ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহী ও সৌদি আরবের মধ্যকার চলমান সংঘাত নতুন করে ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। একদিকে হুতিরা সৌদি আরবের সামরিক ঘাঁটি ও আবাসিক এলাকা লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহার করে হামলা চালাচ্ছে, অন্যদিকে এর প্রতিক্রিয়ায় সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট গত ৪৮ ঘণ্টায় ইয়েমেনের বিভিন্ন প্রদেশে অন্তত ১২৯টি বিমান হামলা পরিচালনা করেছে। লোহিত সাগরের উপকূল ও বাব আল-মান্দেব প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ হুতিদের হাতে চলে যাওয়ায় সৌদি আরবের জ্বালানি ও তেল রপ্তানি খাত বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়েছে।
হুতিদের সামরিক মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইয়াহিয়া সারির দাবি অনুযায়ী, নাজরান প্রদেশের শারুরায় অবস্থিত সৌদি সামরিক ঘাঁটির অস্ত্রাগার এবং কমান্ড-অ্যান্ড-কন্ট্রোল রুম লক্ষ্য করে বড় ধরনের নিখুঁত হামলা চালানো হয়েছে। এ ধরনের আক্রমণ অব্যাহত থাকলে সৌদি ভূখণ্ডের আরও গভীরে কঠোর ও ব্যাপক হামলার হুমকি দিয়েছেন তিনি। একই সময়ে জাজান অঞ্চলের আল-তুওয়াল গভর্নরেটে হুতিদের ছোড়া গোলায় দুইজন আহত হয়েছেন এবং একটি ধর্মীয় উপাসনালয় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সৌদি সিভিল ডিফেন্স এই ঘটনাকে আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের লঙ্ঘন হিসেবে চিহ্নিত করেছে।
সৌদি আরবের এফ-১৫ ও টাইফুন যুদ্ধবিমান ইয়েমেনের তাইজ, মারিব, হোদাইদাহ, আল-জাওফ, সাদা, আমরাণ ও হাজ্জাহ প্রদেশের লক্ষ্যবস্তুতে তীব্র বোমাবর্ষণ করেছে। খামিস মুশাইত ও তায়েফ বিমানঘাঁটি থেকে এসব হামলা পরিচালিত হয়। এর জবাবে হুতিরা কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, তাদের জনগণের ওপর চালানো এই আগ্রাসনের উপযুক্ত জবাব দেওয়া হবে। ইয়েমেনে জুলাই মাস থেকে শুরু হওয়া এই নতুন সংঘাতের জেরে এখন পর্যন্ত পাঁচ শতাধিক মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন এবং লাখো মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
কৌশলগত মোখা বন্দরসহ লোহিত সাগরের পুরো উপকূলরেখা এবং বাব আল-মান্দেব প্রণালীর দুটি গুরুত্বপূর্ণ দ্বীপ বর্তমানে হুতিদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। পর্যবেক্ষকদের মতে, এই ভৌগোলিক অবস্থানের সুবিধা নিয়ে হুতিরা লোহিত সাগরে কঠোর নৌ-অবরোধ চাপিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করছে, যা ইসরায়েলের বিরুদ্ধে আগে প্রয়োগ করা হয়েছিল।
‘বাশা রিপোর্ট’-এর প্রধান বিশ্লেষক মোহাম্মদ আল-বাশা জানান, হুতিরা পাহাড়ি এলাকায় চোরাগোপ্তা হামলা ও ড্রোনের ব্যবহারের মাধ্যমে সরকারি বাহিনীর ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। তার মতে, হুতিদের এই অগ্রগতির পেছনে প্রধান কারণ ইয়েমেন সরকারের অভ্যন্তরীণ বিভাজন ও সমন্বয়ের অভাব। আটটি ভিন্নমুখী বাহিনীর প্রভাব বিস্তারের প্রতিযোগিতার কারণে সুসংহত হুতিদের মোকাবিলা করা কঠিন হয়ে পড়েছে। জাতিসংঘের বিশেষ দূত হ্যান্স গ্রুন্ডবার্গ সতর্ক করে বলেছেন যে, ইয়েমেন বর্তমানে এক নতুন ও অত্যন্ত বিপজ্জনক যুদ্ধ পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়েছে।