রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) সাবেক ছাত্রলীগ নেতা আবদুল্লাহ আল মাসুদকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনাটি দুই বছর পার করেছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত মামলার তদন্তে কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই। এ ঘটনায় জড়িত কাউকে চিহ্নিত বা গ্রেপ্তার করতে পারেনি আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো।
২০২৪ সালের ৭ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় চার দিন বয়সী কন্যাসন্তানের জন্য ওষুধ কিনতে গিয়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়-সংলগ্ন বিনোদপুর বাজারে হামলার শিকার হন মাসুদ। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে বোয়ালিয়া থানায় সোপর্দ করা হয়। পরে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। ঘটনার চার দিন পর ১১ সেপ্টেম্বর তার বড় ভাই মো. বেহেস্তি অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে মতিহার থানায় মামলা করেন।
মামলাটি প্রথমে থানা পুলিশ তদন্ত করলেও পরে তা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) এবং বর্তমানে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনে (পিবিআই) ন্যস্ত করা হয়েছে। পিবিআইয়ের রাজশাহী জেলা পুলিশ সুপার মো. আব্দুল জলিল জানান, ২০২৫ সালের জুনে তারা দায়িত্ব নিলেও তদন্তে এখনো কোনো উল্লেখযোগ্য সাফল্য আসেনি। ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ এবং সাক্ষীদের শনাক্ত করার মতো জটিল প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে তদন্ত চলছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তদন্ত কর্মকর্তা পরিদর্শক জালাল উদ্দিন দাবি করেছেন যে, মামলার তদন্ত কার্যক্রম এখনো গোপনীয়তার পর্যায়ে রয়েছে। এর আগে বাদীর সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতার কারণে অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত হয়েছে বলে তিনি জানিয়েছিলেন। তবে মাসুদের পরিবার এই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে।
মাসুদের স্ত্রী বিউটি আরা বেগম বর্তমানে সন্তানকে নিয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জে বসবাস করছেন। তিনি আক্ষেপ করে জানান, হত্যাকাণ্ডের পর তদন্তকারীরা মাত্র দুবার তার সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন, যার সর্বশেষটি ছিল ২০২৫ সালে। তার ভাষ্যমতে, ন্যায়বিচার পাওয়ার আশা প্রায় ছেড়েই দিয়েছেন তিনি।
আবদুল্লাহ আল মাসুদ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সহসম্পাদক ও কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ছিলেন। তার জীবনের শেষভাগে নানা টানাপোড়েন ছিল। ২০১৪ সালের এপ্রিলে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এক হামলায় তিনি তার ডান পা হারান এবং হাতের রগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এরপর তিনি কৃত্রিম পা ব্যবহার করে চলতেন। দীর্ঘ বেকারত্বের পর ২০২২ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সুপারিশক্রমে তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টারে স্টোর কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ পেয়েছিলেন।
সেই হামলায় তার একটি কৃত্রিম পা বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছিল। ২০২৪ সালের গণপিটুনির সময় হামলাকারীরা তার শরীরের অবশিষ্ট পাটিও ভেঙে দিয়েছিল। মৃত্যুর মাত্র পাঁচ দিন আগে তিনি প্রথমবারের মতো কন্যাসন্তানের বাবা হয়েছিলেন। বর্তমানে মামলার পরিস্থিতি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও ঘটনার দিন ঘটনাস্থলে থাকা বিপুল মানুষের ভিড় থেকে প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করা তদন্তের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ব্রিকসের যৌথ বিবৃতিতে মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধে ‘লাগাম টানার’ আহ্বান, সমর্থন জানাল ইরান-আমিরাত। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: কারখানা ভবনগুলো পড়ে আছে, নেই শুধু কর্মসংস্থান। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: মাসুদ হত্যা মামলা: ২ বছরেও তদন্তে দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: অতিরিক্ত ওয়ার্কলোডে হাসানের কাউন্টি অভিযান শেষ করল বিসিবি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: বিপিএল থেকে বাদ পড়া ক্রিকেটাররা ‘দোষীও নন, নির্দোষও নন’। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: আব্দুল জলিল বলেন, ‘২০২৫ সালের জুনে মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব নেয় পিবিআই। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে আমি মন্তব্য করতে পারছি না। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তদন্ত কর্মকর্তা এ বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে পারবেন।’।