ক্রিকেট দলে খেলোয়াড় নির্বাচনের মূল ভিত্তি হওয়ার কথা ফর্ম, ফিটনেস, দলের ভারসাম্য এবং ভবিষ্যতের পরিকল্পনা। কিন্তু যখন একজন প্রতিষ্ঠিত ক্রিকেটার কোনো যুক্তিসঙ্গত কারণ ছাড়াই নিয়মিত দল থেকে বাইরে থাকেন, তখন বিষয়টি আলোচনার জন্ম দেয়। বাংলাদেশ ক্রিকেটে বর্তমানে আকবর আলীকে নিয়ে ঠিক এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
জুলাই থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে এইচপি, ইমার্জিং এবং ‘এ’ দলের হয়ে মোট ৬৩ জন ক্রিকেটার অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকা সফর করেছেন। নির্বাচকরা এই সময়ে ঘরোয়া ক্রিকেটের গভীর থেকে অনেক আনকোরা খেলোয়াড়কেও দলে টেনেছেন, এমনকি জরুরি প্রয়োজনে এক দেশ থেকে অন্য দেশে খেলোয়াড় পাঠিয়েছেন। অথচ ২৪ বছর বয়সী কিপার-ব্যাটার আকবর আলী এই লম্বা সফরসূচির কোনোটিতেই সুযোগ পাননি। এই সময়ে তিনি ইংল্যান্ডে ক্লাব ক্রিকেট খেলেছেন।
ফর্মের দিক থেকে আকবরের সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান খুব একটা আহামরি না হলেও, তাকে পুরোপুরি উপেক্ষার করার মতো নয়। ২০২৫-২৬ ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে ৯ ইনিংসে ২৪.১১ গড়ে ২১৭ রান করলেও তার স্ট্রাইক রেট ছিল নজরকাড়া ১১৯.২৩। এছাড়া প্রাইম ব্যাংককে লিগে তৃতীয় স্থান অর্জনে অধিনায়ক হিসেবে তার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল।
গত এপ্রিলে বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগে (বিসিএল) উত্তরাঞ্চলের হয়ে ১২১ রানের একটি দুর্দান্ত ইনিংস খেলে দলকে ১০ উইকেটে জিতিয়েছিলেন তিনি। এছাড়া রংপুর বিভাগকে ঘরোয়া ক্রিকেটের জোড়া শিরোপা জেতানোর পেছনেও ছিল তার নেতৃত্ব। এনসিএলের চার দিনের চার ম্যাচে ১৪৪ রান এবং টি-টোয়েন্টি সংস্করণে নয় ম্যাচে ২০৩ রান করেছেন তিনি।
আকবরের বড় শক্তির জায়গা হলো তার ক্রিকেটীয় বিচক্ষণতা এবং নেতৃত্বের অভিজ্ঞতা। ২০২০ সালে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ জয় থেকে শুরু করে গত বছর কাতারে ‘এশিয়া কাপ রাইজিং স্টার্স’ টুর্নামেন্টে দলকে নেতৃত্ব দেওয়া—সবই তার সামর্থ্যের প্রমাণ। প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশারও একসময় দাবি করেছিলেন যে, আকবর জাতীয় দলের পরিকল্পনায় আছেন।
আকবর যদি সত্যিই পরিকল্পনায় থাকেন, তবে এতগুলো বিদেশ সফরে তিনি কীভাবে পুরোপুরি আড়ালে থেকে গেলেন? এই প্রশ্নের উত্তর না থাকায় মাঠের বাইরের নাটকের গুঞ্জন জোরালো হয়েছে। শোনা যাচ্ছে, ক্রিকেটারদের সংগঠন কোয়াবের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য হিসেবে বিভিন্ন দাবি-দাওয়া নিয়ে আলোচনার সময় সংগঠনের ভেতরে মতবিরোধ তৈরি হয়েছিল।
নির্ভরযোগ্য একাধিক ক্রিকেটারের ভাষ্যমতে, কিছু নীতিগত বিষয়ে আকবর ভিন্নমত পোষণ করেছিলেন, যা সংগঠনের প্রভাবশালী কর্তারা ভালোভাবে নেননি। এমনকি প্রাথমিক তালিকায় কয়েকবার নাম থাকার পরও অলিখিত কারণে তার নাম বাদ পড়ার মতো ঘটনা ঘটেছে বলেও খবর চাউর হয়েছে।
সম্প্রতি বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে আকবর আলী অবশ্য কৌশলী অবস্থান নেন। কোনো ধরনের ষড়যন্ত্র তত্ত্বের দিকে যেতে না চাইলেও সব সফর থেকে ধারাবাহিকভাবে বাদ পড়া যে তাকে ব্যথিত করেছে, তা তিনি অস্বীকার করেননি। ক্যারিয়ারের এই পর্যায়ে বাড়তি জটিলতা এড়াতে তিনি মুখ খুলছেন না, তবে তার এই নীরবতা এবং বাদ পড়ার ঘটনা বাংলাদেশ ক্রিকেটের কাঠামোগত সংস্কৃতির ওপরই বড় প্রশ্নচিহ্ন এঁকে দিচ্ছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: দাবি না মানলে এক দফার হুঁশিয়ারি ১১ দলের। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: পায়রা বন্দর: বিশাল অবকাঠামো, বাণিজ্যে খরা। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: বিশ্লেষণ / গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ডেনমার্কের সঙ্গে চুক্তির দাবি ট্রাম্পের, কী আছে এতে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: প্রতিবাদের মাসুলই কি গুনছেন আকবর আলী। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের প্রতিবেদন / নারীরা শিক্ষায় এগোলেও পিছিয়ে অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এই মাপকাঠির কোনো একটিতে থাকার কথা থাকলেও কোন যখন হঠাৎ গায়েব হয়ে যান, তখন আড়ালে অন্য কোনো নাটকের গন্ধ পাওয়া অস্বাভাবিক নয়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ঘরোয়া ক্রিকেটের অত্যন্ত পরিচিত এই অধিনায়ককে সাম্প্রতিক সফরগুলোতে কোনো দলেই দেখা যায়নি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: একের পর এক দল সামলাতে গিয়ে নির্বাচকেরা ঘরোয়া ক্রিকেটের একদম গভীর পর্যন্ত হাতড়েছেন — অনেক আনকোরা খেলোয়াড়ও ডাক পেয়েছেন, এমনকি স্বল্প সময়ের নোটিশে অনেককে এক দেশ থেকে অন্য দেশেও পাঠানো হয়েছে।