ঢাকাই চলচ্চিত্রে সমসাময়িক সময়ে অভিনয় জীবন শুরু করেছিলেন নাসিমা খান ও তার এক সহকর্মী। দুজনেরই বাড়ি পুরান ঢাকায় হওয়ায় তাদের মধ্যে দারুণ সখ্যতা গড়ে উঠেছিল। বেবী ইসলাম পরিচালিত ‘তানহা’ সিনেমাটিতে দুজনেই কাজ করেছিলেন, যদিও পর্দায় তাদের একসঙ্গে দেখা যাওয়ার সুযোগ হয়নি। তবে শুটিংয়ের সুবাদে নিয়মিত দেখা ও আড্ডা হতো। তাদের সম্পর্কটা ছিল অত্যন্ত বন্ধুত্বপূর্ণ, কখনো কখনো তুই-তোকারি করেও কথা হতো। নিয়মিত একে অপরের বাড়িতে যাতায়াত ছিল তাদের, যা তাদের গভীর সম্পর্কের জানান দেয়।
নাসিমা খানের প্রতিভা নিয়ে সহকর্মীর মতে, তিনি যে মানের শিল্পী ছিলেন, তার ক্যারিয়ার আরও উচ্চতায় যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ঠিক কেন তিনি সেভাবে নিজের অবস্থান তৈরি করতে পারেননি, তা কিছুটা অস্পষ্ট রয়ে গেছে। একজন শিল্পীর সাফল্যের পেছনে সঠিক দিকনির্দেশনা বা গাইডের প্রয়োজন হয়, যেখানে নাসিমা সম্ভবত কিছুটা পিছিয়ে ছিলেন।
আশির দশকের শেষ দিকে বিদেশে থেকে দেশে ফিরে আবারও নাসিমা খানের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু হয়। কয়েক মাস আগে তিনি আমেরিকা থেকে দেশে ফেরার পরও তাদের মধ্যে আলাপ হয়েছে। আলোচনার বড় একটা অংশজুড়ে ছিল নাসিমার ছোট ছেলেকে হারিয়ে ফেলার ঘটনা। সন্তান হারানোর শোক যে তাকে মানসিকভাবে প্রতিনিয়ত তাড়িয়ে বেড়াত, সেটি বুঝতে পারতেন তার সহকর্মী। তবে নিজের জীবনের অন্য কোনো দুঃখ বা আক্ষেপ নিয়ে তাকে সেভাবে কথা বলতে দেখা যায়নি। একমাত্র সন্তান হারানোর সেই গভীর যন্ত্রণাই ছিল তার জীবনের সবচেয়ে বড় কষ্টের কারণ।