1. admin@ajkerbasundhara.com : admin :
সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:১২ পূর্বাহ্ন

শুধুমাত্র টাকায় সাফল্য আসবে না, প্রয়োজন প্রতিভা ও কোচ

স্টাফ রিপোর্টার
  • প্রকাশ : সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

ক্রীড়াঙ্গনে কেবল আর্থিক বিনিয়োগ থাকলেই সফল হওয়া যায় না; এর জন্য খেলোয়াড়দের সহজাত প্রতিভা, দক্ষ কোচ এবং সংগঠকদের ঐকান্তিক প্রচেষ্টার সমন্বয় প্রয়োজন। দীর্ঘদিন মাঠের লড়াইয়ে থাকা বশীর আহমেদ মনে করেন, শারীরিক সক্ষমতার পাশাপাশি সঠিক নির্দেশনাই একটি দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দিতে পারে। তার ভাষায়, খেলাধুলার প্রতি ভালোবাসা থাকলে মাঠের কোনো পরিশ্রমই কষ্টের মনে হয় না।

পরিবার ও শৈশবের প্রেক্ষাপট

  • পারিবারিক ঐতিহ্য: বশীর আহমেদের পূর্বসূরিরা ব্যবসা করতেন।
  • জন্মস্থান: পুরান ঢাকার মাহুতটুলী এলাকায় তার বেড়ে ওঠা। মোগল আমলের অনেক আগের এই এলাকাটি মাহুতদের আবাসস্থল হিসেবে পরিচিত ছিল।

শিক্ষাজীবন ও আরমানিটোলা স্কুলের দিনগুলি

  • প্রাথমিক পাঠ: আরমানিটোলা স্কুলে তৃতীয় শ্রেণি থেকে তার শিক্ষাজীবনের শুরু।
  • স্কুলজীবন: স্কুলের পাশে অবস্থিত প্রাচীন চার্চ এবং সেখানকার পরিবেশ ছিল তার শৈশবের সঙ্গী।
  • হাউস সিস্টেম: স্কুলের চারটি হাউসের মাধ্যমে খেলাধুলা পরিচালিত হতো, যেখানে চার্চের শিক্ষকরা হাউস টিউটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন। বশীর আহমেদ ওয়েস্ট হাউসের সদস্য ছিলেন।

অ্যাথলেটিকস ও বহুমুখী খেলার দক্ষতা

  • প্রতিভা: ছোটবেলা থেকেই কাকডাকা ভোরে উঠে স্কুলের মাঠে ১৫ থেকে ২০ চক্কর দৌড়ানোর অভ্যাস ছিল তার। টানা তিন বছর স্কুল চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরবও রয়েছে তার।
  • খেলায় বৈচিত্র্য: বাস্কেটবলের মতো খেলা স্কুলে থাকলেও অ্যাথলেটিকস এবং অন্যান্য খেলার কারণে তিনি সেদিকে খুব একটা সময় দিতে পারেননি।

ক্রীড়া ক্যারিয়ারের শুরুর ধাপ

  • কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়: জগন্নাথ কলেজে ভর্তি হলেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হয়ে নিয়মিত খেলতেন।
  • আগা খান গোল্ড কাপ: ১৯৫৯ সালে ভিক্টোরিয়ার হয়ে শুরু করে মোহামেডানের জার্সিতে চ্যাম্পিয়ন হওয়া ছিল তার জীবনের প্রথম বড় টুর্নামেন্ট।
  • হকিতে হাতেখড়ি: ১৯৫৬-৫৭ সালের দিকে স্কুলের ছাত্র থাকাকালীন ব্রাদার্স ইউনিয়নের হয়ে হকি খেলার মাধ্যমে তার দীর্ঘ ক্যারিয়ারের সূচনা হয়।

পূর্ব পাকিস্তান ও জাতীয় পর্যায়ে অবদান

  • জাতীয় দল: ১৯৬৭-৬৮ সালের দিকে তিনি প্রথম পূর্ব পাকিস্তান দলের হয়ে হকি খেলেন।
  • আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা: ১৯৬২ সালে কেনিয়ার বিপক্ষে পিআইএর হয়ে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স প্রদর্শন করেন।
  • সাফল্য: জাতীয় পর্যায়ের পুরস্কারপ্রাপ্ত প্রায় ১০ জন কিংবদন্তি খেলোয়াড় তাদের সঙ্গে একই সময়ে খেলেছেন, যার মধ্যে মাহমুদর রহমান মমিন, প্রতাপ শংকর হাজরা ও মহসিন অন্যতম।

ফুটবল ও শারীরিক চ্যালেঞ্জের অভিজ্ঞতা

  • চ্যালেঞ্জ: ৫ ফুট ৬ ইঞ্চি উচ্চতা নিয়ে ৬ ফুট উচ্চতাসম্পন্ন খেলোয়াড়দের বিপক্ষে লড়াই করা ছিল কঠিন।
  • সাফল্য ও সংকট: ১৯৬৪ সালে ফুটবলে দারুণ খেললেও দলগত সমন্বয়ের অভাব প্রায়ই বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ১৯৭৮ সালে এশিয়ান গেমসে ভালো টিম থাকা সত্ত্বেও দলের ব্যর্থতা আজও তাকে পীড়া দেয়।
  • ক্ষতি ও সংকল্প: ১৯৬৭ সালে খেলার মাঠে পা ভাঙার পর হকি খেলার সুযোগ কমে যায়। তবে খেলাধুলার প্রতি অদম্য টান তাকে ১৯৮০ সালে এবং পরবর্তীতে ১৯৮৫ সালের এশিয়া কাপে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে সাহায্য করে।

নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে বশীর আহমেদ বলেন, তিনি নিজের ছোট ছোট ঘটনাগুলো নিয়ে একটি বই প্রকাশের চেষ্টা করছেন। তার মতে, অতীতে খেলাগুলো সিজনাল হলেও খেলোয়াড়রা প্রতিটি মুহূর্তকে উপভোগ করতেন। বর্তমানে মাঠের সেই শৃঙ্খলা এবং খেলোয়াড়দের মধ্যেকার পারস্পরিক বোঝাপড়া আরও বেশি জরুরি বলে তিনি মনে করেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: বশীর আহমেদ: মায়ের কাছে শুনেছি যে জামাই ষষ্ঠীর দিন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: আমাদের চতুর্দিকে জমিদারবাড়ি ছিল, হিন্দু জমিদারি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তাদের গিন্নিরা এসে শুনছে যে আমি জন্মেছি, আমার মায়ের কাছে এসে বলল, দেখি তোমার বাচ্চাটা। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তো যাই হোক, দেখার পর বলল, আজ জামাই ষষ্ঠী। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: মানে ওরা আশীর্বাদ করলেন, বললেন, ওর খুবই দুর্দান্ত জীবনকাহিনি হবে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: আর জন্মই তো আমাকে এত দূর নিয়ে আসছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: মানুষের বেড়ে ওঠা কিংবা খেলাধুলায় জন্মস্থানের পরিবেশ–পারিপার্শ্বিকতার ওপর নির্ভর করে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: প্রকটভাবে এটা লক্ষ করেছি যে মাহুতটুলীতে আমার জন্ম হওয়ায় এবং আমার স্কুল কাছে হওয়ায় খেলাধুলায় আমি অগ্রগামী ছিলাম।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
২০২৬ © আজকের বসুন্ধরা কর্তৃক সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
Theme Customization By NewsSun