিগন্যালে লাল বাতি জ্বলছিলো। ক্রস করলেই মামলা হবে। চালকের কথা শুনে সত্যিই অবাক হয়েছি।

বাংলাদেশের সড়কে এআই ক্যামেরা এত দ্রুত শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে ভূমিকা রাখবে, তা ভাবিনি।’

মধ্যরাতের ফাঁকা সড়কের এই দৃশ্য এখন আর ব্যতিক্রম নয়। রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে এআইভিত্তিক ট্রাফিক ক্যামেরা চালুর পর চালকদের মধ্যে ট্রাফিক আইন মেনে চলার প্রবণতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এর প্রতিফলন দেখা যায় দিনের ব্যস্ত সময়েও।

রাজধানীর অন্যতম ব্যস্ত এলাকা কারওয়ান বাজারে সম্প্রতি সকাল সাড়ে ৯টার দিকে লাল বাতি জ্বলে উঠতেই  গণপরিবহন, মোটরসাইকেল ও ব্যক্তিগত গাড়িগুলো স্টপলাইনের কয়েক ফুট আগেই থেমে যায়। সবুজ সংকেত না জ্বলা পর্যন্ত কোনো চালকের তাড়াহুড়ো ছিল না। এ সময় জেব্রা ক্রসিং দিয়ে নির্বিঘ্নে সড়ক পার হন কয়েকজন পথচারী।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আগে একই মোড়ে সিগন্যাল অমান্য করে স্টপলাইন অতিক্রম করা এবং জেব্রা ক্রসিং দখল করার প্রবণতা ছিল নিয়মিত। কিন্তু এআই ক্যামেরা চালুর পর এ ধরনের আইন লঙ্ঘনের ঘটনা কমেছে। 

সবচেয়ে দৃশ্যমান পরিবর্তন এসেছে জেব্রা ক্রসিং ব্যবহারের ক্ষেত্রে। আগে অনেক চালক জেব্রা ক্রসিংয়ের ওপর গাড়ি থামালেও এখন তারা নির্ধারিত লাইনের পেছনে গাড়ি দাঁড় করাচ্ছেন।

কারওয়ান বাজারে রুমন মাহমুদ নামে এক পথচারী বাসস’কে বলেন, ‘আগে অফিস টাইমে সিগন্যাল পড়লেও রাস্তা পার হওয়া ছিল দুষ্কর। জেব্রা ক্রসিং তো দূরের কথা, কোনো ফাঁকা জায়গাই থাকত না। আবার ফুটপাত ছিল বাইকারদের দখলে। এখন এআই ক্যামেরার ভয়ে সবাই আইন মানছে।’

পুলিশ জানায়, দেশে এআইভিত্তিক ট্রাফিক ব্যবস্থার কার্যক্রম শুরু হয়েছে মাত্র ৬০ লাখ টাকা ব্যয়ে। বর্তমানে মোট ব্যয় এক কোটি টাকাও অতিক্রম করেনি। রাজধানীর আব্দুল গণি রোড, মৎস্য ভবন, কাকরাইল মসজিদ, সুগন্ধা, রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনা, পুলিশ ভবন, পুরাতন রমনা থানা, হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল, বাংলা মোটর, সোনারগাঁও ক্রসিং, বিজয় সরণি, জাহাঙ্গীর গেট, মহাখালী বাস টার্মিনাল, শাহবাগ মোড়, সায়েন্স ল্যাব মোড় ও ফার্মগেটসহ মোট ১৯টি পয়েন্টে ১১৭টি এআই ক্যামেরা কার্যক্রম চালু রয়েছে। পর্যায়ক্রমে রাজধানীতে এ সংখ্যা আরও বাড়ানো হবে। তবে অবকাঠামোগত ও বাজেটসংক্রান্ত সীমাবদ্ধতার কারণে পুরো ঢাকা একযোগে এ ব্যবস্থার আওতায় আনা সম্ভব হচ্ছে না।

