দলীয় পরিচয়ে বসানো হয়েছে বলেই এলাকার মানুষের চেয়ে দলের লোকজনকেই বেশি প্রাধান্য দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন চুয়াডাঙ্গা জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. শরীফুজ্জামান। সম্প্রতি দামুড়হুদা উপজেলার জুড়ানপুর ইউনিয়নে একটি ফুটবল টুর্নামেন্টের পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। আয়োজিত অনুষ্ঠানে জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শফিকুল ইসলামসহ দলের বিভিন্ন স্তরের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। এই এলাকার মানুষ আমাদেরকে চায় না।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ৫১ সেকেন্ডের একটি ভিডিও ক্লিপে শরীফুজ্জামানকে বলতে শোনা যায়, ‘আমরা নির্বাচিত প্রতিনিধি নই, দল আমাদের এই চেয়ারে বসিয়েছে। তাই এলাকার মানুষের চেয়ে দলীয় লোকজনকে প্রাধান্য দেব।’ তিনি আরও স্পষ্ট করেন যে, দলের নেতা-কর্মীদের বাইরে জেলা পরিষদ থেকে কোনো ধরনের অনুদান দেওয়া হবে না। এমনকি যেকোনো উন্নয়ন প্রকল্পে জেলা পরিষদের অনুদান পেতে হলে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন বা ওয়ার্ড কমিটির সভাপতি ও সম্পাদকের সুপারিশ থাকা বাধ্যতামূলক বলেও তিনি উল্লেখ করেন। ‘আপনারা একটা জিনিস মনে রাখবেন, আমরা নির্বাচিত প্রতিনিধি না।
উল্লেখ্য যে, সদ্য সমাপ্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চুয়াডাঙ্গা-১ আসনে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শরীফুজ্জামান জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ও জেলা কমিটির সহকারী সেক্রেটারি মাসুদ পারভেজ রাসেলের কাছে পরাজিত হয়েছিলেন। একই নির্বাচনে চুয়াডাঙ্গা-২ আসনে জেলা বিএনপির সভাপতি মাহমুদ হাসান খান জামায়াতের জেলা আমির রুহুল আমীনের কাছে পরাজিত হন।
বক্তব্যের বিষয়ে জানতে মুঠোফোনে শরীফুজ্জামানের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। তবে একই অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকা জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শফিকুল ইসলাম বিষয়টি ব্যাখ্যা করে বলেন, একটি মহল অনৈতিক সুবিধা না পেয়ে নেতার বক্তব্যের খণ্ডিত অংশ প্রচার করেছে। তিনি জেলা বিএনপির পক্ষ থেকে এই ধরনের অপচেষ্টার নিন্দা জানান।