রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে পাঁচ দফা প্রস্তাব উপস্থাপন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মঙ্গলবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরের ১১ নম্বর কক্ষে আয়োজিত রোহিঙ্গা সংকটবিষয়ক এক উচ্চপর্যায়ের পার্শ্ব-অনুষ্ঠানে তিনি এ আহ্বান জানান। বাংলাদেশ ও গাম্বিয়ার যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত এই সভায় প্রধানমন্ত্রী রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের জন্য একটি সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ প্রণয়ন, সহিংসতা বন্ধ, মানবিক সহায়তার নিরবচ্ছিন্ন প্রবাহ নিশ্চিতকরণ, জবাবদিহি ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং আন্তঃসীমান্ত অপরাধ মোকাবিলায় আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে মিয়ানমারে জাতিগত বৈষম্য ও নিপীড়নের শিকার হয়ে রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে আশ্রয় নিতে বাধ্য হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী জানান, ১৯৭৮ সাল থেকে ধারাবাহিকভাবে বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের আগমন ঘটছে। তবে ২০১৭ সালে মিয়ানমারে নতুন করে সহিংসতা শুরুর পর পরিস্থিতি চরম আকার ধারণ করে। বর্তমানে বাংলাদেশে প্রায় ১২ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা আশ্রয় নিয়ে আছে, যারা চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। ক্যাম্পগুলোতে নতুন প্রজন্মের জন্ম হওয়ায় দীর্ঘস্থায়ী বাস্তুচ্যুতির জটিলতা আরও বাড়ছে।
বাংলাদেশ মানবিক বিবেচনায় সীমান্ত খুলে দিলেও দীর্ঘমেয়াদে এই বিশাল জনগোষ্ঠীর দায়ভার বহন করা সম্ভব নয় বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। বর্তমানে ক্যাম্পগুলোতে খাবার, স্বাস্থ্যসেবা এবং প্রায় ৬ হাজার লার্নিং সেন্টারের মাধ্যমে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। তরুণদের দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে তাদের ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত করার চেষ্টা করা হলেও, এই জায়গা দীর্ঘমেয়াদী বসবাসের উপযোগী নয়। স্থানীয় জনগোষ্ঠীর ওপর এর সামাজিক, পরিবেশগত ও অর্থনৈতিক চাপ দিন দিন বাড়ছে। এছাড়া মানবপাচার, মাদক ব্যবসা ও অবৈধ অভিবাসনের মতো আন্তঃসীমান্ত অপরাধ স্থানীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
মানবিক সহায়তার বর্তমান সংকট নিয়েও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। ২০২৫ সালের যৌথ সাড়াদান পরিকল্পনায় (জেআরপি) সহায়তার পরিমাণ কমিয়ে ৭১০ মিলিয়ন ডলারে নামিয়ে আনা হয়েছে, যা কেবল জীবনরক্ষার জন্য পর্যাপ্ত। প্রধানমন্ত্রী স্পষ্টভাবে বলেন, মানবিক সহায়তার উদারতাকে রাজনৈতিক নিষ্ক্রিয়তার অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না। মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী এবং আরাকান আর্মির বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ থাকায় সেখানে এখনো প্রত্যাবাসনের উপযোগী পরিবেশ তৈরি হয়নি বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ খবরের মধ্যে রয়েছে, অস্তিত্বহীন প্রতিষ্ঠানের নামে ৩৬৩ টন সিগারেটের কাঁচামাল খালাস করার ঘটনায় প্রায় ২,৪৫০ কোটি টাকা রাজস্ব ক্ষতি হয়েছে। বারিধারায় গাড়িচাপা দেওয়ার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় গতকাল আটক সেই কিশোরের নাম নেই। এছাড়া, ফুটবল তারকা রোনালদো অবসর গ্রহণের চিন্তা বাদ দিয়ে ১,০০০ গোল করার লক্ষ্যে মাঠ মাতাচ্ছেন। অন্যদিকে, দেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতির অবনতি অব্যাহত রয়েছে; মৃতের সংখ্যা ২০০ ছাড়িয়ে গেছে এবং গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ১,৮৬৬ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধানে প্রধানমন্ত্রীর ৫ দফা প্রস্তাব। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: অস্তিত্বহীন প্রতিষ্ঠানের নামে ৩৬৩ টন সিগারেটের কাঁচামাল খালাস, ২৪৫০ কোটি টাকা রাজস্ব ক্ষতি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ডেঙ্গুতে মৃত্যু ২০০ ছাড়াল, ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ১৮৬৬। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ১৯৮০-এর দশকেও দেশটি রোহিঙ্গাদের কয়েকটি বড় দফার আগমন প্রত্যক্ষ করেছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তৎকালীন বিভিন্ন সরকারের আমলে কিছু রোহিঙ্গাকে প্রত্যাবাসনের ব্যবস্থাও করা হয়েছিল। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তবে ২০১৭ সালে মিয়ানমারে নতুন করে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়লে পরিস্থিতির আরও মারাত্মক অবনতি ঘটে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: উপরন্তু, মিয়ানমারে চলমান সহিংসতার কারণে এখনো মানুষ সেখান থেকে পালিয়ে আসছে।