পুলিশ সূত্র জানায়, ব্যবহৃত প্যান টিল্ট জুম (পিটিজেড) ক্যামেরা দূর থেকে নম্বর প্লেট শনাক্ত করার পাশাপাশি নির্দিষ্ট যানবাহন অনুসরণ এবং প্রয়োজন অনুযায়ী জুম করে ভিডিও ধারণ করতে সক্ষম। এসব ক্যামেরা শুধু সিগন্যাল অমান্য বা স্টপলাইন ভঙ্গ নয়, বরং উল্টো পথে চলাচল, জেব্রা ক্রসিং দখল, হেলমেট ছাড়া মোটরসাইকেল চালানো, সিটবেল্ট ব্যবহার না করা, গাড়ি চালানোর সময় মোবাইল ফোন ব্যবহার, অবৈধ পার্কিং এবং অনুমতি ছাড়া ভিআইপি লাইট ব্যবহারের ঘটনাও শনাক্ত করতে পারে। তবে এআই ক্যামেরার মাধ্যমে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সরাসরি মামলা করা হয় না। প্রথমে ভিডিও ফুটেজ ট্রাফিক সদস্যরা ম্যানুয়ালি যাচাই-বাছাই করেন। নিশ্চিত হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির কাছে চিঠি পাঠানো হয় এবং মোবাইল ফোনে বার্তা দেওয়া হয়। কেউ অন্যায়ভাবে ব্যবস্থা নেওয়ার অভিযোগ করলে তা যাচাইয়ের সুযোগও রাখা হয়েছে। এজন্য ১৫ থেকে ২০ সেকেন্ডের ভিডিও ফুটেজ সংরক্ষণ করা হয়। পুলিশের ভাষ্য, নতুন ব্যবস্থার উদ্দেশ্য কাউকে হয়রানি করা নয়,  বরং নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত এবং কার্যকর ট্রাফিক শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করা।

ট্রাফিক পুলিশ আরও জানায়, এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে এখন পর্যন্ত দেড় হাজারের অধিক মামলা দেওয়া হয়েছে। তবে, এ প্রযুক্তির কিছু সীমাবদ্ধতাও রয়েছে। বৃষ্টি, রাত কিংবা যানজটের সময় নম্বর প্লেট শনাক্তে সমস্যা হয়। এছাড়া রাজধানীর অনেক যানবাহনের নম্বর প্লেট নষ্ট, বিবর্ণ বা অপাঠ্য হওয়ায় শনাক্তকরণে জটিলতা সৃষ্টি হচ্ছে। এ কারণে নম্বর প্লেট ঠিক করার জন্য আগে সময় দেওয়া হলেও এখন আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। সম্প্রতি নম্বর প্লেটের ডিজিট ঢেকে রাখা এক মোটরসাইকেল আরোহীকে শনাক্ত করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তবে, অ্যাম্বুলেন্স ও ফায়ার সার্ভিসের মতো জরুরি সেবার যানবাহনের বিরুদ্ধে এআই ক্যামেরার মাধ্যমে কোন ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

রাজধানীর কয়েকটি এলাকায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, এআই ক্যামেরা চালুর ফলে ট্রাফিক সদস্যদের দায়িত্ব পালনের ধরনেও কিছুটা পরিবর্তন এসেছে। এখন তাদের রাস্তায় দৌড়ে গিয়ে গাড়ি থামাতে বা অপ্রয়োজনে কাগজপত্র পরীক্ষা করতে হচ্ছে না। এতে যেমন দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমেছে, তেমনি সড়কে যান চলাচলের গতি ও শৃংঙ্খলা বজায় রাখা সম্ভব হচ্ছে। তবে এআই প্রযুক্তি দিয়ে নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না পায়ে চালানো রিকশা, অটোরিকশাসহ নম্বরপ্লেটবিহীন যানবাহন।

এ বিষয়ে রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড়ে দায়িত্বপালনকারি  ট্রাফিক পুলিশ আ. শুকুর বাসস’কে বলেন, ‘এখন ট্রাফিক সদস্যদের রাস্তায় দৌড়াদৌড়ি করতে হয় না। দুই হাত তুলে গাড়ি থামাতে হয় না। 

আমাদের ওপর গাড়ি উঠে যাওয়ার ঝুঁকিও কমেছে। তবে, কিছু রিকশা মূল সড়কে নিয়ম ভেঙে চলে আসে। 

এটা যদি ফেরানো যায় তাহলে রাস্তায় পুরোপুরি শৃঙ্খলা ফিরে আসবে।’

এ বিষয়ে ডিএমপি’র অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) মো. আনিছুর রহমান বাসস’কে বলেন, এআই ক্যামেরা চালুর সবচেয়ে বড় অর্জন হলো সড়কে ট্রাফিক শৃঙ্খলার দৃশ্যমান উন্নতি। এখন চালকেরা আগের তুলনায় বেশি সিগন্যাল মানছেন এবং জেব্রা ক্রসিংয়ের আগে গাড়ি থামাচ্ছেন। বর্তমানে রাজধানীতে ৩৭টি পিটিজেড ক্যামেরাসহ মোট ১১৭টি ক্যামেরা দিয়ে নজরদারি চলছে। পর্যায়ক্রমে এ সংখ্যা বাড়িয়ে পুরো রাজধানীকে এ ব্যবস্থার আওতায় আনা হবে।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
২০২৬ © আজকের বসুন্ধরা কর্তৃক সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
Theme Customization By NewsSun