কুষ্টিয়া পৌরসভার ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের ফুলবাড়িয়া এলাকার বাসিন্দা মামুনুর রহমানের তিন ছেলে ফাহিম হোসাইন, ফরহাদ হোসাইন ও ফয়সাল হোসাইন। ২০০৯ সালের ১০ সেপ্টেম্বর জন্ম নেওয়া এই তিন ভাই এবারের এসএসসি পরীক্ষায় কেএসএম ঢাকা মিনাপাড়া উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে বিজ্ঞান বিভাগে জিপিএ-৫ অর্জন করেছে। তাদের এই সাফল্যে পরিবারে বইছে আনন্দের বন্যা।
সন্তানদের জন্মের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে আবেগাপ্লুত বাবা মামুনুর রহমান জানান, তাদের জন্মের আগে মা টানা ২৭ দিন শহরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে প্রসূতি জটিলতার কারণে চিকিৎসাধীন ছিলেন। অনেক কষ্ট ও ত্যাগের বিনিময়ে তারা পৃথিবীতে এসেছিল। তিনি বলেন, ফলাফলের দিন তিনি তিন সন্তানকে নিজের অফিসে নিয়ে গিয়েছিলেন। মনে আশা ছিল তারা জিপিএ-৫ পাবে, তবে কোনো একজন পিছিয়ে পড়লে সে যেন ভেঙে না পড়ে, সেজন্যই তাদের কাছে রেখেছিলেন। ফলাফল প্রকাশের পর তিনজনেরই সব বিষয়ে এ প্লাস দেখে তার আনন্দ বহুগুণ বেড়ে যায়।
তিন ভাইয়ের পড়াশোনার যাত্রা শুরু হয়েছিল বাড়ির পাশের একটি কিন্ডারগার্টেনে। এরপর কুষ্টিয়া শহরে তৃতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ার পর ঝিনাইদহে ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণি সম্পন্ন করে। অষ্টম শ্রেণিতে তারা কেএসএম ঢাকা মিনাপাড়া উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি হয়। নবম ও দশম শ্রেণিতে বাড়িতেই এক শিক্ষকের কাছে টানা দুই বছর প্রাইভেট পড়েছে তারা। ফাহিম, ফরহাদ ও ফয়সালের গৃহশিক্ষক রবিউল ইসলামও তাদের এই অর্জনে গর্বিত।
ফাহিম হোসাইন জানায়, তাদের এই সাফল্যের পেছনে বাবা-মায়ের অনেক ত্যাগ রয়েছে। ফরহাদ জানায়, তারা তিন ভাই একসঙ্গে স্কুলে যাওয়া, পড়াশোনা ও খেলাধুলা করত। খুব সকালে উঠে পড়তে বসা এবং দ্রুত ঘুমিয়ে পড়ার অভ্যাসই তাদের সাফল্যের মূল চাবিকাঠি। তিন ভাইয়েরই প্রিয় বিষয় গণিত। ফয়সাল জানায়, পড়াশোনার সময় কোনো বিষয় বুঝতে সমস্যা হলে তারা একে অপরকে সহযোগিতা করত।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে তিন ভাই জানায়, তারা কুষ্টিয়া সরকারি কলেজে বিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি হওয়ার জন্য আবেদন করেছে। তাদের লক্ষ্য ভবিষ্যতে দুজন চিকিৎসক ও একজন প্রকৌশলী হয়ে মানুষের সেবা করা। পড়াশোনার পাশাপাশি ফুটবল, ক্রিকেট ও ব্যাডমিন্টন খেলা তাদের বেশ পছন্দের। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: প্রসূতি-সংক্রান্ত নানা জটিলতা দেখা দিয়েছিল তার। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: সেই তিন ছেলে এবার আমাদের আরও আলোকিত করেছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: বাড়ির পাশে একটি কিন্ডারগার্টেনে তাদের পড়াশোনায় হাতেখড়ি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: সঙ্গে রেখেই ফলাফল দেখেছেন কম্পিউটারে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: কিন্তু যদি কোনোভাবে একজন না পেত, তাহলে সে মুষড়ে পড়ত। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তিনজনের ফল যখন দেখা হলো এবং সব বিষয়ে এ প্লাস দেখা গেল, তখন আনন্দে মন ভরে উঠেছিল।