নিউইয়র্ক সিটির ইতিহাসে প্রথমবারের মতো চূড়ান্ত ‘সিটিওয়াইড রেশিয়াল ইক্যুইটি প্ল্যান’ প্রকাশ করেছে মেয়র জোহরান কওয়ামে মামদানির প্রশাসন। নগর সরকারের ৪৫টি সংস্থাকে সম্পৃক্ত করে তৈরি এই পরিকল্পনায় আবাসন, শৈশবকালীন শিক্ষা, কে-১২ শিক্ষা, কর্মসংস্থান, বিচারব্যবস্থা, স্বাস্থ্য, পরিবহন ও ডিজিটাল সংযোগ—এই আটটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে জাতিগত বৈষম্য কমিয়ে আনার জন্য সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। ২০৩৪ সাল পর্যন্ত এসব লক্ষ্যের অগ্রগতি নিয়মিত পরিমাপ ও প্রকাশ করা হবে।
এই উদ্যোগের মূল ভিত্তি হলো ২০২২ সালের একটি গুরুত্বপূর্ণ জনভোট। জানুয়ারিতে আফুয়া আত্তা-মেনসাহকে প্রধান সমতা কর্মকর্তা ও মেয়রের অফিস অব ইক্যুইটি অ্যান্ড রেশিয়াল জাস্টিসের কমিশনার হিসেবে নিয়োগের সময় মামদানি প্রশাসন প্রথম ১০০ দিনের মধ্যে প্রাথমিক পরিকল্পনা প্রকাশের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। চলতি বছরের এপ্রিল মাসে প্রাথমিক খসড়া প্রকাশের পর পাঁচ বরোর বাসিন্দাদের কাছ থেকে ৩০ দিন ধরে মতামত নেওয়া হয়। এই প্রক্রিয়ায় ১০টি জনসম্পৃক্ততা অধিবেশন, লিখিত মতামত সংগ্রহ এবং বিভিন্ন কমিউনিটি নেতার সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে ৪৫টি সিটি এজেন্সির সঙ্গে সমন্বয় করে চূড়ান্ত পরিকল্পনায় লক্ষ্য, কৌশল ও অগ্রগতি পরিমাপের সূচকগুলোকে আরও শক্তিশালী করা হয়েছে।
পরিকল্পনার লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী, ২০৩৪ সালের মধ্যে ভাড়া পরিশোধের চাপ ও গৃহহীনতার ক্ষেত্রে বিদ্যমান জাতিগত ব্যবধান কমানোর পাশাপাশি নগরজুড়ে সাশ্রয়ী মূল্যের আবাসন নির্মাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে শৈশবকালীন শিক্ষায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে সাক্ষরতা, গণিত ও সামাজিক-আবেগীয় বিকাশের বৈষম্য কমানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। কে-১২ শিক্ষার ক্ষেত্রে নিউইয়র্কের সরকারি স্কুলগুলোকে আরও সমন্বিত ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ২০৩৪ সালের মধ্যে কৃষ্ণাঙ্গ, লাতিনো এবং এশিয়ান-আমেরিকান নিউইয়র্কবাসীর বেকারত্বের হার ২০২৬ সালের তুলনায় কমিয়ে আনার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে।
ডেপুটি মেয়র ফর ইকোনমিক জাস্টিস জুলি সু জানান, আবাসন ও কর্মসংস্থানের লক্ষ্যগুলো কর্মজীবী নিউইয়র্কবাসীর দৈনন্দিন বাস্তবতার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। স্বাস্থ্য খাতেও বড় ধরনের বৈষম্য বিদ্যমান; বর্তমানে কৃষ্ণাঙ্গ নিউইয়র্কবাসীর গড় জীবন প্রত্যাশা ৭৬ দশমিক ১ বছর, যেখানে শ্বেতাঙ্গদের ক্ষেত্রে তা ৮১ দশমিক ৮ বছর। মেয়র মামদানি বলেন, নিউইয়র্কবাসীর