সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের বদলি প্রক্রিয়ায় নতুন করে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। সিলেট বিভাগীয় প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয় থেকে সম্প্রতি এ সংক্রান্ত একটি নোটিশ জারি করা হয়েছে, যেখানে বদলির জন্য বেশ কিছু কঠোর শর্ত নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, কোনো শিক্ষক চাকরিতে যোগদানের পর দুই বছর পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত বদলির আবেদন করতে পারবেন না। এছাড়া, একবার বদলি হওয়ার পর পরবর্তী তিন বছর পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত তিনি পুনরায় বদলির জন্য বিবেচিত হবেন না।
শিক্ষক সংকট নিরসনে বিদ্যালয়গুলোর জনবল কাঠামোর ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। নোটিশ অনুযায়ী, যেসব বিদ্যালয়ে অনুমোদিত শূন্য পদ রয়েছে, কেবল সেখানেই বদলি হওয়া সম্ভব। যেসব বিদ্যালয়ে শিক্ষকের সংখ্যা পাঁচজন বা তার কম, অথবা শিক্ষক-শিক্ষার্থীর অনুপাত ১:৪০-এর বেশি, সেসব প্রতিষ্ঠান থেকে কোনো শিক্ষককে অন্য বিদ্যালয়ে বদলি করা হবে না। একই বিদ্যালয় থেকে একাধিক শিক্ষক বদলির আবেদন করলে জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। তবে কোনো শিক্ষকের নিজস্ব আবেদন ছাড়া তাকে নিজ কর্মস্থল থেকে বদলি করা যাবে না।
নারী শিক্ষকদের ক্ষেত্রে বদলির আবেদনে বিশেষ অগ্রাধিকারের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। সব শর্ত পূরণ সাপেক্ষে তারা তাদের স্থায়ী ঠিকানা কিংবা স্বামীর স্থায়ী ঠিকানার কাছাকাছি বিদ্যালয়ে বদলির সুযোগ পাবেন। অন্তঃবিভাগীয় বদলির আবেদনগুলো সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যাচাই-বাছাই করে নিষ্পত্তি করবে এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পর্যালোচনার পর নির্ধারিত কমিটি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।
অন্যদিকে, আন্তঃবিভাগীয় বদলির ক্ষেত্রে সর্বশেষ বদলি নীতিমালা অনুসরণ করতে হবে। এ ধরনের আবেদনের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় নথিপত্র যাচাই-বাছাই শেষে মহাপরিচালকের দপ্তরে পাঠানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নতুন এই শর্তাবলি মূলত বিদ্যালয়ের শিক্ষার মান বজায় রাখা এবং শিক্ষক সংকটে থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোতে জনবল ধরে রাখার লক্ষ্যেই কার্যকর করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।