যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে কঠোর নিষেধাজ্ঞার হুঁশিয়ারি সত্ত্বেও ইরানের মাহান এয়ারের একটি যাত্রীবাহী উড়োজাহাজ চীনের গুয়াংজু বাইয়ুন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেছে। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) ফ্লাইট ট্র্যাকিং ওয়েবসাইট ফ্লাইটরাডার২৪-এর তথ্যের বরাতে এ খবর প্রকাশ পায়। তবে বিস্ময়কর বিষয় হলো, গুয়াংজু বিমানবন্দরের নিজস্ব অফিসিয়াল ওয়েবসাইটের তথ্য তালিকায় এই ফ্লাইটের কোনো উল্লেখ পাওয়া যায়নি। ফলে ফ্লাইটটির অবতরণ ঘিরে এক ধরনের রহস্য ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
চলতি সপ্তাহে মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট এক সতর্কবার্তায় বলেছেন, যদি কোনো দেশ ইরানি উড়োজাহাজকে অবতরণ-সংক্রান্ত সেবা প্রদানের সুযোগ দেয়, তবে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এর অংশ হিসেবে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোকে মার্কিন ডলারভিত্তিক আর্থিক ব্যবস্থার বাইরে ঠেলে দেওয়ার মতো পদক্ষেপ নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি। যদিও এই নিষেধাজ্ঞাগুলো ঠিক কীভাবে বা কতটুকু পরিসরে কার্যকর করা হবে, সে সম্পর্কে এখনো স্পষ্ট কোনো রূপরেখা প্রকাশ করেনি মার্কিন প্রশাসন।
মাহান এয়ার ইতিমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘমেয়াদী নিষেধাজ্ঞার তালিকায় রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে চীনের বিমানবন্দরে তাদের একটি উড়োজাহাজের উপস্থিতি আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও ভূ-অর্থনীতিতে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ইরানের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের তথ্যানুযায়ী, আঞ্চলিক পরিস্থিতির জেরে বুধবার থেকে তেহরান থেকে বাগদাদ, মাসকাট ও আঙ্কারাগামী বেশ কিছু ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে উড়োজাহাজের যন্ত্রাংশ সংগ্রহ ও রক্ষণাবেক্ষণের মতো মৌলিক কাজগুলো সম্পন্ন করতেও হিমশিম খাচ্ছে দেশটি।
দীর্ঘদিন ধরে মার্কিন অবরোধের কবলে থাকা ইরানের জন্য আন্তর্জাতিক বিমান যোগাযোগ বজায় রাখা বেশ চ্যালেঞ্জিং হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, চীনের মাটিতে মাহান এয়ারের এই অবতরণ কেবল একটি সাধারণ ফ্লাইট পরিচালনার বিষয় নয়, বরং এটি মার্কিন নিষেধাজ্ঞা এবং দুই দেশের মধ্যকার ক্রমবর্ধমান বিমান যোগাযোগ ও কূটনৈতিক সম্পর্কের প্রতিফলন। তবে বিমানবন্দরের তথ্য এবং ফ্লাইট ট্র্যাকিং সিস্টেমের মধ্যকার তথ্যের এই অসংগতি ঘটনার পূর্ণাঙ্গ চিত্র এখনো অস্পষ্ট রেখেছে, যা ভবিষ্যতে বড় ধরনের কূটনৈতিক উত্তেজনার ইঙ্গিত দেয়।