দীর্ঘদিনের বিরতি পেরিয়ে ইরানের সঙ্গে আবারও সরাসরি বিমান যোগাযোগ শুরু করতে যাচ্ছে ইরাক। দেশটির জাতীয় বিমান সংস্থা ইরাকি এয়ারওয়েজ আগামী ৮ অক্টোবর থেকে ইরানের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ শহর—তেহরান, মাশহাদ ও ইসফাহানে নিয়মিত সরাসরি বাণিজ্যিক ফ্লাইট পরিচালনার ঘোষণা দিয়েছে। ইরাকের নাজাফ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে প্রতিদিন এই গন্তব্যগুলোতে ফ্লাইটগুলো যাতায়াত করবে। দুই দেশের সাধারণ যাত্রী চলাচল সহজ করার পাশাপাশি দ্বিপক্ষীয় এভিয়েশন যোগাযোগ আরও জোরদার করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এর আগে, গত ২৯ সেপ্টেম্বর ইরাকের পরিবহন মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল যে ইরানের বিভিন্ন গন্তব্যে পুনরায় ফ্লাইট চালু করার জন্য প্রয়োজনীয় কারিগরি ও আইনি প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে মার্কিন প্রশাসনের কাছ থেকে বিশেষ ছাড়পত্র পাওয়ায় ইরাকি এয়ারওয়েজের জন্য ফ্লাইট পরিচালনার পথ সুগম হয়। চলতি বছরের মার্চের শুরুতে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে সামরিক ও ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা বৃদ্ধির কারণে নিরাপত্তার স্বার্থে ইরানের সঙ্গে আকাশপথের যোগাযোগ স্থগিত করেছিল ইরাক। পরবর্তীতে গত ২৩ সেপ্টেম্বর ইরানি বিমান সংস্থাগুলোও সাময়িকভাবে ইরাকে তাদের নির্ধারিত ফ্লাইট পরিচালনা বন্ধ করে দেয়।
এদিকে গত ২ অক্টোবর ইরাকের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে জানানো হয়, মার্কিন নিষেধাজ্ঞার তালিকায় থাকা ‘মহান এয়ার’ বাদে ইরানের অন্যান্য বিমান সংস্থাগুলো নাজাফ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রতিদিন অন্তত ৪০টি ফ্লাইট পরিচালনা করতে পারবে। ২০১১ সাল থেকে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের কুদস ফোর্সকে আর্থিক ও কারিগরি সহায়তার অভিযোগে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কবলে রয়েছে মহান এয়ার। তবে অন্য বিমান সংস্থাগুলোর ক্ষেত্রে এই নিষেধাজ্ঞা না থাকায় দুই দেশের আকাশপথের যোগাযোগ দ্রুত স্বাভাবিক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলী আল-জাইদি যুক্তরাষ্ট্রের এই ইতিবাচক সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি এক বিবৃতিতে উল্লেখ করেন, এই পদক্ষেপের ফলে ধর্মীয় তীর্থযাত্রা, উন্নত চিকিৎসা এবং পর্যটনের উদ্দেশ্যে দুই দেশের মধ্যে নিয়মিত যাতায়াতকারী সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ কমবে। সরাসরি বিমান যোগাযোগ পুনরায় শুরু হওয়ার মাধ্যমে দুই প্রতিবেশী দেশের ধর্মীয়, সামাজিক ও বাণিজ্যিক যাতায়াতে নতুন গতির সঞ্চার হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।