রাজধানীতে ককটেল বিস্ফোরণের মতো নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড নিয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর বিতর্কিত মন্তব্যের বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। শুক্রবার বিকেলে মিন্টো রোডে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি নিয়ে কথা বলেন ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার তোফায়েল আহমেদ মিয়া। তিনি স্পষ্টভাবে জানান, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর দেয়া বক্তব্যের প্রেক্ষাপটে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন। অন্যথায় এমন সংবেদনশীল মন্তব্যের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়। তবে তাকে ঠিক কবে নাগাদ ডাকা হবে বা পুলিশি প্রক্রিয়ার পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে, তা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত নেবে বলে তিনি জানান। শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। তবে পুলিশ পাটওয়ারীকে জিজ্ঞাসাবাদ করবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এটা আসলে আমি এখন বলতে পারব না।
এর আগে বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বও পাটওয়ারীর এই মন্তব্যের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়ে আসছিলেন। সম্প্রতি পাটওয়ারী সাংবাদিকদের সামনে দাবি করেন যে, তাদের তিনটি দাবি মানা না হলে ঢাকা শহরে ককটেল বিস্ফোরণ চলতেই থাকবে। তার দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে জুলাই মাসের ঘটনাবলির বিচার, আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করা এবং গণভোটের রায় বাস্তবায়ন। তবে তার এই মন্তব্যের সাথে বর্তমানে উদ্ধার হওয়া বিস্ফোরক ও নাশকতার পরিকল্পনার সরাসরি কোনো সম্পৃক্ততা আছে কি না, তা নিয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো প্রমাণ পুলিশের হাতে নেই।
সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থেকে বিপুল পরিমাণ নাশকতার সরঞ্জাম উদ্ধারের বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরে। গত ১৯ সেপ্টেম্বর যাত্রাবাড়ী থানার সামনে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় পুলিশের কয়েকটি থানা সম্মিলিতভাবে তদন্ত শুরু করে। এরই ধারাবাহিকতায় জাহিদ হাসান ইমন নামে একজনকে শনাক্ত করা হয়। শুক্রবার ভোরে শ্যামপুর মডেল থানা ও স্থানীয় পুলিশের যৌথ অভিযানে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের বাগাশুর এলাকা থেকে ইমনকে গ্রেপ্তার করা হয়। ওই ঘটনার তদন্তে যাত্রাবাড়ী, শ্যামপুরসহ সংশ্লিষ্ট থানার পুলিশ সমন্বিতভাবে কাজ শুরু করে।
ইমনের দেয়া তথ্য অনুযায়ী পুলিশ তার আস্তানা থেকে দেড় কেজি কস্টিক সোডা, ১ কেজি ৬০০ গ্রাম সালফার, ৫ কেজি মারবেল এবং ককটেল মোড়ানোর কাজে ব্যবহৃত বিপুল পরিমাণ লাল ও কালো কসটেপ উদ্ধার করে। এছাড়াও ২ কেজি পরিমাণ ১ ইঞ্চি তারকাঁটা ও ককটেল তৈরির উপাদান গুঁড়ো করার জন্য ব্যবহৃত একটি জার ও ব্লেন্ডার জব্দ করা হয়েছে।
নাশকতার প্রস্তুতি হিসেবে বিপুল পরিমাণ সামগ্রী উদ্ধারের পাশাপাশি পুলিশ ৯ হাজার কাগজের মুখোশ ও সেগুলো পরার জন্য ৩০ প্যাকেট ইলাস্টিক উদ্ধার করেছে। ইমনের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশ জানতে পেরেছে, লালবাগের এক রাজনৈতিক নেতার মাধ্যমে অজ্ঞাত এক ভ্যানচালকের সহায়তায় এই মুখোশগুলো তার কাছে পৌঁছেছিল। পরে বিভিন্ন নেতা-কর্মীদের মধ্যে বিতরণের উদ্দেশ্যে সেগুলো তার বাসায় মজুত করা হয়েছিল।
পুলিশের রেকর্ড অনুযায়ী, ইমনের বিরুদ্ধে শাহবাগ ও লালবাগ থানায় আরও দুটি মামলা চলমান রয়েছে। বর্তমানে উদ্ধারকৃত সরঞ্জাম ও ইমনের জবানবন্দির ভিত্তিতে নাশকতার মূল হোতাদের খোঁজে তদন্ত অব্যাহত রেখেছে পুলিশ। পাটওয়ারীর মন্তব্যের বিষয়টি তদন্তের স্বার্থে অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা হচ্ছে বলে জানান ডিএমপি কর্মকর্তারা।