নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত কাতার অর্থনৈতিক ফোরামের বিশেষ আয়োজনে দেশটির বিশাল অর্থনৈতিক পরিকল্পনা ও বেসরকারি খাতের বিকাশে নতুন রূপরেখা তুলে ধরেছেন কাতারের প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আব্দুর রহমান আল থানি। ফোরামে তিনি কাতারকে কেন্দ্র করে ৬০ বিলিয়ন ডলারের একটি বিশাল বিনিয়োগ পাইপলাইনের ঘোষণা দিয়েছেন। এই লক্ষ্য অর্জনে তিনি সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের (পিপিপি) মাধ্যমে আগামী পাঁচ বছরে প্রায় ৩৮.৫ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ে নতুন অবকাঠামো প্রকল্প বাস্তবায়নের রূপরেখা দিয়েছেন।
বিনিয়োগের এই বড় অংশে রিয়েল এস্টেট ও আতিথেয়তা খাতের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, যেখানে আরও ২২.৫ বিলিয়ন ডলার বেসরকারি বিনিয়োগ টানার লক্ষ্য রয়েছে। এই উন্নয়ন পরিকল্পনার অন্যতম আকর্ষণীয় অংশ হলো ৫.৮ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ে সুমসাইমা বিচ বা সমুদ্রসৈকত প্রকল্প। এই বিনিয়োগ প্রবাহকে গতিশীল করতে কাতার ইনভেস্টমেন্ট অথরিটির (কিউআইএ) অভ্যন্তরীণ পোর্টফোলিও তদারকির জন্য প্রধানমন্ত্রী আনুষ্ঠানিকভাবে ‘দোহা ইনভেস্টমেন্ট’ নামের একটি নতুন প্ল্যাটফর্ম উদ্বোধন করেছেন। এই উদ্যোগ স্থানীয় পুঁজিবাজার শক্তিশালী করার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে কাতারি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখবে।
মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতাকে এক বড় ধরনের ‘ভূমিকম্পের’ সাথে তুলনা করে শেখ মোহাম্মদ জানান, বৈশ্বিক নিরাপত্তার এই কঠিন পরিস্থিতি সামাল দিতে কাতারের বলিষ্ঠ ও দ্রুত পদক্ষেপ কার্যকর ভূমিকা রেখেছে। সামুদ্রিক রুট ও সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটলেও নতুন শিপিং রুট চালু করে দেশের অভ্যন্তরীণ বাজার সুরক্ষা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে। তিনি আরও জানান, এই সংকটময় মুহূর্তেও কাতারের ব্যাংকিং ব্যবস্থা এবং আর্থিক প্রবাহ পুরোপুরি স্বাভাবিক রয়েছে।
সংকট মোকাবেলার পাশাপাশি কাতার তার দীর্ঘমেয়াদী জ্বালানি কৌশলেও অবিচল রয়েছে। দেশটির নর্থ ফিল্ড সম্প্রসারণের কাজ চলমান রয়েছে, যা বিশ্ববাজারে কাতারের নির্ভরযোগ্য জ্বালানি সরবরাহকারী হিসেবে অবস্থানকে আরও মজবুত করবে। সামগ্রিকভাবে, এই বিশাল বিনিয়োগ পরিকল্পনা ও নতুন প্ল্যাটফর্ম কাতারের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার একটি কৌশলগত মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে। চাকরির আরও তথ্য: এছাড়া রিয়েল এস্টেট ও আতিথেয়তা খাতে আরও ২২.৫ বিলিয়ন ডলার বেসরকারি বিনিয়োগ আকর্ষণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে, যার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ৫.৮ বিলিয়ন ডলারের সুমসাইমা বিচ (Smeasma Beach) উন্নয়ন প্রকল্প।