1. admin@ajkerbasundhara.com : admin :
মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:১৪ অপরাহ্ন
শিরোনাম
ঢাকাকেও লোডশেডিংমুক্ত রাখার পরিকল্পনা থেকে সরে আসছে সরকার: প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা শেখ হাসিনাকে ধরে আনতে চাই, মৃত্যুদণ্ড অপেক্ষা করছে: ডা. জাহেদ উর রহমান প্রথমবারের মতো দেশের আটটি বিভাগীয় শহরেই হবে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা সংযুক্ত আরব আমিরাতে বাংলাদেশ ও জিম্বাবুয়েকে নিয়ে আফগানিস্তানের পূর্ণাঙ্গ সিরিজ পাকিস্তান ক্রিকেটের বিশৃঙ্খলা ও আকিব জাভেদের ভূমিকা নিয়ে বিস্ফোরক জেসন গিলেস্পি সৌদি আরবে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় সিলেটের ৪ প্রবাসীর মৃত্যু বোয়িং থেকে ১৪ উড়োজাহাজ কেনায় স্বচ্ছতা নিয়ে আইনি নোটিস ২০৩০ বিশ্বকাপ: নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারে স্পেনের সাথে কাতারের নতুন চুক্তি বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটের জন্য বিগত সরকারের অদূরদর্শিতাকে দায়ী করলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য দিল্লি সফর: গঙ্গার পানিবণ্টন চুক্তির নবায়ন নিয়ে জোর তৎপরতা

বিলুপ্তির পথে সিরাজগঞ্জের কামারখন্দের ঐতিহ্যবাহী শীতলপাটি শিল্প

স্টাফ রিপোর্টার
  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট, ২০২৬

সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলার ঐতিহ্যবাহী শীতলপাটি শিল্প এখন অস্তিত্ব সংকটে। একসময় গ্রামবাংলার প্রতিটি ঘরে শীতলপাটির কদর থাকলেও, বর্তমানে আধুনিকতা ও প্লাস্টিক পণ্যের সহজলভ্যতায় এই শিল্প হারিয়ে যেতে বসেছে। স্থানীয়ভাবে শীতলপাটি তৈরির সঙ্গে যুক্ত মননজয় চন্দ্র জানান, আগে এই পাটির ব্যাপক চাহিদা ছিল এবং পরিবারের নারীরা অবসর সময়ে এটি বুনে বাড়তি আয় করতেন। তবে এখন একটি পাটি তৈরিতে দীর্ঘ সময় ব্যয় হলেও ন্যায্য মূল্য না পাওয়ায় অনেক কারিগরই পেশা পরিবর্তন করছেন।

শীতলপাটি শিল্পের বর্তমান সংকট নিয়ে কারিগর অনিতা রাণী বলেন, কাঁচামালের দাম বৃদ্ধি, শ্রমের তুলনায় পারিশ্রমিক কম পাওয়া এবং বাজারে আধুনিক ম্যাট ও প্লাস্টিকের পণ্যের আধিপত্য এই শিল্পকে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে। নতুন প্রজন্মও এই জটিল ও শ্রমসাধ্য কাজ শিখতে অনাগ্রহী। প্রবীণ বিল্লু চন্দ্রের মতে, শীতলপাটি কেবল একটি সাধারণ ব্যবহার্য পণ্য নয়, বরং এটি গ্রামীণ সংস্কৃতি ও জীবনযাত্রার অবিচ্ছেদ্য অংশ। বিয়ে বা সামাজিক অনুষ্ঠানে এর বিশেষ গুরুত্ব থাকলেও আধুনিক পণ্যের ভিড়ে তা আজ ম্লান হয়ে গেছে।

কামারখন্দ উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা আব্দুর রাজ্জাক জানান, বর্তমানে এই উপজেলায় প্রায় তিনশ পরিবার শীতলপাটি তৈরির সঙ্গে জড়িত এবং তারা দেশের বিভিন্ন স্থানে পণ্য সরবরাহ করেন। এই শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে কারিগরদের জন্য আধুনিক যন্ত্রপাতির ব্যবস্থা, দক্ষতা বৃদ্ধিতে মানসম্মত প্রশিক্ষণ এবং সহজ শর্তে ও স্বল্প সুদে ঋণ সুবিধা প্রদানের ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি পণ্য বাজারজাতকরণ ও প্রচার-প্রচারণার সুব্যবস্থা করাও জরুরি বলে মনে করেন তিনি।

স্থানীয় সচেতন মহল ও কারিগর পূর্ণিমা রাণীর দাবি, সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে যথাযথ উদ্যোগ ও পৃষ্ঠপোষকতা পেলে কামারখন্দের এই প্রাচীন শিল্প নতুন প্রাণ ফিরে পাবে। কারিগরদের প্রশিক্ষণ, কাঁচামালের সহজলভ্যতা নিশ্চিত করা এবং দেশ-বিদেশে বাজার সম্প্রসারণ করা গেলে বহু পরিবারের কর্মসংস্থান রক্ষা করা সম্ভব হবে।

এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জের জেলা প্রশাসক আমিনুল ইসলাম বলেন, জেলার এই প্রাচীন ঐতিহ্য ও কারিগরদের সুরক্ষায় প্রশাসন প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। বিশেষ করে কারিগরদের সহজ শর্তে ঋণ সুবিধা প্রদান এবং তাদের তৈরি পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে বিপণন সহায়তার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেছেন।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
২০২৬ © আজকের বসুন্ধরা কর্তৃক সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
Theme Customization By NewsSun