1. admin@ajkerbasundhara.com : admin :
বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:০৮ অপরাহ্ন
শিরোনাম

শাহজালাল বিমানবন্দরে সোনা চোরাচালান

স্টাফ রিপোর্টার
  • প্রকাশ : বুধবার, ৭ অক্টোবর, ২০২৬

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সোনা চোরাচালানের একটি বড় রুটে পরিণত হয়েছে। নিয়মিত বড় বড় চালান আটক হওয়া সত্ত্বেও চোরাচালান যেন থামছেই না। কাস্টমস কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, মাত্র চার মাসের ব্যবধানে এই বিমানবন্দর থেকে প্রায় ১৭০ কোটি টাকার সোনা উদ্ধার করা হয়েছে। গত পাঁচ বছরে মোট দুই হাজার কেজি সোনা জব্দ করার তথ্য পাওয়া গেছে। চলতি সপ্তাহেও টানা কয়েকদিন অভিযান চালিয়ে সোনা উদ্ধার করা হয়েছে। ভ্যাকুয়াম ক্লিনার, ল্যাপটপের ব্যাটারি, ট্রলির হাতল, মানিব্যাগ, জুতা, শার্টের কলার, হুইলচেয়ার ও বিভিন্ন সরঞ্জামের ভেতরেও সোনা লুকানোর নজির রয়েছে। চক্রগুলো বিভিন্ন দেশে অবস্থান করে বাংলাদেশে থাকা সহযোগীদের মাধ্যমে চালান গ্রহণ ও বিতরণ করে থাকে।

চোরাকারবারিরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ এড়াতে প্রতিনিয়ত কৌশল পরিবর্তন করছে। তারা ফলের ক্যারেট, বিমানের টয়লেট, যাত্রী ও তাদের লাগেজ, এমনকি ইলেকট্রনিক যন্ত্রের ভেতরে সোনা লুকিয়ে আনছে। অসাধু কিছু কর্মীর সহায়তা ছাড়া বিমানবন্দরের মতো সুরক্ষিত এলাকায় এমন বড় চালান নিয়মিত প্রবেশ করা অসম্ভব বলে মনে করা হচ্ছে। দুবাই সোনা চোরাচালানের প্রধান উৎস হিসেবে চিহ্নিত হলেও সৌদি আরব, কাতার, কুয়েত ও ওমান থেকেও নিয়মিত চালান আসছে বলে গোয়েন্দা তথ্যে জানা গেছে। কখনো যাত্রীকে, আবার কখনো বিমানবন্দরের সংশ্লিষ্ট কর্মীদেরও বাহক হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। এসব ঘটনায় বিমানবন্দরের সংশ্লিষ্ট কর্মীদের সম্পৃক্ততার বিষয়ও তদন্তে এসেছে।

সাম্প্রতিক অভিযানে চোরাচালান সিন্ডিকেটের বড় প্রমাণ মিলছে। গত ৩ অক্টোবর পৃথক তিনটি অভিযানে এয়ারপোর্ট আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন প্রায় ৭৮১ গ্রাম সোনার অলংকারসহ সাতজনকে আটক করে। এর পরদিন বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের দুই কর্মীকে প্রায় ৯ কেজি ওজনের ৮০টি সোনার বারসহ গ্রেপ্তার করা হয়। এর আগেও ২৮ মার্চ দুবাই থেকে আসা একটি বিমানের টয়লেটের প্যানেলের ভেতর থেকে ১৭ কেজি ৯০১ গ্রাম সোনা উদ্ধার করা হয়েছিল। এছাড়া ২ জুলাই উড়োজাহাজের কার্গো হোল্ড থেকে ১৮ কেজি ৭২০ গ্রাম এবং ১৯ জুলাই ফলের চালানের আড়ালে ১৬ কেজি সোনা উদ্ধারের মতো বড় ঘটনা ঘটেছে। সাম্প্রতিক কয়েকটি ঘটনাতেও বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে।

কাস্টমস হাউস জানিয়েছে, এই সিরিজ উদ্ধারের ঘটনার পর বিমানবন্দরে গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে এবং দেশি-বিদেশি এয়ারলাইনসগুলোকে কড়া পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। বিশেষজ্ঞ ও নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, শুধুমাত্র বাহকদের ধরে চোরাচালান সিন্ডিকেট নির্মূল করা সম্ভব নয়। তাদের নেটওয়ার্ক শনাক্ত করতে কার্গো, গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং ও কাস্টমস বিভাগের মধ্যে সমন্বিত নজরদারি প্রয়োজন। সেই সাথে অত্যাধুনিক স্ক্যানিং ব্যবস্থা, ঝুঁকিভিত্তিক তল্লাশি এবং কর্মকর্তাদের নিয়মিত বদলি ও রোটেশন নিশ্চিত করার তাগিদ দিয়েছেন তারা। এয়ারপোর্ট আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন জানিয়েছে, সোনা ও মাদক চোরাচালান বন্ধে কঠোর অভিযান ও গোয়েন্দা তৎপরতা চলমান থাকবে।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
২০২৬ © আজকের বসুন্ধরা কর্তৃক সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
Theme Customization By NewsSun