আড়াই বছর পর বাসের হেলপার নিহতের ঘটনায় কাভার্ড ভ্যানচালক গ্রেপ্তারকাওসার আহমেদ, গাজীপুরগাজীপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় বাসের হেলপার সুজন মিয়া নিহত হওয়ার ঘটনায় আড়াই বছর পর কাভার্ড ভ্যানচালককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। গ্রেপ্তার হওয়া মো. রাশেদ (২২) আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলে জানিয়েছে পিবিআই।গত রোববার (৪ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে পাঁচটার দিকে ঢাকার সাভার থানার কলমা এলাকার উইন্টার গার্মেন্টসের সামনে থেকে রাশেদকে গ্রেপ্তার করা হয়। সোমবার (৫ অক্টোবর) তাঁকে আদালতে হাজির করা হলে তিনি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।পিবিআই জানায়, ২০২৪ সালের ২৪ জুন ভোর পাঁচটার দিকে অনন্যা ক্লাসিক পরিবহনের বাসে করে কিশোরগঞ্জ থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন সুজন মিয়া (২৫)। সকাল সাতটার দিকে বাসটি গাজীপুরের রাজেন্দ্রপুরে হোটেল এক্সের কাছে ইউটার্ন এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি কাভার্ড ভ্যান বাসটির সামনের অংশে সজোরে ধাক্কা দেয়।এ সময় বাসের বাম পাশের দরজার কাছে দাঁড়িয়ে থাকা হেলপার সুজন গুরুতর আহত হন। পরে যাত্রীরা তাঁকে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। দুর্ঘটনায় বাস ও কাভার্ড ভ্যান দুটিই ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে সড়কের ওপর উল্টে পড়ে। এ সময় কাভার্ড ভ্যানের চালক রাশেদ ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান।ঘটনার পর সুজনের স্ত্রী সানজিদা আক্তার মিম বাদী হয়ে গাজীপুর মহানগরের সদর থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা করেন। মামলাটি প্রথমে সদর থানা পুলিশ তদন্ত করে আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেয়।পরে আদালতের নির্দেশে চলতি বছরের ৯ এপ্রিল মামলাটির তদন্তভার পায় পিবিআই গাজীপুর জেলা। তদন্তে তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে রাশেদের অবস্থান শনাক্ত করা হয়। এরপর বিশেষ তদন্ত দলের সদস্যরা তাঁকে গ্রেপ্তার করেন।পিবিআই গাজীপুর জেলার পুলিশ সুপার মো. রকিবুল আক্তার বলেন, নিরাপদ সড়ক ও সড়ক ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে ট্রাফিক পুলিশের পাশাপাশি যানবাহনের মালিক, শ্রমিক ও সাধারণ নাগরিকদের সচেতন হওয়া প্রয়োজন। সড়কে এ ধরনের মৃত্যু কারও কাম্য নয়।তিনি আরো বলেন, গ্রেপ্তার রাশেদকে আইন অনুযায়ী আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। মামলাটির তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। ঘটনার অন্যান্য দিক ও আলামতও যাচাই করা হচ্ছে।