হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বর্তমান সক্ষমতা এবং স্লট ব্যবস্থাপনার সীমাবদ্ধতার কারণে সৌদি এয়ারলাইনস ফ্লাইদিলের অতিরিক্ত ফ্লাইট পরিচালনার অনুরোধ এখনই বিবেচনা করা যাচ্ছে না। বৃহস্পতিবার ১ অক্টোবর সচিবালয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত সৌদি রাষ্ট্রদূত আবদুল্লাহ ইবনে দাফের ইবনে উবাইয়ার নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠকে এ কথা জানান বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত। তবে বিকল্প প্রস্তাব হিসেবে চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সরাসরি দাম্মাম রুটে ফ্লাইট চালুর সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেছেন মন্ত্রী।
বৈঠকে দুই দেশের আকাশপথে যোগাযোগ, পর্যটন এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট নানা বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। মন্ত্রী জানান, বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ভিত্তিতে বেসামরিক বিমান চলাচল খাতে সহযোগিতা বৃদ্ধির ব্যাপক সুযোগ রয়েছে। দুই দেশের মধ্যে সাপ্তাহিক ফ্লাইটের সংখ্যা বাড়ানোর লক্ষ্যে সৌদি জেনারেল অথোরিটি অব সিভিল অ্যাভিয়েশনের সঙ্গে ইতিমধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে বলে তিনি নিশ্চিত করেন। হজ মৌসুম সামনে রেখে বাংলাদেশের বিমানবন্দরগুলোর প্রস্তুতি সরেজমিনে পরিদর্শনের বিষয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়।
হজযাত্রী পরিবহনের বিষয় নিয়ে আলোচনায় ১৩ জুলাই অনুষ্ঠিত গত বৈঠকের ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশি হজযাত্রীদের ওপর আরোপিত অতিরিক্ত কর ও চার্জ কমানোর আহ্বান জানান মন্ত্রী। এছাড়া ২০২৭ সালের হজ কার্যক্রম নিয়ে বৈঠকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। আগামী বছরের ২৮ মার্চ থেকে ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত ঢাকা-জেদ্দা-ঢাকা রুটে প্রতিদিন তিনটি ফ্লাইট পরিচালনার জন্য বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস ইতিমধ্যে সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছে স্লটের আবেদন করেছে। হজ ফ্লাইটের সময়সূচি দ্রুত চূড়ান্ত করার লক্ষ্যে সৌদি রাষ্ট্রদূতের সহযোগিতা চেয়েছেন মন্ত্রী। গত ১৩ জুলাইয়ের বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছিল উল্লেখ করে মন্ত্রী দ্রুত সমাধানের জন্য সৌদি কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা কামনা করেন।
এয়ার সার্ভিস অ্যাগ্রিমেন্ট নিয়ে মন্ত্রী জানান, বর্তমানে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ চুক্তির খসড়া তৈরির কাজ করছে। এটি চূড়ান্ত হলে পরবর্তী আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু করা হবে। এছাড়া হজ মৌসুমের প্রস্তুতি পর্যবেক্ষণের জন্য সৌদি জেনারেল অথোরিটি অব সিভিল অ্যাভিয়েশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট আলী মোহাম্মদ রাজাবের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদলের ঢাকা সফরের আগ্রহের বিষয়টিও সভায় আলোচিত হয়। উভয় পক্ষই বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যে বিমান যোগাযোগ ও পর্যটন শিল্পের প্রসারে পারস্পরিক সহযোগিতার ওপর জোর দিয়েছে।