নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ এবং অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে কেন্দ্র করে চলমান ধারাবাহিক হয়রানি, অনলাইনে অপপ্রচার এবং পরিকল্পিত আক্রমণের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ১২ জন সাবেক উপদেষ্টা। তাঁদের মতে, এসব কর্মকাণ্ড মূলত কাপুরুষোচিত কৌশল, যার মাধ্যমে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মূল লক্ষ্য ও অঙ্গীকার বাস্তবায়নের সংকল্পকে কোনোভাবেই দুর্বল করা সম্ভব নয়।
বিবৃতিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, যখন দেশ চরম বিপর্যয় ও অনিশ্চয়তার মুখে ছিল, তখন অধ্যাপক ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার দুর্নীতি, অর্থনৈতিক লুটপাট, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানের ধস এবং দীর্ঘদিনের পদ্ধতিগত স্বৈরাচার ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের মতো গভীর সংকট থেকে রাষ্ট্রকে পুনর্গঠনের গুরুদায়িত্ব গ্রহণ করেছিল। ফ্যাসিবাদী শাসনামলে চলমান বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ও গুমের মতো ভয়াবহ প্রথাগুলো বন্ধ করাই ছিল তৎকালীন সরকারের অন্যতম সাফল্য।
২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচিত সরকারের নিকট ক্ষমতা হস্তান্তরের মাধ্যমে অন্তর্বর্তী সরকার তাদের দায়িত্ব শেষ করে। প্রত্যাশা ছিল, এর মধ্য দিয়ে দেশে মানবাধিকার রক্ষা, ন্যায়বিচার নিশ্চিতকরণ ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর পুনর্গঠন প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখজনক যে, কিছু স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী ও রাজনৈতিক দুর্বৃত্ত ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ ছড়ানো ও মিথ্যা তথ্যের প্রচারণা চালাচ্ছে এবং তাঁকে শারীরিকভাবে হুমকি দিচ্ছে।
সাবেক উপদেষ্টাদের মতে, অন্তর্বর্তী সরকারের গ্রহণযোগ্যতা ক্ষুণ্ন করা এবং দেশে নতুন করে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির উদ্দেশ্যেই এসব হীন প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে। এই কর্মকাণ্ডকে কাপুরুষোচিত আখ্যা দিয়ে তাঁরা বলেছেন, ভীতি প্রদর্শন বা ব্যক্তিগত হুমকির মাধ্যমে জুলাইয়ের পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি বা তরুণদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত সংস্কারের আকাঙ্ক্ষাকে মুছে ফেলা যাবে না।
বিবৃতিটিতে স্বাক্ষরকারীদের মধ্যে রয়েছেন অর্থনীতিবিদ ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ ও ড. এম ফজলুল কবির খান, শিক্ষাবিদ সি আর আবরার, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল, জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আদিলুর রহমান খান, অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ড. সাখাওয়াত হোসেন এবং ফারুক ই আজম বীর প্রতীক। এছাড়াও স্বাক্ষর করেছেন ইউবিনিগের নির্বাহী পরিচালক ফরিদা আখতার, ব্রতীর প্রতিষ্ঠাতা শারমীন সোনিয়া মুরশিদ, চলচ্চিত্র পরিচালক মোস্তফা সরওয়ার ফারুকী ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান।