শেরপুরের নালিতাবাড়ীতে অবস্থিত নাকুগাঁও স্থলবন্দরটি ২০১০ সালে ঘোষণার পর ২০১৫ সালের জুন মাসে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করে। ১৩ একর জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত এই বন্দরটি ভারতের মেঘালয়ের বারাঙ্গাপাড়ায় অবস্থিত ডালু কাস্টমস স্টেশনের সঙ্গে যুক্ত। দীর্ঘ সময় পার হলেও বন্দরটি এখনো তার পূর্ণাঙ্গ বাণিজ্যিক সক্ষমতা অর্জন করতে পারেনি। বর্তমানে এখান দিয়ে শুধুমাত্র পাথর আমদানিই হচ্ছে, যা বন্দরটির বাণিজ্যিক বৈচিত্র্যহীনতাকে স্পষ্ট করে তুলছে। বরিশালে নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও ইলিশ আহরণ, প্রকাশ্যে বিক্রি।
বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের অধীনে পরিচালিত এই বন্দরে পাথর, বোল্ডার, কয়লা, চুনাপাথর, চায়না ক্লে, কাঠ, সার, পেঁয়াজ, মরিচ, আদা, রসুন, ফল, গম ও ফ্লাই অ্যাশসহ বিভিন্ন পণ্য আমদানির অনুমোদন রয়েছে। কিছু ব্যতিক্রম ছাড়া ভুটানের পণ্য এবং বাংলাদেশ থেকে সব ধরনের রপ্তানিযোগ্য পণ্য পাঠানোর সুযোগও রয়েছে এখানে। তবে বাস্তব চিত্র ভিন্ন। বন্দরটির আমদানি-রপ্তানিকারক সমিতির ২৫০ জন সদস্য থাকলেও বর্তমানে হাতেগোনা ৩৫ জন ব্যবসায়ী পাথরের ব্যবসায় যুক্ত আছেন। দুর্গাপূজায় টানা ৫ দিন বন্ধ থাকবে ব্যাংক। এবার এয়ারলাইনসগুলোকে সৌদি আকাশসীমা এড়িয়ে চলার হুঁশিয়ারি হুতিদের। বেনাপোল বন্দরে দুর্ঘটনায় শ্রমিকের মৃত্যু, আরেকজন গুরুতর আহত।
আমদানি পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ভারত থেকে পাথর আমদানির পরিমাণ ২০১৯-২০ অর্থবছরে ছিল ৮৫ হাজার ৩৫ মেট্রিক টন। ২০২১-২২ অর্থবছরে তা বেড়ে ২ লাখ ৭৬ হাজার ৪৮৩ মেট্রিক টনে এবং ২০২৩-২৪ অর্থবছরে সর্বোচ্চ ৩ লাখ ৯১ হাজার ১৩৭ মেট্রিক টনে উন্নীত হয়। তবে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে আমদানির পরিমাণ কমে ১ লাখ ৯৫ হাজার ৬৫৫ মেট্রিক টনে নেমে এসেছে। এই অতিরিক্ত পাথর-নির্ভরতা বন্দরটির জন্য বড় ধরনের দুর্বলতা হিসেবে চিহ্নিত করছেন সংশ্লিষ্টরা। ব্যয় কমাতে অকার্যকর ৩ স্থলবন্দর সম্পূর্ণ বন্ধ, একটির কার্যক্রম স্থগিত করল সরকার।
ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, ভারতের সীমান্ত এলাকায় চাঁদাবাজির কারণে পাথরের খরচ বেড়ে যাচ্ছে, ফলে অনেক প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী বিনিয়োগে অনাগ্রহী হয়ে পড়েছেন। সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. মিজানুর রহমান জানান, এ বিষয়ে শেরপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য প্রকৌশলী ফাহিম হোসেন চৌধুরী ভারতের হাইকমিশনারের সঙ্গে মাল্টিপল পারপাস ভিসার ব্যাপারে আলোচনা করেছেন। ব্যবসায়ীদের জন্য এ ধরনের ভিসার ব্যবস্থা করা গেলে দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগ বাড়বে এবং পাথরের বাইরে অন্যান্য পণ্যের ব্যবসাও সম্প্রসারিত হবে।
স্থলবন্দরে ৪০০ মেট্রিক টন ধারণক্ষমতার গুদাম, ট্রান্সশিপমেন্ট ইয়ার্ড, পার্কিং ইয়ার্ড, ওয়েব্রিজ স্কেল, ডরমিটরি ও ব্যারাকসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামো রয়েছে। এরপরও পূর্ণাঙ্গ সচলতার অভাবে কাঙ্ক্ষিত বাণিজ্য হচ্ছে না। শেরপুর চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি মো. আরিফ হোসেনের মতে, দ্রুত শুল্কায়ন, পণ্য খালাসের আধুনিকায়ন ও উন্নত সড়ক যোগাযোগ নিশ্চিত করতে পারলে বন্দরটির সম্ভাবনা পুরোপুরি কাজে লাগানো সম্ভব। তিনি বলেন, বন্দরটিকে পূর্ণাঙ্গভাবে সচল করতে হলে বাণিজ্যবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।
আর্থিক দিক বিবেচনায়, বন্দরটিতে সাম্প্রতিক সময়ে রাজস্ব আয় বেড়েছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বন্দর থেকে প্রায় ৮ কোটি ৯০ লাখ টাকা এবং ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ১০ কোটি টাকার বেশি রাজস্ব অর্জিত হয়েছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে আয় হয়েছে ৩৭ লাখ টাকার বেশি। ময়মনসিংহ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সহসভাপতি শঙ্কর সাহা মনে করেন, ইমিগ্রেশন সেবা পূর্ণাঙ্গভাবে কার্যকর ও বাণিজ্যের প্রসার ঘটলে সরকারের রাজস্ব আয়ের পাশাপাশি শত শত মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।
নাকুগাঁও বন্দরটি ইমিগ্রেশন সুবিধা সংবলিত হওয়ায় এর মাধ্যমে যাত্রীরাও যাতায়াত করতে পারেন। পর্যটন ও ব্যবসায়িক ভ্রমণের সুযোগ বাড়াতে পারলে বাংলাদেশ ও ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের অর্থনীতির সঙ্গে এই বন্দরের সংযোগ আরও দৃঢ় হবে। মেঘালয়ের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ থাকায় এই অঞ্চলটি প্রতিবেশী রাজ্যগুলোর সঙ্গে বাণিজ্য সম্প্রসারণের জন্য একটি কৌশলগত পয়েন্ট হিসেবে কাজ করতে পারে। ৪ ঘণ্টা পর আখাউড়া দিয়ে যাত্রী পারাপার স্বাভাবিক।