1. admin@ajkerbasundhara.com : admin :
বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:৪৬ অপরাহ্ন
শিরোনাম
দক্ষিণ আফ্রিকায় দুর্বৃত্তের হামলায় চাঁদপুরের মতলব উত্তরের যুবক নিহত মধ্যবর্তী নির্বাচনে জয়ী হলে প্রত্যেক আমেরিকানকে ৫ হাজার ডলার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি ট্রাম্পের শাহজালাল বিমানবন্দরের নাম পরিবর্তনের পরিকল্পনা নেই: বিমানমন্ত্রী দোহায় ইসরায়েলি হামলার এক বছর: মধ্যপ্রাচ্যের কূটনীতি ও সার্বভৌমত্বের সংকট আর্থিক অনিয়ম ও জালিয়াতির অভিযোগের মুখে ডব্লিউএইচওর পদ ছাড়লেন সায়মা ওয়াজেদ সুপ্রিম কোর্টকে দুর্নীতিমুক্ত করতে প্রধান বিচারপতিকে এক মাসের আল্টিমেটাম দিলেন মাহবুব উদ্দিন খোকন কক্সবাজারে স্বামী হারানো ফাতেমার আইনি লড়াই ও শিশুসহ কারাবাসের ঘটনা প্রেক্ষাপট: ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনের তফসিল ঘোষণা: ভোট ২৯ অক্টোবর এসএসসি পুনর্নিরীক্ষণের ফল প্রকাশ: নতুন করে জিপিএ-৫ পেল তিন হাজারেরও বেশি শিক্ষার্থী লস অ্যাঞ্জেলেসে বর্ণাঢ্য আয়োজনে সম্পন্ন হলো ফোবানার ৪০তম সম্মেলন

কক্সবাজারে স্বামী হারানো ফাতেমার আইনি লড়াই ও শিশুসহ কারাবাসের ঘটনা

স্টাফ রিপোর্টার
  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

কক্সবাজারের মহেশখালীতে স্বামী হত্যার বিচার চেয়ে মামলা করার জেরে প্রতিপক্ষের দায়ের করা এক মামলায় দেড় বছরের শিশু সন্তানকে নিয়ে কারাবন্দি হতে হয়েছে ফাতেমা বেগম নামের এক গৃহবধূকে। এই দুঃসময়ে তার স্কুলপড়ুয়া দুই মেয়েকে আশ্রয় নিতে হয়েছে স্থানীয় একটি এতিমখানায়। দীর্ঘ সাতদিন কারাভোগের পর গত ৭ সেপ্টেম্বর কক্সবাজারের মহেশখালীর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ইমরান হোসাইনের আদালত তাকে জামিন প্রদান করেন।

ঘটনার সূত্রপাত ২০২৫ সালের ২৩ এপ্রিল। ওইদিন মহেশখালীর কুতুবজোম ইউনিয়নের কবির বাজারে ফিশিংবোট শ্রমিক মুহাম্মদ কাশেমকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, শাহেদ খান, আবদুল গফুর ও রাসেলসহ বেশ কয়েকজন তাকে ধাওয়া করে বাড়িতে ঢুকে এই হামলা চালায়। পরদিন কাশেমের স্ত্রী ফাতেমা বেগম বাদী হয়ে মহেশখালী থানায় ১০ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। পুলিশ তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় প্রধান অভিযুক্ত গফুরসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে গফুর মিয়ার ছেলে শাহেদ ও সাজ্জাদ হোসেন, গফুরের চাচাতো বোন শবে মেহরাজ এবং মো. আলমগীর রয়েছেন।

কাশেমের পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, মামলা করার পর থেকেই তারা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছিলেন। আসামিপক্ষ মামলা তুলে নিতে এবং আপস করার জন্য ক্রমাগত চাপ ও হুমকি দিয়ে আসছিল। এ বিষয়ে ফাতেমা বেগম ২০২৫ সালের ৬ মে মহেশখালী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছিলেন, যেখানে তিনি মিথ্যা মামলায় জড়ানোর আশঙ্কার কথা উল্লেখ করেছিলেন।

ফাতেমার আশঙ্কাই শেষ পর্যন্ত সত্যি হয়। কাশেম হত্যা মামলার আসামি রাসেলের মা নুরজাহান বেগম ২০২৫ সালের ৩ আগস্ট আদালতে একটি নালিশি দরখাস্ত করেন। অভিযোগে দাবি করা হয়, ২৪ মে ফাতেমা ও তার পরিবারের সদস্যরা রাসেলের বাড়িতে হামলা ও লুটপাট চালিয়েছেন। আদালত মহেশখালী থানাকে তদন্তের নির্দেশ দিলে এসআই মো. মোজাহেরুল ইসলাম তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেন। প্রতিবেদনে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার কথা জানানো হয়।

