বুয়েনস অ্যাইরেসের মনুমেন্তাল স্টেডিয়ামে মঙ্গলবার রাতে এক ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী হয়েছে ফুটবল বিশ্ব। একদিকে ছিল লিওনেল মেসির আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের বিদায়ী ম্যাচ, অন্যদিকে আর্জেন্টিনার রক্ষণভাগের অন্যতম স্তম্ভ নিকোলাস ওতামেন্দির বিদায়। ৮৫ হাজার দর্শকের গগনবিদারি করতালির মধ্য দিয়ে জাতীয় দলের নীল-সাদা জার্সি তুলে রাখলেন ২০২২ কাতার বিশ্বকাপজয়ী এই তারকা। বেনিনের বিরুদ্ধে ৩-০ গোলের জয় পাওয়া ম্যাচে মেসি যখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে, ঠিক তখনই নীরবে নিজের ১৭ বছরের দীর্ঘ আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ইতি টানলেন এই বর্ষীয়ান ডিফেন্ডার। ১৮ বছর বয়সে প্রথম আন্তর্জাতিক ফুটবলে পা রাখা লিওনেল মেসির বিদায়। ৮৫ হাজারেরও বেশি দর্শকের উন্মাদনা, আতশবাজির ঝলকানি এবং পুরো বিশ্ব মিডিয়ার স্পটলাইট সবই ছিল মহাতারকা মেসিকে ঘিরে।
ম্যাচের ৪৮তম মিনিটে ওতামেন্দি উপহার দেন এক দারুণ মুহূর্ত। মেসির নেওয়া কর্নার থেকে অসাধারণ অ্যাক্রোবেটিক ভলিতে বেনিনের জালে বল জড়ান তিনি। গোল করেই বন্ধু মেসির দিকে ছুটে গিয়ে জড়িয়ে ধরেন। ক্যারিয়ারের শেষ ম্যাচে গোল করার মতো বিরল স্মৃতি নিয়ে মাঠ ছাড়েন তিনি। ম্যাচের ৫২তম মিনিটে মাঠ থেকে উঠে আসার সময় পুরো গ্যালারি তাকে দাঁড়িয়ে সম্মান জানায়। মাঠ ছাড়ার আগে নিজের জার্সির ব্যাজে চুমু খেয়ে দর্শকদের অভিবাদনের জবাব দেন ওতামেন্দি। ডাগআউটে ফেরার সময় মেসির প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, বিশ্বের সবচেয়ে বিনয়ী মানুষ হওয়ার জন্য তোমাকে ধন্যবাদ। আর্জেন্টিনার পতাকাকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার জন্য আমরা তোমার কাছে ঋণী।
ম্যাচ শেষে আবেগাপ্লুত ওতামেন্দি বলেন, এটি সত্যিই এক অবিশ্বাস্য সমাপ্তি। আমি আগেই আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানিয়েছিলাম, তবে অধিনায়কের বিশেষ আমন্ত্রণে আবার এই ঐতিহাসিক ক্ষণের অংশ হওয়ার সুযোগ পেলাম। জাতীয় দলের হয়ে ১৭ বছরে আমি অনেক কিছু পেয়েছি, শেষ ম্যাচে গোল করার স্মৃতি সারা জীবন মনে রাখব। ২০০৯ সালে জাতীয় দলে অভিষেক হওয়া ওতামেন্দি দীর্ঘ ১৭ বছরে মোট ১৪০টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছেন। রক্ষণভাগে দেয়াল হয়ে থাকার পাশাপাশি তিনি করেছেন ১০টি গোল।
আর্জেন্টিনার আধুনিক ফুটবলের এই সোনালি প্রজন্মের অন্যতম কারিগর ওতামেন্দি দেশের হয়ে জিতেছেন চারটি বড় শিরোপা। তার ট্রফি ক্যাবিনেটে রয়েছে ২০২১ কোপা আমেরিকা, ২০২২ ফিনালিসিমা, ২০২২ কাতার বিশ্বকাপ এবং ২০২৪ কোপা আমেরিকা জয়ের গৌরব। মঙ্গলবার রাতে মেসির বিদায়ের জোয়ারের আড়ালে এক নিঃশব্দ বিদায় নিলেন আর্জেন্টিনার রক্ষণভাগের এই অকুতোভয় যোদ্ধা।