জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার আওলাই ইউনিয়নের শিরতা গ্রামে এক কৃষকের বাড়িতে অভিযান চালিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। গতকাল সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কাশপিয়া তাসরিনের নেতৃত্বে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে ওই কৃষকের বাড়ি থেকে মোট ৭৫ বস্তা ও অর্ধেক বস্তা সার পাওয়া যায়। এর মধ্যে বৈধ রসিদ দেখাতে না পারায় ৫৪ বস্তা সার জব্দ করা হয়েছে। অভিযান শেষ হতে রাত হয়ে যাওয়ায় জব্দ করা সার বিক্রি করা সম্ভব হয়নি।
অভিযানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মল্লিকা রানী সেহানবীশ, অতিরিক্ত কৃষি কর্মকর্তা মেহেদী হাসান এবং কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা জহির রায়হানসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। জব্দ করা ৫৪ বস্তা সারের মধ্যে রয়েছে ১২ বস্তা টিএসপি, ২০ বস্তা এমওপি, ১৯ বস্তা ডিএপি এবং তিন বস্তা ইউরিয়া। তবে কৃষক রমজান ২১ বস্তা সারের বৈধ মেমো বা কাগজপত্র দেখাতে সক্ষম হয়েছেন, যে কারণে সেই সারগুলো বাদ দেওয়া হয়েছে। বাকি ৫৪ বস্তার কোনো বৈধ কাগজপত্র দেখাতে না পারায় সেগুলো জব্দ করা হয়।
কৃষক রমজানের দাবি, সামনে আলুর মৌসুমের আগে সারের সংকট দেখা দিতে পারে—এমন আশঙ্কা থেকেই তিনি আগেভাগে এসব সার কিনে মজুত করেছিলেন। নিজের আবাদি জমিতে ব্যবহারের উদ্দেশ্যেই তিনি সারগুলো সংগ্রহ করেছিলেন বলে জানান। এ ঘটনার জন্য ভ্রাম্যমাণ আদালত ওই কৃষককে পাঁচ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দিয়েছেন। অভিযানে উদ্ধার হওয়া সারগুলো রাতে পাঁচবিবি থানার হেফাজতে নেওয়া হয় বলে জানিয়েছেন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তামবিরুল ইসলাম।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাশপিয়া তাসরিন জানান, জব্দ করা এই সার স্থানীয় কৃষকদের কাছে ন্যায্য মূল্যে বিক্রি করা হবে। এই বিক্রি থেকে প্রাপ্ত অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হবে। কৃষি কর্মকর্তা মল্লিকা রানী সেহানবীশ নিশ্চিত করেছেন যে, যেসব সারের বৈধ রসিদ ছিল না, কেবল সেগুলোই আইন অনুযায়ী জব্দ করা হয়েছে। স্থানীয় পর্যায়ে সারের মজুত নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত তদারকি অব্যাহত রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।