কাছ থেকেই জানা হয়েছে তারা কোন বিষয়গুলোকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন এবং সেই দাবির ভিত্তিতেই এই পরিকল্পনা তৈরি হয়েছে। প্রধান সমতা কর্মকর্তা আফুয়া আত্তা-মেনসাহ বলেন, জনমত গ্রহণের সময় নিউইয়র্কবাসী স্পষ্টভাবে ভিত্তিমূলক তথ্য, জবাবদিহি এবং কাঠামোগত পরিবর্তনের দাবি জানিয়েছেন। ৪৫টি সিটি এজেন্সির নিজস্ব লক্ষ্য, কৌশল ও অগ্রগতি পরিমাপের সূচক এই কাঠামোর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। ডেপুটি স্পিকার নানতাশা উইলিয়ামসও বলেছেন, এই পরিকল্পনাটি বহু বছরের আন্দোলন ও নিউইয়র্কবাসীর দাবির ফল। কুইন্স ইকোনমিক ডেভেলপমেন্ট করপোরেশনের নির্বাহী পরিচালক বেন গুটম্যানের মতে, বরোর অর্ধেকের বেশি মানুষ বাড়িতে ইংরেজি ছাড়া অন্য ভাষায় কথা বলেন এবং প্রায় অর্ধেক বাসিন্দা বিদেশে জন্মগ্রহণ করেছেন, যা এই পরিকল্পনার গুরুত্বকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: মামদানি প্রশাসনের ভাষ্য অনুযায়ী, এটি শুধু বৈষম্যের চিত্র তুলে ধরার কোনো নীতিপত্র নয়; বরং কোন ক্ষেত্রে কী পরিবর্তন আনা হবে, সেই পরিবর্তন কীভাবে পরিমাপ করা হবে এবং জনগণ কীভাবে প্রশাসনের জবাবদিহি নিশ্চিত করবে—তার একটি নগরব্যাপী কাঠামো। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: আগের প্রশাসনের সময়ে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এই পরিকল্পনা প্রকাশ না হওয়ায় মামদানি প্রশাসন দায়িত্ব নেওয়ার পর বিষয়টি আবার অগ্রাধিকার দেয়। চাকরির আরও তথ্য: নিউইয়র্কে দীর্ঘদিনের বৈষম্যমূলক আবাসননীতি, গৃহঋণ ও বিনিয়োগের অসম সুযোগ এবং বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর আবাসন থেকে বঞ্চিত হওয়ার ইতিহাসকে পরিকল্পনায় কাঠামোগত বৈষম্যের অন্যতম উৎস হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: বিশেষ করে আয়সীমাভিত্তিক আবাসনের সুযোগ পাঁচ বরোতেই সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: নগর পরিকল্পনা বিভাগের পরিচালক সাইদিয়া শেরম্যানের মতে, ঐতিহাসিক বৈষম্যমূলক আবাসন নীতির প্রভাব মোকাবিলায় এটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হতে পারে। চাকরির আরও তথ্য: একই সঙ্গে প্রাথমিক শৈশব শিক্ষার পরিধি ও মান বাড়ানো এবং শিশু পরিচর্যা কর্মীদের চাকরির মান ও কর্মপরিবেশ উন্নত করার কথা বলা হয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: স্থিতিশীল শিক্ষার্থীসংখ্যা, একাডেমিক কর্মসূচি ও বিভিন্ন শিক্ষাসেবায় সমান প্রবেশাধিকার এবং সাংস্কৃতিকভাবে সংবেদনশীল নেতৃত্বের মাধ্যমে কৃষ্ণাঙ্গ ও লাতিনো শিক্ষার্থী, বহুভাষী শিক্ষার্থী, প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীসহ ঐতিহাসিকভাবে পিছিয়ে থাকা জনগোষ্ঠীর শিক্ষার ফলাফল।