প্রায় ১৮ মাস দায়িত্ব পালনের পর যুক্তরাষ্ট্রের সেনাসচিব ড্যান ড্রিসকল পদত্যাগ করেছেন। হোয়াইট হাউস সোমবার আনুষ্ঠানিকভাবে তার পদত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। ৪১ বছর বয়সি ড্রিসকল যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সবচেয়ে কম বয়সি সেনাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের সঙ্গে কয়েক মাস ধরে চলা মতবিরোধ ও টানাপোড়েনের জেরেই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম জানিয়েছে।
হোয়াইট হাউস এক বিবৃতিতে ড্রিসকলের প্রশংসা করে জানিয়েছে, ট্রাম্পের ‘মেক আমেরিকা স্ট্রং এগেইন’ কর্মসূচি বাস্তবায়নে তিনি অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রেখেছেন। বিশেষ করে সামরিক অভিযানে তার নেতৃত্ব এবং রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের অবসানে কূটনৈতিক আলোচনায় তার অবদান উল্লেখযোগ্য। তবে তার পদত্যাগের সুনির্দিষ্ট কারণ নিয়ে পেন্টাগন বা সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো এখনো বিস্তারিত কিছু জানায়নি।
মার্কিন সামরিক বাহিনীর শীর্ষ পর্যায়ে বর্তমানে বড় ধরনের রদবদল চলছে। ড্রিসকলের বিদায়ের আগে এপ্রিলে নৌবাহিনীর সচিব জন ফেলান দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ান। এছাড়া সেনাবাহিনীর চিফ অব স্টাফ জেনারেল র্যান্ডি জর্জ এবং জেনারেল ক্রিস্টোফার ডোনাহুসহ বেশ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তা সম্প্রতি পদত্যাগ করেছেন। পেন্টাগনে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে হেগসেথ এক ডজনেরও বেশি জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তাকে সরিয়ে দিয়েছেন, যার মধ্যে নৌবাহিনীর প্রধানও রয়েছেন।
ড্রিসকলের কর্মজীবন ও পরিচিতি ছিল বেশ বৈচিত্র্যময়। ২০০৭ সালে সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়ার পর তিনি অশ্বারোহী প্লাটুনের নেতৃত্ব দেন এবং ২০০৯ সালে ইরাকে মোতায়েন ছিলেন। সেনাসচিব হওয়ার পর যুদ্ধক্ষেত্রে নতুন প্রযুক্তি ও ড্রোনের ব্যবহারের ওপর জোর দেওয়ায় তিনি ‘ট্রাম্পের ড্রোন-ম্যান’ হিসেবে পরিচিতি পান। এছাড়া তিনি ন্যাশনাল গার্ড মোতায়েন এবং ব্যুরো অব অ্যালকোহল, টোব্যাকো, ফায়ারআর্মস অ্যান্ড এক্সপ্লোসিভসের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের সেনাসচিব দেশটির সেনাবাহিনীর শীর্ষ বেসামরিক নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন, যার অধীনে সক্রিয় সেনা ছাড়াও ন্যাশনাল গার্ড ও রিজার্ভ সেনাদের পরিচালনার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব থাকে। ড্রিসকলের এই পদত্যাগ মার্কিন প্রতিরক্ষা কাঠামোর ভেতরে চলমান অস্থিরতারই প্রতিফলন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তবে তাদের দ্বন্দ্বের সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো পুরোপুরি প্রকাশ্যে আসেনি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: রয়টার্সও জানিয়েছে, হেগসেথের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই ড্রিসকল পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনে তাকে প্রায়ই ‘ট্রাম্পের ড্রোন-ম্যান’ বলা হতো। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পও পরে বলেছিলেন, ফেলানের অন্যদের সঙ্গে কিছু ‘দ্বন্দ্ব’ ছিল। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এ ঘটনায় ড্রিসকলের সঙ্গে হেগসেথের টানাপোড়েন আরো বাড়ে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: পরে সেই উদ্যোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ কমিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা নেয় সেনাবাহিনী। চাকরির আরও তথ্য: পরে সেনাবাহিনী ছেড়ে আইন ও বিনিয়োগ খাতে কাজ করেন।