অসুস্থ ভাইকে নিয়ে চট্টগ্রাম শহরের এনায়েতবাজার থেকে হাসপাতালে যাচ্ছিলেন মো. সাকিব আমান। সাথে ছিলেন তাঁর মা ও আরেক ভাই। যাত্রাপথে হঠাৎ হোয়াটসঅ্যাপে বাবা মো. আমান উল্লাহর নম্বর থেকে একটি অডিও বার্তা আসে। বার্তাটি চালু করতেই বাবার আতঙ্কিত কণ্ঠস্বর শোনা যায়, ‘আব্বু, আমাদের জাহাজে মিসাইল অ্যাটাক হয়েছে। দোয়া করো, হয়তো আর যোগাযোগ করতে পারব না। আম্মুকে কিছু বলো না, ও ভয় পাবে।’ এই ভয়াবহ খবর শুনে গাড়িতে থাকা তিন ভাই হতবাক হয়ে পড়েন। লাউড স্পিকারে বার্তাটি শোনায় মায়ের কান্নায় ভেঙে পড়া ছাড়া আর কোনো উপায় ছিল না।
ঘটনাটি ঘটে গত বুধবার। ওমান উপকূলে এমভি কেপ দাও নামের একটি বাল্ক ক্যারিয়ার হামলার শিকার হয়। বেলা ১টা ৬ মিনিটে প্রকৌশলী আমান উল্লাহ অডিও বার্তাটি পাঠান। এরপর বেশ কিছু সময় পরিবারের সাথে তাঁর যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন ছিল। আমান উল্লাহ মেরিন ফিশারিজ একাডেমির ১৫তম ব্যাচের সাবেক ক্যাডেট এবং তাঁর ছেলে সাকিব আমান নিজেও বাংলাদেশ মেরিন একাডেমির ৫৩তম ব্যাচের জুনিয়র অফিসার।
বাবা সাকিবকে পরবর্তীতে জানিয়েছেন, ক্ষেপণাস্ত্র দুটি জাহাজের পেছনের দিকে ইঞ্জিন ও আবাসন এলাকার কাছে আঘাত হানে। এতে তাঁর বাবার কেবিন ক্ষতিগ্রস্ত হলেও তিনি তখন নিয়ন্ত্রণকক্ষে দায়িত্বরত থাকায় অলৌকিকভাবে প্রাণে বেঁচে যান। ওমানের সরকারি সংবাদমাধ্যমের তথ্যমতে, মুসান্দাম উপকূল থেকে প্রায় ২৫ নটিক্যাল মাইল দূরে অ্যান্টিগুয়া ও বারবুডার পতাকাবাহী জাহাজটিতে এই হামলার পর আগুন ধরে গিয়েছিল। রয়্যাল নেভি অব ওমানের সহায়তায় ২৭ নাবিককে উদ্ধার করা হয়। টাইমস অব ইন্ডিয়ার ভাষ্যমতে, নিহত নাবিক ভারতীয়। জাহাজে থাকা ২০ জন ভারতীয় নাবিকের মধ্যে ১৯ জনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।
সাকিব আমান জানিয়েছেন, হামলার পরপরই জীবিত নাবিকদের ওমানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তাঁর বাবা বর্তমানে সেখানে নিরাপদে আছেন। শুরুতে সেই অডিও বার্তা শুনে দিশেহারা হয়ে পড়লেও পরে বাবার উদ্ধারের খবরে পরিবারের সদস্যরা কিছুটা স্বস্তি ফিরে পেয়েছেন। তবে সেই কয়েক মিনিটের অনিশ্চয়তা আর আতঙ্কের স্মৃতি এখনো তাদের তাড়া করে ফিরছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: আম্মুকে (সাকিবের মা) এই কথা বলার দরকার নাই। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: কিন্তু মায়ের কাছ থেকে কথাটি আর গোপন রাখা গেল না। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: অডিওটি লাউড স্পিকারে চলায় তিনিও সব শুনে ফেলেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ছেলের ভাষায়, খবরটি শুনেই তাঁর মা হাউমাউ করে কাঁদতে শুরু করেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: জাহাজটি সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে ভারতের দিকে যাওয়ার পথে ওমান উপকূলে হামলার শিকার হয়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: দায়িত্ব পালন করছিলেন নিয়ন্ত্রণকক্ষে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ভারতের টাইম অব ইন্ডিয়া দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, নিহত নাবিক ভারতীয়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: প্রথমে ওই অডিও শোনার পর আমরা কিছুই বুঝতে পারছিলাম না।