নেত্রকোনার সদর উপজেলার ঢুকিয়ালি নদের পাড় থেকে নাজু আক্তার (৩৫) নামের এক নারীর মাটিচাপা দেওয়া মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিখোঁজ হওয়ার ছয় দিন পর গত শুক্রবার সন্ধ্যায় উদ্ধার অভিযান চালিয়ে মরদেহটি বের করে আনা হয়। এই ঘটনায় নাজু আক্তারের সাবেক স্বামী নুরুল আমিনকে (৪০) জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে পুলিশ। পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে নুরুল আমিন হত্যার দায় স্বীকার করে জানিয়েছেন যে, তিনি নিজেই ওই নারীকে নদীর পাড়ে মাটিচাপা দিয়ে রেখেছিলেন। আজ সকালে তিনি মুঠোফোনে বলেন, আসামির স্বীকারোক্তি অনুযায়ী মাটি খুঁড়ে ওই নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নাজু আক্তার ও নুরুল আমিনের প্রায় ১৪ বছর আগে বিয়ে হয়েছিল। তাদের সংসারে দুটি সন্তান রয়েছে। তবে গত আড়াই বছর আগে দ্বিতীয় সন্তান জন্মের পরবর্তী সময়ে দুই দফায় তাদের বিবাহবিচ্ছেদ সম্পন্ন হয়। বিচ্ছেদের সময় দেনমোহর বাবদ দুই লাখ টাকা পরিশোধ করলেও পরবর্তী সময়ে নাজু আক্তার খোরপোশ ও ধর্ষণের অভিযোগে সাবেক স্বামীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। এই মামলা নিষ্পত্তির জন্য তিনি পাঁচ লাখ টাকা দাবি করেছিলেন বলে জানা গেছে।
ঘটনার ধারাবাহিকতায় গত ১৯ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় জেলা শহরে কীটনাশক কিনতে গিয়ে নাজু আক্তারের সঙ্গে নুরুল আমিনের দেখা হয়। এসময় টাকা নিয়ে তাদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি ও মুঠোফোন নিয়ে টানাহেঁচড়ার ঘটনা ঘটে। স্থানীয়রা সে সময় তাদের শান্ত করলেও রাত সাড়ে ১০টার দিকে টাকা দেওয়ার কথা বলে ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেলে নাজুকে নিয়ে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হন নুরুল। পথিমধ্যে খাটপুড়া সেতুর কাছে পুনরায় বাগবিতণ্ডার একপর্যায়ে নুরুল নাজুর বুকে ঘুষি মারেন, এতে তিনি মাটিতে পড়ে যান। পরে ওড়না দিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা নিশ্চিত করেন নুরুল এবং নদীর পাড়ে গর্ত করে মরদেহ মাটিচাপা দেন। মোটরসাইকেলচালক তাঁদের সেখানে রেখে চলে যান।
নাজু আক্তার বাড়ি না ফেরায় ২২ সেপ্টেম্বর তার ছোট ভাই মো. শুভ নেত্রকোনা মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছিলেন। সেই জিডির সূত্র ধরে তদন্ত শুরু করে পুলিশ নুরুল আমিনকে শনাক্ত ও আটক করে। নেত্রকোনা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল খায়ের জানিয়েছেন, আসামির দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং ঘটনার প্রেক্ষিতে আইনানুগ পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে।