ইয়েমেনের হুথি বাহিনী যেকোনো ধরনের সামরিক হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছে। আল-জাজিরা অনলাইনের তথ্যানুযায়ী, তাদের ওপর কোনো ধরনের আক্রমণ চালানো হলে লোহিত সাগরের কৌশলগত বাব আল-মান্দেব প্রণালি অনির্দিষ্টকালের জন্য পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হবে। এই হুমকির মধ্যেই শুক্রবার শক্তিশালী হুথি বাহিনী বাব আল-মান্দেবের গুরুত্বপূর্ণ পেরিম দ্বীপটি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে, যা বিশ্বের অন্যতম প্রধান নৌ-চলাচলের পথে তাদের প্রভাব আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
হুথিরা স্পষ্ট করেছে, তাদের এই অবরোধের লক্ষ্য মূলত সৌদি জাহাজগুলো। আন্তর্জাতিক শক্তিগুলো যদি তাদের বিরুদ্ধে কোনো সমন্বিত সামরিক পদক্ষেপ নেয়, তবে এই সামুদ্রিক পথটি বন্ধ করে দিতে তারা দ্বিধা করবে না। অতীতেও হুথিরা বাব আল-মান্দেব প্রণালিতে কার্যকর অবরোধ সৃষ্টি করে সৌদি ও ইসরায়েলি সংশ্লিষ্ট জাহাজগুলোর চলাচল ব্যাহত করেছিল। সেই সময় পাহাড়ের চূড়া ব্যবহার করে স্থলভাগের ৩০০ কিলোমিটার বা ১৮৬ মাইল দূর থেকে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে লোহিত সাগরে সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার সক্ষমতা দেখিয়েছিল তারা।
বর্তমানে হুথিদের সামরিক সক্ষমতা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। এখন তারা ২০০ কিলোমিটার দূর থেকে ক্ষেপণাস্ত্র বা ড্রোন ব্যবহারের পরিবর্তে, সরাসরি উপকূল থেকে স্বল্প-পাল্লার জাহাজ-বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র এবং ‘ড্রোন বোট’ ব্যবহার করে সৌদি ট্যাঙ্কার ও জাহাজগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করতে সক্ষম। এর ফলে অবরোধ কার্যকর করার জন্য তাদের ওই এলাকায় সার্বক্ষণিক উপস্থিতির প্রয়োজন পড়ছে না।
কৌশলগতভাবে লোহিত সাগরের প্রবেশপথে অবস্থিত হানিশ দ্বীপপুঞ্জের ওপরও হুথিদের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। এই দ্বীপগুলো মূলত একটি জলপথের চেকপয়েন্ট হিসেবে কাজ করছে, যা তাদের রাডারভিত্তিক পর্যবেক্ষণের বাড়তি সুবিধা দিচ্ছে। এর মাধ্যমে পূর্ব এশিয়া, ভারত মহাসাগর, আরব সাগর এবং এডেন উপসাগর থেকে আসা যেকোনো জাহাজের ওপর তারা সার্বক্ষণিক নজরদারি রাখতে সক্ষম, যা এই এলাকা দখলের আগে তাদের জন্য বেশ কঠিন ছিল। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: শনিবার আল-জাজিরা অনলাইন এ তথ্য জানিয়েছে।