1. admin@ajkerbasundhara.com : admin :
বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:৪০ অপরাহ্ন

রাশিয়া সংশ্লিষ্ট আমদানিতে ১০০ শতাংশ শুল্কের ক্ষমতা পাচ্ছেন ট্রাম্প

স্টাফ রিপোর্টার
  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

রাশিয়ার ওপর তীব্র অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টির লক্ষ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিল মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে পাস হয়েছে। স্থানীয় সময় গত বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) রিপাবলিকান নিয়ন্ত্রিত এই কক্ষে বিলটি ২৬২-১৫৯ ভোটে অনুমোদন পায়। এর আগে গত আগস্ট মাসে সিনেটে বিলটি ৮৬-১১ ভোটে পাস হয়েছিল। এখন আইনটি কার্যকর হওয়ার জন্য প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের স্বাক্ষর প্রয়োজন। এই আইন কার্যকর হলে রাশিয়া থেকে তেল ও গ্যাস আমদানিকারক দেশগুলোর ওপর সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের আইনি ক্ষমতা পাবেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প, যার প্রভাব চীন ও ভারতের মতো বড় আমদানিকারক দেশগুলোর ওপরও পড়তে পারে।

‘লিন্ডসে ও. গ্রাহাম স্যাংশনিং রাশিয়া অ্যান্ড ইরান অ্যাক্ট অব ২০২৬’ শিরোনামের এই বিলটির লক্ষ্য মূলত রাশিয়ার জ্বালানি ও প্রতিরক্ষা খাতকে কোণঠাসা করা। রাশিয়ার কর্মকর্তাদের ওপর নিষেধাজ্ঞার পাশাপাশি, আন্তর্জাতিক বিধিনিষেধ এড়িয়ে রুশ তেল পরিবহনে ব্যবহৃত ‘শ্যাডো ফ্লিট’ বা ছায়া নৌবহরের ট্যাংকারগুলোর বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের কথা বলা হয়েছে। বিলটির অন্যতম প্রবক্তা ছিলেন প্রয়াত রিপাবলিকান সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম। মূলত ইউক্রেন যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে রাশিয়ার অর্থনীতিকে দুর্বল করতে দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর এটি কংগ্রেসের চূড়ান্ত অনুমোদন পেল। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি প্রকাশ্যে এই বিল পাসের জোরালো সমর্থন জানিয়েছেন এবং রাশিয়ার ওপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়াতে মার্কিন আইনপ্রণেতাদের আহ্বান জানিয়েছিলেন।

তবে বিলটি নিয়ে মার্কিন রাজনৈতিক অঙ্গনে কিছুটা দ্বিমত রয়েছে। ডেমোক্র্যাট দলের অনেক আইনপ্রণেতা প্রেসিডেন্টকে এ ধরনের ব্যাপক শুল্ক আরোপের ক্ষমতা প্রদানের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। প্রতিনিধি পরিষদের পররাষ্ট্রবিষয়ক কমিটির শীর্ষ ডেমোক্র্যাট নেতা গ্রেগরি মিক্স বিলটির কিছু নির্দিষ্ট বিধানের সমালোচনা করেছেন। তার মতে, প্রেসিডেন্টকে দেওয়া এই অতিরিক্ত ক্ষমতা প্রয়োগের পরিধি অনেক বিস্তৃত হতে পারে, যা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে জটিলতা তৈরি করতে পারে।

সব মিলিয়ে এটি এখনো একটি বিল পর্যায়ে রয়েছে এবং প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষরের পরই তা আইনে পরিণত হবে। ট্রাম্প এই বিলে স্বাক্ষর করলে এর আওতায় থাকা দেশগুলোর বিরুদ্ধে শুল্ক আরোপের আইনি প্রক্রিয়া শুরু করতে পারবেন। ইউক্রেন যুদ্ধের আবহে রাশিয়ার জ্বালানি বাণিজ্যে বিঘ্ন ঘটানো এবং মস্কোর আয়ের উৎস কমিয়ে আনাই এই বিলের মূল রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। এখন দেখার বিষয়, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই নতুন ক্ষমতা কীভাবে এবং কোন দেশগুলোর ক্ষেত্রে প্রয়োগ করেন।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
২০২৬ © আজকের বসুন্ধরা কর্তৃক সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
Theme Customization By NewsSun