তবে তদন্ত প্রতিবেদনের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। প্রতিবেদনে সাক্ষী হিসেবে যাদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে, তাদের মধ্যে নুরুন্নাহার, মুন্নি আকতার ও মোতাহারা বেগম দাবি করেছেন, তারা কোনো সাক্ষ্য দেননি এবং তাদের নাম কীভাবে তালিকায় এসেছে তা তারা জানেন না। স্থানীয় বাসিন্দারাও জানিয়েছেন, ২৪ মে কোনো ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেনি। স্থানীয় ইউপি সদস্য মাহমুদুল হক ও চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট শেখ কামালের ভাষ্যমতে, কাশেম হত্যার দিন এলাকায় উত্তেজনা থাকলেও পরে ফাতেমার পরিবারকে দুর্বল করতে এই পাল্টা মামলা সাজানো হয়েছে।

তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মোজাহেরুল ইসলাম জানান, তিনি বাদীর দেওয়া সাক্ষীদের বক্তব্যের ভিত্তিতেই প্রতিবেদন দিয়েছেন। তবে প্রতিবেদনে রাসেলকে কাশেম হত্যা মামলায় ‘অন্যায়ভাবে’ আসামি করা হয়েছে বলে উল্লেখ করলেও, নথিপত্রে রাসেলকে চার নম্বর আসামি হিসেবে দেখা গেছে। এ বিষয়ে পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) প্রতুল কুমার শীল জানিয়েছেন, তিনি বিষয়টি যাচাই করে দেখবেন।

গত ৩১ আগস্ট রাতে পুলিশ ফাতেমা বেগম, তার শাশুড়ি রাশেদা বেগম ও আত্মীয় নাছিমা আকতারকে গ্রেপ্তার করে। পরদিন রাশেদা ও নাছিমা জামিন পেলেও ১৫ মাস বয়সী শিশুসহ ফাতেমাকে কারাগারে পাঠানো হয়। রাশেদা বেগম অভিযোগ করেন, তারা মামলার বিষয়ে কিছুই জানতেন না। জামিন পাওয়ার পর সোমবার সন্ধ্যায় ফাতেমা কারাগার থেকে মুক্তি পান। তার আইনজীবী মো. আনছার জানান, এক হাজার টাকা বন্ডে এবং স্থানীয় এক ব্যক্তির জিম্মায় এই জামিন মঞ্জুর হয়েছে।

কুতুবজোমের একটি ছোট্ট মাটির ঘরে তিন সন্তান নিয়ে বসবাস করা ফাতেমার জীবন এখন চরম অনিশ্চয়তায়। স্বামী হারানো, সন্তানদের এতিমখানায় পাঠানো এবং এরপর মিথ্যা মামলায় শিশুসহ কারাভোগ—সব মিলিয়ে গত দেড় বছর ধরে তিনি একের পর এক কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন। বর্তমানে কাশেম হত্যা মামলা ও পাল্টা মামলার আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এ সময় তার স্কুলপড়ুয়া দুই মেয়েকে থাকতে হয়েছে এতিমখানায়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: পরে পুলিশ তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা ও পেকুয়া থানা পুলিশের সহযোগিতায় মধ্যম উজানটিয়ার একটি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে মামলার প্রধান অভিযুক্ত গফুরসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ওই জিডিতে পহেলা মে তাকে ভয়ভীতি দেখানো ও মিথ্যা মামলায় জড়ানোর হুমকির আশঙ্কার কথা উল্লেখ করা হয়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: যদিও সাতদিন কারাবাস করে জামিনে মুক্তি পেয়েছেন মা ও শিশু। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: অভিযোগে বলা হয়, ওই বছরের ২৪ মে সকাল আটটার দিকে কাশেমের স্ত্রী ফাতেমা, তার মা, তিন ভাই, মামা ও ছোট বোনসহ সাতজন রাসেলের মায়ের বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও মালামাল লুট করেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তদন্ত প্রতিবেদন পর্যালোচনায় দেখা যায়, বাদীপক্ষের দেয়া সাতজন সাক্ষীর বক্তব্য নেয়া হয়েছে।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
২০২৬ © আজকের বসুন্ধরা কর্তৃক সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
Theme Customization By NewsSun