1. admin@ajkerbasundhara.com : admin :
মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:০৩ অপরাহ্ন
শিরোনাম
ঢাকাকেও লোডশেডিংমুক্ত রাখার পরিকল্পনা থেকে সরে আসছে সরকার: প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা শেখ হাসিনাকে ধরে আনতে চাই, মৃত্যুদণ্ড অপেক্ষা করছে: ডা. জাহেদ উর রহমান প্রথমবারের মতো দেশের আটটি বিভাগীয় শহরেই হবে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা সংযুক্ত আরব আমিরাতে বাংলাদেশ ও জিম্বাবুয়েকে নিয়ে আফগানিস্তানের পূর্ণাঙ্গ সিরিজ পাকিস্তান ক্রিকেটের বিশৃঙ্খলা ও আকিব জাভেদের ভূমিকা নিয়ে বিস্ফোরক জেসন গিলেস্পি সৌদি আরবে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় সিলেটের ৪ প্রবাসীর মৃত্যু বোয়িং থেকে ১৪ উড়োজাহাজ কেনায় স্বচ্ছতা নিয়ে আইনি নোটিস ২০৩০ বিশ্বকাপ: নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারে স্পেনের সাথে কাতারের নতুন চুক্তি বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটের জন্য বিগত সরকারের অদূরদর্শিতাকে দায়ী করলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য দিল্লি সফর: গঙ্গার পানিবণ্টন চুক্তির নবায়ন নিয়ে জোর তৎপরতা

হাসপাতালে বিদ্যুৎ সংকট: অস্ত্রোপচার ও জরুরি সেবায় চরম ভোগান্তি

স্টাফ রিপোর্টার
  • প্রকাশ : সোমবার, ৩১ আগস্ট, ২০২৬

দেশের বিভিন্ন প্রান্তের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে তীব্র বিদ্যুৎ সংকটের কারণে চিকিৎসাসেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। গত শনিবার ও গতকাল দেশের একটি জেলা সদর ও ১৩টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সরেজমিনে ঘুরে রোগী, স্বজন ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে এই সংকটের ভয়াবহ চিত্র পাওয়া গেছে। নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত ৫৮ দিনের শিশু হাফছা জাহান চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি রয়েছে। শ্বাসকষ্ট কমাতে তাকে নিয়মিত নেবুলাইজার দেওয়ার কথা থাকলেও বিদ্যুৎ না থাকায় সেই চিকিৎসা ব্যাহত হচ্ছে। একই চিত্র চট্টগ্রামের পটিয়া ও লক্ষ্মীপুরের রায়পুরসহ দেশের বিভিন্ন এলাকার মা ও শিশুদের ক্ষেত্রেও দেখা যাচ্ছে। পটিয়ায় নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত দেড় বছরের শিশু মোফাছিরকে দিনে ছয়বার নেবুলাইজার দেওয়ার কথা থাকলেও শনিবার মাত্র তিনবার দেওয়া সম্ভব হয়েছে।

বিদ্যুৎ সংকটের প্রভাব শুধু নেবুলাইজেশনেই সীমাবদ্ধ নেই, বরং হাসপাতালের জরুরি অস্ত্রোপচার, এক্স-রে, ইসিজি ও প্যাথলজি পরীক্ষাও স্থবির হয়ে পড়েছে। রাজশাহীর বাগমারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সিজারিয়ান অস্ত্রোপচার চলাকালে হঠাৎ বিদ্যুৎ চলে গেলে অন্ধকার নেমে আসে। পরে মুঠোফোনের আলোয় এবং দ্রুত তেল কিনে জেনারেটর চালু করে অস্ত্রোপচার সম্পন্ন করতে হয়। ৫০ শয্যার এই হাসপাতালে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক রোগী বহির্বিভাগে সেবা নিতে আসেন, কিন্তু লোডশেডিংয়ের কারণে ল্যাবরেটরি ও ইসিজি সেবাও ব্যাহত হচ্ছে। বাগমারা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা শংকর কুমার বিশ্বাস জানান, বিদ্যুৎ ছাড়া হাসপাতালের যাবতীয় কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়ে, যা রোগীদের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করে।

নীলফামারী জেনারেল হাসপাতালেও অস্ত্রোপচারের সময় বিদ্যুৎ বিভ্রাটের ঘটনা ঘটছে। অস্ত্রোপচারের ১৫ মিনিট পর বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় জেনারেটর চালিয়ে শাপলা বেগমের অস্ত্রোপচার সম্পন্ন করতে হয়েছে। অস্ত্রোপচার কক্ষের জ্যেষ্ঠ স্টাফ নার্স বৃষ্টি রায় জানান, বিদ্যুৎ সমস্যার কারণে প্রতিদিনের নির্ধারিত চার-পাঁচটি সিজারের পরিবর্তে এখন একটি বা দুটির বেশি করা সম্ভব হচ্ছে না। এছাড়া অর্থোপেডিকস, নাক-কান-গলা (ইএনটি) ও সার্জারিসহ প্রতিদিন পাঁচ-ছয়টি অস্ত্রোপচার ব্যাহত হচ্ছে। অস্ত্রোপচার কক্ষের ইনচার্জ বিধান চন্দ্র রায় জানান, জেনারেটর চললেও এসি চালানো যায় না, ফলে অস্বস্তিকর পরিবেশে চিকিৎসক ও নার্সদের কাজ করতে হয়, যা সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ায়।

