1. admin@ajkerbasundhara.com : admin :
শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৪২ অপরাহ্ন

এল নিনোর প্রভাবে সংকটে পড়া দেশগুলোকে সহায়তা দেবে আইএমএফ

স্টাফ রিপোর্টার
  • প্রকাশ : শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, ২০২৬

প্রাকৃতিক দুর্যোগ এল নিনোর প্রভাবে ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর পাশে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। বুধবার (৭ অক্টোবর) সিঙ্গাপুরে বার্তা সংস্থা এএফপিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আইএমএফের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ক্রিস্টালিনা জর্জিয়েভা জানিয়েছেন, এল নিনোর বৈশ্বিক প্রভাব ও এর ফলে সম্ভাব্য খাদ্য নিরাপত্তার সংকট নিয়ে তারা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। খাদ্যপণ্যের দাম বাড়ার কারণে বিশ্বজুড়ে মূল্যস্ফীতির যে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, তা মোকাবিলায় সংস্থাটি সতর্ক রয়েছে।

ক্রিস্টালিনা জর্জিয়েভা জানান, এল নিনোর প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোকে সহায়তা প্রদানের জন্য আইএমএফ প্রস্তুতি গ্রহণ করছে। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, বাইরের বড় ধরনের প্রতিকূলতার মুখে দুর্বল অর্থনীতিগুলোকে সুরক্ষা দেওয়া সংস্থাটির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় দেশগুলোকে তাদের সীমিত আর্থিক ও রাজস্ব সক্ষমতার ব্যবহারে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। এছাড়া, পরিস্থিতিভেদে অনেক দেশকে বাইরের আর্থিক সহায়তার ওপর নির্ভর করতে হতে পারে বলেও তিনি সতর্ক করেন।

বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিকে অত্যন্ত জটিল হিসেবে বর্ণনা করে আইএমএফ প্রধান বলেন, একদিকে এল নিনোর ফলে কৃষি ও ফসল উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি সংকটকে ঘনীভূত করেছে। এল নিনো ও যুদ্ধের এই ‘দ্বৈত বাহ্যিক ধাক্কা’ অনেক দেশের অর্থনীতির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। মধ্য আমেরিকার খরা এবং এশিয়ার দেশগুলোতে বর্ষা মৌসুমের অনিয়মিত আচরণ এরই মধ্যে উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

জর্জিয়েভা আরও উল্লেখ করেন, কিছু রাষ্ট্র হয়তো এই চরম পরিস্থিতির ধাক্কা সামলে নিতে সক্ষম হবে, তবে প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপরাষ্ট্র, বাংলাদেশের মতো ঝুঁকিপূর্ণ দেশ এবং লাওসের মতো স্বল্পোন্নত দেশগুলোর জন্য বর্তমান সংকট পরিস্থিতি সামাল দেওয়া অত্যন্ত কঠিন হতে পারে। এ ধরনের জটিল পরিস্থিতি সম্মিলিতভাবে মোকাবিলায় বিশ্বনেতাদের প্রতি সমন্বিত ও জোরালো পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন আইএমএফের ব্যবস্থাপনা পরিচালক।

উল্লেখ্য যে, এল নিনো একটি প্রাকৃতিক জলবায়ু চক্র, যা সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে প্রতি দুই থেকে সাত বছর অন্তর ঘটে। আধুনিক সময়ে এবারের এল নিনো সবচেয়ে তীব্র পরিস্থিতির একটি হতে পারে বলে আবহাওয়াবিদরা আশঙ্কা করছেন, যা বিশ্বব্যাপী বায়ুপ্রবাহ ও বৃষ্টিপাতের ধরনে বড় ধরনের বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
২০২৬ © আজকের বসুন্ধরা কর্তৃক সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
Theme Customization By NewsSun