হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অত্যাধুনিক এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল টাওয়ার ও পূর্ণাঙ্গ রাডার ব্যবস্থা স্থাপনের মাধ্যমে বাংলাদেশের আকাশসীমা ব্যবস্থাপনায় এক নতুন যুগের সূচনা হয়েছে। ফ্রান্সের প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান থেলসের সহযোগিতায় সরকারি উদ্যোগে প্রায় ৯৪২ কোটি টাকা ব্যয়ে এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছে। বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের নিজস্ব অর্থায়নে নির্মিত এই প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থার ফলে দেশের আকাশসীমায় বিদেশি উড়োজাহাজ শনাক্তকরণ এবং সার্বিক নজরদারি প্রক্রিয়ায় সক্ষমতা আগের চেয়ে বহুলাংশে বৃদ্ধি পেয়েছে।
প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতার কারণে এতদিন বঙ্গোপসাগর সংলগ্ন আকাশসীমার বড় একটি অংশে কার্যকর নজরদারি চালানো সম্ভব হতো না, যার ফলে সব উড়োজাহাজের চলাচল ও যথাযথ ওভারফ্লাই ফি আদায় নিয়ে জটিলতা ছিল। নতুন এয়ার ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট এবং নেভিগেশন ও সার্ভেইল্যান্স ব্যবস্থার ফলে সেই সংকট এখন দূর হয়েছে। চলতি বছরের এপ্রিল মাসে আনুষ্ঠানিকভাবে এই আধুনিক টাওয়ার ও রাডার ব্যবস্থা কার্যক্রম শুরু করে। এর সুফল হিসেবে বর্তমানে বিদেশি উড়োজাহাজগুলোর ওপর নিবিড় তদারকি নিশ্চিত করা যাচ্ছে, যা দেশের আকাশ নিরাপত্তার পাশাপাশি রাজস্ব আহরণের পথকেও প্রশস্ত করেছে।
আর্থিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এই প্রযুক্তি চালুর পর থেকে সরকারি রাজস্ব আদায়ের হার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে কেবল ওভারফ্লাই ফি থেকেই আয় হয়েছে ৮০৫ কোটি টাকারও বেশি। এর মধ্যে অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে আয় ছিল ৩৩৮ কোটি টাকার কিছু বেশি। তবে নতুন রাডার ও কন্ট্রোল সিস্টেম পুরোপুরি কার্যকর হওয়ার পরবর্তী ছয় মাসে আয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৪১৬ কোটি টাকায়। সংশ্লিষ্টদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই আধুনিক ব্যবস্থা চালু হওয়ার পর প্রতি মাসে গড়ে ৭০ থেকে ৮০ কোটি টাকা রাজস্ব জমা হচ্ছে সরকারি কোষাগারে। এর মধ্যে অর্থবছরের প্রথম ছয় মাস, অর্থাৎ জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত আয় ছিল ৩৩৮ কোটি টাকার বেশি। একই সঙ্গে ওভারফ্লাই ফি আদায়ের ক্ষেত্রেও এসেছে উল্লেখযোগ্য সাফল্য।
ভৌগোলিক দিক থেকে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক রুটে উড়োজাহাজ চলাচলের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি অবস্থানে রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, আকাশসীমা ব্যবস্থাপনায় এই আধুনিক প্রযুক্তির অন্তর্ভুক্তি নিরাপত্তা জোরদারের পাশাপাশি জাতীয় অর্থনীতিতে দীর্ঘমেয়াদী ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। পুরোনো সীমিত সক্ষমতার রাডারের পরিবর্তে বর্তমানের এই আধুনিক ব্যবস্থা উড়োজাহাজ শনাক্তকরণে যেমন স্বচ্ছতা এনেছে, তেমনি আন্তর্জাতিক মানের সক্ষমতা অর্জনে বাংলাদেশকে অনেক দূর এগিয়ে নিয়েছে।