কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভের রামু উপজেলার হিমছড়ি এলাকায় রোববার বিকেলে একটি পর্যটকবাহী খোলা জিপগাড়ি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাছের সঙ্গে সজোরে ধাক্কা খায়। এ ঘটনায় ঢাকার মহাখালীর রসুলবাগ এলাকার বাসিন্দা ঠিকাদারি ব্যবসায়ী হাবিবুর রহমান (৪৫) ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান। দুর্ঘটনাকবলিত গাড়িটিতে থাকা তাঁর স্ত্রী শারমিন ও ছেলে সাফওয়ানসহ মোট ১৩ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। ঘটনার পর স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক হাবিবুর রহমানকে মৃত ঘোষণা করেন। আহতদের সেখানেই প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। তিনি ঠিকাদারি ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
পুলিশ ও ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, রাজধানীর বাসিন্দা এই ১৪ সদস্যের দলটি রোববার বিকেল চারটার দিকে কক্সবাজার শহরের সুগন্ধা পয়েন্ট থেকে ওই জিপগাড়িটি ভাড়া নেন। তাদের পরিকল্পনা ছিল মেরিন ড্রাইভ ধরে প্রায় ২৭ কিলোমিটার দূরে উখিয়ার ইনানী সৈকতে বেড়াতে যাওয়ার। কিন্তু যাত্রা শুরুর মাত্র ৯ কিলোমিটার পার হওয়ার পরই বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে হিমছড়ি বাজারের কাছে গাড়িটি নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়ে এবং রেজুখাল এলাকায় সড়কের পাশের একটি গাছে আঘাত করে চুরমার হয়ে যায়।
দুর্ঘটনার কবলে পড়া যাত্রীদের একজন অভিযোগ করেন, ভাড়া নেওয়ার পর থেকেই চালক গাড়িটি বেপরোয়া গতিতে চালাচ্ছিলেন। পরিবারের পক্ষ থেকে বেশ কয়েকবার গতি কমিয়ে সতর্কভাবে চালানোর অনুরোধ করা হলেও চালক তাতে কর্ণপাত করেননি। শেষ পর্যন্ত অতিরিক্ত গতির কারণেই গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। কয়েকবার গাড়ির গতি কমানোর জন্য সতর্ক করা হলেও চালক তা আমলে নেননি।
এ বিষয়ে রামু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এ কে ফজলুল হক জানান, খবর পাওয়ার পরপরই হিমছড়ি ফাঁড়ির পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার তৎপরতা চালায়। কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শেখ মোহাম্মদ আলী জানিয়েছেন, দুর্ঘটনাকবলিত গাড়িটির কোনো বৈধ লাইসেন্স ছিল না, সেটিকে ইতিমধ্যে জব্দ করা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে ময়নাতদন্ত ছাড়াই নিহত হাবিবুর রহমানের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। রোববার রাত সাড়ে ১২টার দিকে আহত পর্যটক ও নিহত ব্যক্তির মরদেহ নিয়ে অ্যাম্বুলেন্স ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয়।