ফ্রিজ থেকে পাউরুটির প্যাকেট বের করে দেখা গেল মেয়াদের তারিখ দুদিন আগেই পেরিয়ে গেছে। বাহ্যিকভাবে কোনো পরিবর্তন বা দুর্গন্ধ না থাকায় অনেকেই তা খেয়ে ফেলেন। আবার অনেকে প্যাকেটজাত খাবার কেনার সময় গায়ে থাকা তারিখটি খেয়ালই করেন না। স্বাস্থ্য সচেতনতায় খাদ্যনিরাপত্তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হলেও এই ভুলটি অনেকেই করে থাকেন, যার ফলে অজান্তেই স্বাস্থ্যকে মারাত্মক ঝুঁকির মুখে ফেলা হয়।
ইসলামী ব্যাংক হাসপাতাল অ্যান্ড কার্ডিয়াক সেন্টারের সিনিয়র ডায়েটিশিয়ান ও নিউট্রিশনিস্ট শরীফা আক্তার শাম্মী জানান, খাবারের মোড়কে থাকা মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ বলতে বোঝায় যে, প্রস্তুতকারকদের প্রত্যাশা অনুযায়ী ওই দিন পর্যন্ত খাবারটির গুণগত মান অটুট থাকবে।
খাবারের গায়ে লেবেলিংয়ের ক্ষেত্রে প্রস্তুতকারকেরা ‘বেস্ট বাই’, ‘সেল বাই’ এবং ‘ইউজ বাই’-এর মতো বিভিন্ন টার্ম ব্যবহার করেন। এই শব্দগুলোর নির্দিষ্ট অর্থ রয়েছে এবং এগুলোর মানে এই নয় যে তারিখ পার হলেই খাবারটি অনিরাপদ হয়ে যায়। ‘বেস্ট বাই’ দিয়ে বোঝানো হয় ওই তারিখ পর্যন্ত খাবারের স্বাদ ও মান ঠিক থাকবে, যা পরবর্তীতেও নষ্টের লক্ষণ না থাকলে খাওয়া যায়। ‘সেল বাই’ মূলত বিক্রেতাদের জন্য একটি নির্দেশিকা, যার মাধ্যমে নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত পণ্য প্রদর্শনের কথা বলা হয়। আর ‘ইউজ বাই’ দিয়ে মূলত সর্বোত্তম ব্যবহারের সময়সীমা নির্দেশ করা হয়, যা দেশ ও প্রস্তুতকারকভেদে আলাদা হতে পারে।
মেয়াদ পার হওয়ার পরও যদি খাবার নষ্ট হয়ে যায় এবং তা খাওয়া হয়, তবে ফুড পয়জনিংয়ের মতো সমস্যা হতে পারে। সালমোনেলা, লিস্টেরিয়া ও ই কোলাইয়ের মতো ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া খাবারকে অস্বাস্থ্যকর করে তোলে। এর সাধারণ লক্ষণের মধ্যে রয়েছে বমি বমি ভাব, বমি, ডায়রিয়া, জ্বর ও পানিশূন্যতা। অনেক সময় কটু গন্ধ বা দৃশ্যমান নষ্ট হওয়ার লক্ষণ না থাকলেও খাবারের সতেজতা ও গুণগত মান কমে যায়। এর ফলে বদহজম, পেট ফাঁপা, পেটে ব্যথা কিংবা হজম প্রক্রিয়ায় বিঘ্ন ঘটার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।
সঠিকভাবে সংরক্ষণ না করা হলে মেয়াদোত্তীর্ণ খাবার মারাত্মক অসুস্থতার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। ক্যানড ফুড সঠিকভাবে সংরক্ষণ না করলে মেয়াদের পর ক্ষতিকর টক্সিন তৈরি হয়ে বটুলিজম সৃষ্টি করতে পারে, যা জীবননাশের ঝুঁকি তৈরি করে। এছাড়া ছত্রাক সংক্রমিত মেয়াদোত্তীর্ণ খাবারে মাইকোটক্সিন থাকতে পারে, যা যকৃৎ বা লিভারের ক্ষতি করার পাশাপাশি স্নায়ুতন্ত্রের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে।
শিশুকাল, অন্তঃসত্ত্বা অবস্থা বা বার্ধক্যের কারণে যাদের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা দুর্বল, তাদের কোনোভাবেই মেয়াদোত্তীর্ণ খাবার খাওয়া উচিত নয়। সামান্য সংক্রমণও এই ধরনের মানুষের জন্য বড় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি ডেকে আনতে পারে।
পুষ্টিবিদ শরীফা আক্তার শাম্মী আরও বলেন, অনেক সময় খাবারের স্বাদ ও গন্ধে বড় পরিবর্তন না আসলেও তাতে ক্ষতিকর জীবাণু ও টক্সিন থাকতে পারে, যা খালি চোখে বা গন্ধে বোঝা সম্ভব নয়। তাই প্যাকেটজাত খাদ্য কেনার বা গ্রহণের পূর্বে অবশ্যই লেবেল ও তারিখ যাচাই করা জরুরি। পাশাপাশি সঠিক তাপমাত্রায় ও নির্দেশিকা মেনে খাবার সংরক্ষণ করা উচিত এবং অস্বাভাবিক রং, গন্ধ বা দৃশ্যমান পরিবর্তন দেখলে তা বর্জন করা প্রয়োজন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: বারিধারায় গাড়িচাপা: গতকাল আটক সেই কিশোরের নাম নেই মামলায়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ডেঙ্গুতে মৃত্যু ২০০ ছাড়াল, ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ১৮৬৬। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: সাইফউদ্দিনের জায়গায় এশিয়ান গেমস দলে আলিস। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: সরকারি হাসপাতালের ১ কিলোমিটারের মধ্যে নতুন ক্লিনিক নয়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: দেখতে ঠিকঠাকই আছে, কোনো বাজে গন্ধও হয়নি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তাহলে কি নিশ্চিন্ত মনে খেয়ে ফেলবেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: একবার কি ভেবে দেখেছেন, প্যাকেটে দেওয়া তারিখ পার হয়ে যাওয়া খাবারটি খাওয়া কতটা নিরাপদ।