1. admin@ajkerbasundhara.com : admin :
রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০৪ পূর্বাহ্ন

শাহজালাল বিমানবন্দর ঘিরে সক্রিয় সংঘবদ্ধ ডাকাত চক্র

স্টাফ রিপোর্টার
  • প্রকাশ : শনিবার, ১০ অক্টোবর, ২০২৬

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও এর আশেপাশের এলাকায় সক্রিয় হয়ে উঠেছে এক সংঘবদ্ধ ডাকাত চক্র। তারা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য পরিচয় দিয়ে প্রবাসফেরত যাত্রী ও ব্যবসায়ীদের টার্গেট করে লুটপাট চালাচ্ছে। গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের তথ্যমতে, নেপথ্যে থাকা প্রভাবশালীরা পেশাদার অপরাধীদের ভাড়ায় খাটিয়ে এসব ডাকাতির ঘটনা ঘটাচ্ছে। অপরাধীরা গ্রেপ্তার হলেও নেপথ্যের মূল হোতারা প্রায়ই ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে। তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, ভাড়াটে ডাকাতদের ব্যবহার করে অপরাধ সংঘটিত করছে নেপথ্যে থাকা চক্রগুলো। তাদের গ্রেপ্তার করতে পুলিশকে অনেক চেষ্টা করতে হয়।

তদন্তসংশ্লিষ্টরা জানান, চক্রের সদস্যরা পুলিশ পরিচয়ে ভুক্তভোগীদের গাড়িতে তুলে নেয়। এরপর হ্যান্ডকাফ পরিয়ে অথবা হাত-পা ও চোখ বেঁধে নির্জন এলাকায় নামিয়ে দিয়ে সর্বস্ব লুট করে পালিয়ে যায়। গত ৬ জুলাই চাঁদপুরের দক্ষিণ বালিয়া এলাকার বাসিন্দা মো. খোরশেদ এমন অভিজ্ঞতার শিকার হন। দুবাইপ্রবাসী ভাইয়ের পাঠানো ১৭ ভরি স্বর্ণালংকার ও অন্যান্য মালামাল নিয়ে বাড়ি ফেরার পথে শাহবাগে ডিবি পুলিশ পরিচয় দিয়ে তাকে কালো গাড়িতে তোলা হয়। পরে গাজীপুরের রাজেন্দ্রপুর এলাকায় তাকে ফেলে দিয়ে প্রায় ৩৮ লাখ টাকার মালামাল নিয়ে ডাকাতরা সটকে পড়ে।

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের উত্তরা বিভাগের উপকমিশনার মো. ইলিয়াস কবির জানান, বিমানবন্দর ও উত্তরা এলাকা থেকে ডাকাতির পরপরই অপরাধীরা দ্রুত ঢাকার বাইরে চলে যায়, যা তাদের গ্রেপ্তারে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। গোয়েন্দা সূত্র বলছে, গ্রেপ্তারকৃতদের অনেকের বিরুদ্ধেই একাধিক মামলা রয়েছে। জামিনে মুক্ত হওয়ার পর তারা আবারও একই অপরাধে জড়াচ্ছে। এমনও অভিযোগ রয়েছে যে, জামিন নিশ্চিত করতে অপরাধীদের সঙ্গে নির্দিষ্ট কিছু আইনজীবীর চুক্তি থাকে; তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট আইনজীবীদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। গ্রেপ্তারের পর জামিনে মুক্ত হয়ে আবার অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে তাদের অনেকে।

গোয়েন্দা পুলিশ জানায়, সম্প্রতি কয়েকটি চাঞ্চল্যকর ডাকাতির মামলার তদন্ত করতে গিয়ে এই চক্রগুলোর কৌশলী তৎপরতার প্রমাণ পাওয়া গেছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত এমনকি বিদেশ থেকে এসেও অপরাধীরা এসব ঘটনায় অংশ নেয়। অপরাধ সংঘটনের পর চুক্তি অনুযায়ী টাকা বুঝে নিয়ে তারা আত্মগোপনে চলে যায়। তবে পুলিশের তৎপরতায় বর্তমানে ডাকাতির ঘটনা আগের তুলনায় অনেকাংশে কমেছে বলে জানিয়েছেন গোয়েন্দা কর্মকর্তারা। প্রবাসফেরত যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিমানবন্দরকেন্দ্রিক সড়কগুলোতে নজরদারি বৃদ্ধি এবং নেপথ্যের হোতাদের চিহ্নিত করা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জন্য এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
২০২৬ © আজকের বসুন্ধরা কর্তৃক সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
Theme Customization By NewsSun