ভারতের জনপ্রিয় ইউটিউবার ধ্রুব রাঠি অভিযোগ করে বলেছেন, গত ১০ অক্টোবর তাকে কোনো আইনি প্রক্রিয়ায় গ্রেপ্তার বা আটক করা হয়নি, বরং তার নিজ বাড়ি থেকে রীতিমতো ‘অপহরণ’ করা হয়েছিল। দিল্লিতে আটকের পর মুক্তি পেয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় তিনি এই গুরুতর অভিযোগ উত্থাপন করেন।
ধ্রুব রাঠির ভাষ্য অনুযায়ী, ১০ অক্টোবর সকাল ৭টার দিকে তিনি যখন নিজের শোবার ঘরে ঘুমিয়ে ছিলেন, তখন সাধারণ পোশাকে প্রায় ২০ জন ব্যক্তি তার বাড়িতে জোরপূর্বক প্রবেশ করেন। তারা তাকে টেনেহিঁচড়ে বাড়ির বাইরে নিয়ে আসেন। রাঠি দাবি করেন, ওই সময় তার বাড়ির বাইরে আরও ৫০ জনের বেশি লোক অবস্থান করছিলেন। তাকে নিয়ে যাওয়ার সময় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা নিজেদের পরিচয় দেননি, গ্রেপ্তারের সুনির্দিষ্ট কারণ বা কোনো আইনি ধারার কথাও জানাননি। এমনকি তাকে স্যান্ডেল পরারও সুযোগ দেওয়া হয়নি। এরপর তাকে গাড়িতে তুলে নেওয়া হয় এবং একাধিক থানায় ঘোরানো হয়। এই পুরো প্রক্রিয়ায় তার এবং তার বাবা-মায়ের মুঠোফোন কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। প্রায় ২২ থেকে ২৩ ঘণ্টা তাকে আটকে রাখা হলেও আইনজীবীর সঙ্গে যোগাযোগের কোনো সুযোগ দেওয়া হয়নি বলে তিনি জানান।
ভিডিওতে নিজের ভারতীয় পাসপোর্ট দেখিয়ে ধ্রুব রাঠি বলেন, তিনি ভারতের নাগরিক এবং ভবিষ্যতেও থাকবেন। তাকে আটক করার পেছনে বিদেশি পাসপোর্টের যে বিষয়টি কিছু সংবাদমাধ্যমে প্রচার করা হচ্ছে, তা পুরোপুরি মিথ্যা বলে তিনি উড়িয়ে দিয়েছেন। রাঠির দাবি, তিনি কোনো আইন ভঙ্গ করেননি। মূলত দেশের স্বার্থে সত্য কথা বলা এবং একটি স্বাধীন ও উন্নত নির্বাচন কমিশনের দাবি তোলার কারণেই তাকে হয়রানি করা হয়েছে। তিনি নিজের এই আটকের ঘটনাকে গণতান্ত্রিক অধিকারের চরম লঙ্ঘন হিসেবে বর্ণনা করে নরেন্দ্র মোদি সরকারের তীব্র সমালোচনা করেন। রাঠির মতে, ভারতে বর্তমানে কার্যত এক ধরনের ‘অঘোষিত জরুরি অবস্থা’ চলছে।
উল্লেখ্য, দিল্লিতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে সিজেপির বিক্ষোভ ঘিরে ওইদিন ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থা ও আটক অভিযান পরিচালনা করা হয়। ভোটার তালিকা থেকে প্রায় ১৩ কোটি নাম বাদ পড়া নিয়ে বিরোধীদের ব্যাপক অভিযোগের প্রেক্ষাপটে এই বিক্ষোভ শুরু হয়। তবে নির্বাচন কমিশন ও ক্ষমতাসীন বিজেপি এই অনিয়মের অভিযোগ শুরু থেকেই অস্বীকার করে আসছে।