জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। গত ১৭ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে এই রায় ঘোষণা করা হয়। এই রায়ের পরিপ্রেক্ষিতে তার নামে থাকা সম্পদের হিসাব নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম জানিয়েছেন, বিদ্যমান আইন ও বিধি অনুযায়ী অপরাধীর সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা এবং ভুক্তভোগী পরিবারগুলোকে ক্ষতিপূরণ প্রদানের সুযোগ রয়েছে। প্রক্রিয়াটি চূড়ান্ত রূপ পেলে এর ‘রেট্রোস্পেকটিভ ইফেক্ট’ বা পূর্ববর্তী প্রভাব কার্যকর হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
শেখ হাসিনার নামে থাকা সম্পদের এই হিসাব মূলত ২০২৪ সালের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া তার হলফনামা থেকে পাওয়া গেছে। গোপালগঞ্জ-৩ আসনের প্রার্থী হিসেবে দাখিল করা ওই নথিতে তিনি নিজের নামে মোট ৪ কোটি ৩৪ লাখ টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের বিবরণ দিয়েছিলেন। হলফনামার তথ্য অনুযায়ী, তার হাতে নগদ অর্থের পরিমাণ ছিল ২৮ হাজার ৫০০ টাকা। এছাড়া বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে তার নামে জমা ছিল প্রায় ২ কোটি ৩৯ লাখ টাকা।
আর্থিক বিনিয়োগের ক্ষেত্রে শেখ হাসিনার ২৫ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র এবং ৫৫ লাখ টাকার স্থায়ী আমানত (এফডিআর) ছিল বলে হলফনামায় উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি তার মালিকানাধীন স্বর্ণ ও অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর মূল্য দেখানো হয়েছিল ১৩ লাখ ২৫ হাজার টাকা এবং আসবাবপত্রের মূল্য ছিল ৭ লাখ ৪০ হাজার টাকা।
স্থাবর সম্পদের তালিকায় তার নামে ১৫ দশমিক ৩ বিঘা কৃষিজমির তথ্য রয়েছে। গোপালগঞ্জ সদর, টুঙ্গিপাড়া, গাজীপুর ও রংপুরে অবস্থিত এসব জমির ক্রয়মূল্য দেখানো হয়েছিল ৬ লাখ ৭৮ হাজার টাকা। এছাড়া ঢাকার পূর্বাচলে তার নামে ৩৪ লাখ ৭৬ হাজার টাকা মূল্যের একটি প্লট রয়েছে। একই সঙ্গে তিনতলা ভবনসহ ৬ দশমিক ১০ শতক জমির মালিকানার তথ্যও তিনি হলফনামায় অন্তর্ভুক্ত করেছিলেন, যার অর্জনকালীন মূল্য দেখানো হয়েছিল ৫ লাখ টাকা। সব মিলিয়ে ২০২৪ সালের হলফনামায় শেখ হাসিনার নিজের নামে প্রায় ৪ কোটি ৩৪ লাখ টাকার সম্পদের এই হিসাব পাওয়া যায়।