টেকনাফে নাফ নদী বরাবর পোল্ডার পুনর্বাসন প্রকল্প নিয়ে স্থানীয় জনগণ ও সুবিধাভোগীদের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময় করেছেন পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি। মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে টেকনাফ উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এই সভায় প্রকল্পের বর্তমান অবস্থা ও জনদুর্ভোগ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। সভায় পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ এবং কক্সবাজার-৪ আসনের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সভায় অংশ নেন।
সভায় মূলত পানি উন্নয়ন বোর্ডের বাস্তবায়নাধীন ‘কক্সবাজার জেলার বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্ত নিরাপত্তা উন্নত করার জন্য উখিয়া ও টেকনাফ উপজেলায় নাফ নদী পোল্ডারসমূহের (৬৭/এ, ৬৭, ৬৭/বি ও ৬৮) পুনর্বাসন প্রকল্প (২য় সংশোধিত)’ নিয়ে আলোচনা করা হয়। স্থানীয় বাসিন্দারা প্রকল্পের দীর্ঘসূত্রতা ও বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে তাদের মতামত তুলে ধরেন। পোল্ডার নির্মাণ, সীমান্ত সড়ক ও বেড়িবাঁধের বিদ্যমান সংকটগুলো এই মতবিনিময় সভায় প্রধান আলোচনার বিষয় ছিল।
এ সময় মন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি প্রকল্পের বর্তমান অবস্থাকে ‘গলার কাঁটা’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, ইতিমধ্যে এই কাজে বিপুল পরিমাণ অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। বারবার সংশোধন এবং বাড়তি বরাদ্দ দেওয়ার পরও প্রকল্পটি কাঙ্ক্ষিত সুফল বয়ে আনেনি। এই ধরনের প্রকল্পের যৌক্তিকতা নিয়েও সভায় প্রশ্ন উঠেছে। মন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন, সরকার জনস্বার্থে নতুন করে সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হচ্ছে এবং স্থবির এই প্রকল্পটিকে শেষ করার জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।
প্রকল্পটি নতুনভাবে শুরু করার ইঙ্গিত দিয়ে মন্ত্রী বলেন, দেশের স্বার্থ, সীমান্ত নিরাপত্তা, বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও নদী খননের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো অগ্রাধিকার পাবে। তবে হুট করে কোনো সিদ্ধান্ত না নিয়ে কারিগরি সমীক্ষা ও যথাযথ যাচাইবাছাই শেষে কাজ শুরু করা হবে। এতে কিছুটা সময় লাগলেও প্রকল্পটির টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করাই সরকারের মূল লক্ষ্য। বিশেষ করে স্থানীয়দের জীবন-জীবিকা, কৃষি ও পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষার বিষয়টি কঠোরভাবে বিবেচনায় নেওয়া হবে।
মতবিনিময় সভা শেষে মন্ত্রী ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা দুপুর দেড়টার দিকে শাহপরীরদ্বীপ পশ্চিমপাড়া বেড়িবাঁধ এলাকা পরিদর্শন করেন। সরেজমিন পরিদর্শনের সময় মন্ত্রী স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলেন এবং নদীভাঙনের শিকার বেড়িবাঁধের বেহাল দশা প্রত্যক্ষ করেন। জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে স্থানীয়দের সহযোগিতার আহ্বান জানান তিনি। মন্ত্রী পুনরায় জোর দিয়ে বলেন, জনগণের মতামতকে গুরুত্ব দিয়েই এই জনগুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের পরবর্তী ধাপসমূহ গ্রহণ করা হবে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: নির্বাচিত সরকার হিসেবে জনগণের প্রতি আমাদের দায়িত্ব রয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: কিন্তু বসে থাকলে চলবে না, এটিও শেষ করতে হবে।