অনেক হাসপাতালে জেনারেটর থাকলেও জ্বালানি তেলের সংকটে তা চালানো যাচ্ছে না। মতলব দক্ষিণ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জেনারেটরটি প্রতিদিন ১৫ থেকে ২০ লিটার তেলের অভাবে অচল হয়ে আছে। আবাসিক চিকিৎসক রাজিব কিশোর বণিক জানান, দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় এক্স-রে, ইসিজি ও নেবুলাইজেশন কার্যক্রম বিঘ্নিত হচ্ছে। লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেও ডিজেল বরাদ্দের অভাবে জেনারেটর ব্যবহার করা যাচ্ছে না। আবার পাবনার বেড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মতো অনেক জায়গায় জেনারেটরের কোনো ব্যবস্থাই নেই। সেখানে প্যাথলজি বিভাগের ইনচার্জ গোলাম সরোয়ার জানান, বিদ্যুৎ চলে গেলে পরীক্ষা-নিরীক্ষার কাজ পুরোপুরি বন্ধ রাখতে হয়।

মৌলভীবাজারের কুলাউড়া ও জুড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রাতে বিদ্যুৎ চলে গেলে মোমবাতি বা মুঠোফোনের টর্চের আলোয় চিকিৎসকদের রোগী দেখতে হয়। জুড়ী হাসপাতালে একটি বেসরকারি সংস্থার দেওয়া আইপিএস দিয়ে রাতে মাত্র দুটি ওয়ার্ডে দুটি বাল্ব জ্বালানোর ব্যবস্থা করা গেছে। টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে লোডশেডিংয়ের পাশাপাশি কম ভোল্টেজের কারণে এক্স-রে মেশিন মাঝেমধ্যে অচল হয়ে পড়ছে। মেডিকেল টেকনোলজিস্ট এস এম আমিরুল ইসলাম মোমেন জানান, ভোল্টেজ সমস্যার কারণে রোগীদের সেবা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।

পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য হাসপাতালে এসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও সেবা না পেয়ে রোগীদের বেসরকারি ক্লিনিক বা ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ছুটতে হচ্ছে। রায়পুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এক্স-রে করাতে এসে কামরুল ইসলাম নামের এক রোগী এক ঘণ্টা অপেক্ষা করেও সেবা না পেয়ে ফিরে গেছেন। খাগড়াছড়ির মানিকছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেও লো-ভোল্টেজের কারণে এক্স-রে সেবা অধিকাংশ সময় বন্ধ থাকছে।

বিদ্যুৎ সংকটের কারণে ভর্তি রোগীদের জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। পাবনার বেড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জ্বরে আক্রান্ত ১৮ বছরের আশিক হোসেনের মা আসমা খাতুনকে হাতপাখা দিয়ে বাতাস করে সময় কাটাতে দেখা গেছে। ডায়রিয়ায় আক্রান্ত ৭০ বছরের আমজাদ হোসেনের স্ত্রী আলেয়া খাতুন জানান, রাতে ঘন ঘন বিদ্যুৎ যাওয়ায় তার স্বামী ঘুমাতে পারছেন না। রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গত শনিবার সকাল সাড়ে সাতটা থেকে পরবর্তী ১২ ঘণ্টায় পাঁচ দফায় মোট ৪ ঘণ্টা ৪৫ মিনিট বিদ্যুৎ ছিল না। সেখানে ভর্তি শামীমা বেগম জানান, তিন দিন ধরে হাসপাতালে থেকেও বিদ্যুৎ সংকটে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।

জ্বালানি সংকটের কারণে চাহিদামতো বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব হচ্ছে না বলে জানিয়েছে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) ও পাওয়ার গ্রিড পিএলসি। গত শনিবার বেলা তিনটায় সর্বোচ্চ ৩ হাজার ৬১২ মেগাওয়াট এবং শুক্রবার রাত ১২টায় ৩ হাজার ২৪৪ মেগাওয়াট লোডশেডিং হয়েছে। পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড (আরইবি) জানিয়েছে, শুক্রবার তাদের সর্বোচ্চ লোডশেডিং ছিল ২ হাজার ৬৭৩ মেগাওয়াট, যার মধ্যে ময়মনসিংহ অঞ্চলে ঘাটতি ছিল ৪৬ শতাংশ। উল্লেখ্য, ১২ আগস্ট রাত থেকে সরকারি নির্দেশনায় ঢাকাতেও লোডশেডিং শুরু হয়েছে। পাবনা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২-এর বেড়া জোনাল কার্যালয়ের ডিজিএম উত্তম কুমার সাহা জানান, বেড়া এলাকায় দিনে ২৫-৩০ শতাংশ এবং রাতে ৩৫-৪০ শতাংশ বিদ্যুৎ ঘাটতি থাকছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: অসুস্থ মেয়েকে কোলে নিয়ে কখন বিদ্যুৎ আসবে, সেই অপেক্ষায় রয়েছেন মা কামরুন নাহার। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলোতে ব্যাহত হচ্ছে অন্যান্য চিকিৎসাসেবাও। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: দেশে গ্যাসের সংকটের সঙ্গে এক মাসের বেশি সময় ধরে চলছে বিদ্যুতের সংকটও। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: মাঝেমধ্যে বৃষ্টি হলে লোডশেডিংয়ের মাত্রা কমে, গরম পড়লে বেড়ে যায়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: শুরুতে লোডশেডিংয়ের পুরোটাই ছিল ঢাকার বাইরে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: বেলা একটার দিকে অস্ত্রোপচারকক্ষের সামনে ছিল রোগীর স্বজনদের ভিড়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তখন শাপলা বেগমের কন্যাসন্তান জন্ম নেয়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: শিশুটিকে ওটি থেকে বের করে আনা হলেও তখনো মায়ের অস্ত্রোপচার শেষ হয়নি, সেলাই চলছিল।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
২০২৬ © আজকের বসুন্ধরা কর্তৃক সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
Theme Customization By NewsSun